ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

বিকল্প যান না থাকায় ফেঞ্চুগঞ্জে বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:৪৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৫০ Time View

ফেঞ্চুগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে নিবন্ধনহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল বেড়েছে।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল। এসব যান স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সহজ ও তুলনামূলক কম খরচের মাধ্যম হলেও নিবন্ধন, চালকের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে সড়কে তৈরি হচ্ছে নানা সমস্যা। বিকল্প গণপরিবহন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় ভোগান্তির মধ্যেও এসব অটোরিকশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, উপজেলা পর্যায়ে কম খরচে সহজে যাতায়াতের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিকল্প খুব একটা নেই। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এসব যান ব্যবহার করা হয়। ফলে বৈধ যানবাহনের পাশাপাশি নিবন্ধনহীন অনেক অটোরিকশাও সড়কে চলাচল করছে।

উপজেলার বিভিন্ন সড়কে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব যান চলাচলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। উপজেলা প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কাছে অটোরিকশার মোট সংখ্যার নির্দিষ্ট হিসাব না থাকলেও স্থানীয়দের ধারণা, ফেঞ্চুগঞ্জে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে।

কম ভাড়া এবং সহজলভ্যতার কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এসব যান জনপ্রিয়। তবে চালকদের বেপরোয়া গতি, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অটোরিকশার চাপের কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যানজটে পড়ছেন। জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনও অনেক সময় ধীরগতির এই যানজটের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অটোরিকশার নিবন্ধন ও নবায়নের বিষয়েও রয়েছে অনিয়ম। ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ফুর রহমান শাহীন জানান, প্রায় ছয় বছর আগে তাঁর ইউনিয়ন থেকে ১৪৫টি ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেগুলোর আর নবায়ন করা হয়নি।

মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবেদ আহমদ চৌধুরী শিপু জানান, তাঁর ইউনিয়নে ১২০টি রিকশা নিবন্ধিত রয়েছে। তবে সেগুলোরও পুনর্নিবন্ধন করা হয়নি।

ফলে বর্তমানে উপজেলায় চলাচলকারী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অটোরিকশার বৈধতা ও নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া এসব যানবাহনে ব্যবহৃত ব্যাটারি চার্জের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফেঞ্চুগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা আক্তার বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে অটোরিকশা চলাচলের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে নিবন্ধন, চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড এবং চলাচলের নিয়ম কার্যকর করা হলে একদিকে মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বজায় থাকবে, অন্যদিকে সড়কের বিশৃঙ্খলাও কমানো সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

বিকল্প যান না থাকায় ফেঞ্চুগঞ্জে বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট

প্রকাশের সময়ঃ ১০:৪৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল। এসব যান স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সহজ ও তুলনামূলক কম খরচের মাধ্যম হলেও নিবন্ধন, চালকের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে সড়কে তৈরি হচ্ছে নানা সমস্যা। বিকল্প গণপরিবহন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় ভোগান্তির মধ্যেও এসব অটোরিকশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, উপজেলা পর্যায়ে কম খরচে সহজে যাতায়াতের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিকল্প খুব একটা নেই। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এসব যান ব্যবহার করা হয়। ফলে বৈধ যানবাহনের পাশাপাশি নিবন্ধনহীন অনেক অটোরিকশাও সড়কে চলাচল করছে।

উপজেলার বিভিন্ন সড়কে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব যান চলাচলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। উপজেলা প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কাছে অটোরিকশার মোট সংখ্যার নির্দিষ্ট হিসাব না থাকলেও স্থানীয়দের ধারণা, ফেঞ্চুগঞ্জে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে।

কম ভাড়া এবং সহজলভ্যতার কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এসব যান জনপ্রিয়। তবে চালকদের বেপরোয়া গতি, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অটোরিকশার চাপের কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যানজটে পড়ছেন। জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনও অনেক সময় ধীরগতির এই যানজটের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অটোরিকশার নিবন্ধন ও নবায়নের বিষয়েও রয়েছে অনিয়ম। ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ফুর রহমান শাহীন জানান, প্রায় ছয় বছর আগে তাঁর ইউনিয়ন থেকে ১৪৫টি ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেগুলোর আর নবায়ন করা হয়নি।

মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবেদ আহমদ চৌধুরী শিপু জানান, তাঁর ইউনিয়নে ১২০টি রিকশা নিবন্ধিত রয়েছে। তবে সেগুলোরও পুনর্নিবন্ধন করা হয়নি।

ফলে বর্তমানে উপজেলায় চলাচলকারী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অটোরিকশার বৈধতা ও নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া এসব যানবাহনে ব্যবহৃত ব্যাটারি চার্জের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফেঞ্চুগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা আক্তার বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে অটোরিকশা চলাচলের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে নিবন্ধন, চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড এবং চলাচলের নিয়ম কার্যকর করা হলে একদিকে মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বজায় থাকবে, অন্যদিকে সড়কের বিশৃঙ্খলাও কমানো সম্ভব হবে।