
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম তাঁর জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করা হয়।
পরে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামের আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। দুই দফায় মোট আট দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
মাকছুদা ইসলাম এক দিনের রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে যান। মামলার অপর আসামি মো. ওবায়দুর রহমানকে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়।
যে অভিযোগে মামলা
মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় মামলা করেন তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তাঁর বাবা।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব বিষয়ে মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন।
মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।
অধিকার ডেস্কঃ 























