
ময়মনসিংহ নগরীর নওমহল এলাকায় একটি বসতবাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে হামলা, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চাচাতো ভাই সুমন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল লোক জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রশান্ত বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর ১২৪/এ, আর কে মিশন রোড, নওমহল বড় মসজিদের পেছনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে দরজা-জানালা কুপিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় আলমারির তালা ভেঙে সমিতি থেকে তোলা ৭৫ হাজার টাকা এবং তাঁর মায়ের ব্যবহৃত প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকা বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন প্রশান্ত বিশ্বাস। এ ঘটনায় তিনি ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিখিত অভিযোগে প্রশান্ত বিশ্বাস উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জানালা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে তাঁর সঙ্গে চাচাতো ভাই সুমন বিশ্বাসের বিরোধ চলছিল। ঘটনার আগে বাড়ির সামনে রাস্তা মেরামতের জন্য ইট-বালু রাখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে সুমন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁর বাড়িতে আসে। প্রথমে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। পরে রামদা দিয়ে দরজা-জানালা কুপিয়ে ঘরে প্রবেশ করে হামলাকারীরা।
প্রশান্ত বিশ্বাসের অভিযোগ, ঘরে প্রবেশের পর হামলাকারীরা আলমারির তালা ভেঙে সেখানে রাখা নগদ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ ছাড়া তাঁর মায়ের ব্যবহৃত প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকারও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা পাশাপাশি বসবাস করেন এবং তাঁরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। বাড়ির জানালা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার আগে রাস্তা মেরামতের জন্য বাড়ির সামনে ইট-বালু রাখাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। প্রশান্ত বিশ্বাসের দাবি, ওই বিরোধের জের ধরেই তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন প্রশান্ত বিশ্বাস। পরে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।এ ঘটনায় বাড়ির নিরাপত্তা, পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।এদিকে নওমহল এলাকায় বসতবাড়িতে হামলা ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়কারী ইমতিয়াজ আহমেদ।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণ। বাসাবাড়িতে অবস্থানকালেও মানুষের জীবন ও সম্পদ নিরাপদ নয়—এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।
তিনি দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শফিয়েল আলম সুমন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 


















