ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

সাত মাসেও মেলেনি ছেলে হত্যার বিচার, সংবাদ সম্মেলনে মায়ের কান্না

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সোহাগ মিঝি হত্যার বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর স্বজনেরা।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক সোহাগ মিঝি (২৮) হত্যার প্রায় সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্বজনেরা। এ সময় ছেলের বিচারের দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা।

নিহত সোহাগ মিঝি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের লালগাজী মিঝি বাড়ির বাসিন্দা তাজুল ইসলাম মিঝির ছেলে। মৃত্যুর প্রায় আট-নয় মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন তিনি। ওই সময় তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

যেভাবে নিখোঁজ হন সোহাগ

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহাগ। দিনভর ভোটার আনা-নেওয়ার কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে মুঠোফোনে মাকে রাতে খাবার প্রস্তুত রাখতে বলেন। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে পরে রায়পুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁরা।

বালুর নিচ থেকে উদ্ধার মরদেহ

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের দুই দিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলার পাটোয়ারী রাস্তার মাথায় রেয়ার মডেল দাখিল মাদ্রাসার সামনে একটি জমিতে সেচ দিতে গিয়ে এক কৃষক বালুর নিচে মানুষের পায়ের তিনটি আঙুল দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা মরদেহটি সোহাগ মিঝির বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে পারিবারিকভাবে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সাতজনের জামিন, হুমকির অভিযোগ পরিবারের

নিহতের মা শাহিনুর বেগম ও বাবা তাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সোহাগকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তাঁর মরদেহ বালুর নিচে চাপা দেওয়া হয়েছিল।

পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় স্থানীয় মুরাদ, আরাফাত, শাহিন ও রাব্বিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। জামিনে বের হওয়ার পর তাঁদের লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছেলের বিচারের দাবিতে মায়ের আহাজারি

সংবাদ সম্মেলনে নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, মুরাদ, আরাফাত, শাহিন ও রাব্বির বিচার চাই। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমার ছেলের একটি পুত্রসন্তান আছে। এই নবজাতকের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও হত্যাকারীদের বিচার চাই।”

নিহতের স্বজনেরা বলেন, ঘটনার প্রায় সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁরা এখনো ন্যায়বিচার পাননি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু তারেক বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারকে কারা হুমকি দিচ্ছে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের।”

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

সাত মাসেও মেলেনি ছেলে হত্যার বিচার, সংবাদ সম্মেলনে মায়ের কান্না

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৩৬:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক সোহাগ মিঝি (২৮) হত্যার প্রায় সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্বজনেরা। এ সময় ছেলের বিচারের দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা।

নিহত সোহাগ মিঝি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের লালগাজী মিঝি বাড়ির বাসিন্দা তাজুল ইসলাম মিঝির ছেলে। মৃত্যুর প্রায় আট-নয় মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন তিনি। ওই সময় তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

যেভাবে নিখোঁজ হন সোহাগ

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহাগ। দিনভর ভোটার আনা-নেওয়ার কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে মুঠোফোনে মাকে রাতে খাবার প্রস্তুত রাখতে বলেন। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে পরে রায়পুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁরা।

বালুর নিচ থেকে উদ্ধার মরদেহ

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের দুই দিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলার পাটোয়ারী রাস্তার মাথায় রেয়ার মডেল দাখিল মাদ্রাসার সামনে একটি জমিতে সেচ দিতে গিয়ে এক কৃষক বালুর নিচে মানুষের পায়ের তিনটি আঙুল দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা মরদেহটি সোহাগ মিঝির বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে পারিবারিকভাবে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সাতজনের জামিন, হুমকির অভিযোগ পরিবারের

নিহতের মা শাহিনুর বেগম ও বাবা তাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সোহাগকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তাঁর মরদেহ বালুর নিচে চাপা দেওয়া হয়েছিল।

পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় স্থানীয় মুরাদ, আরাফাত, শাহিন ও রাব্বিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। জামিনে বের হওয়ার পর তাঁদের লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছেলের বিচারের দাবিতে মায়ের আহাজারি

সংবাদ সম্মেলনে নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, মুরাদ, আরাফাত, শাহিন ও রাব্বির বিচার চাই। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমার ছেলের একটি পুত্রসন্তান আছে। এই নবজাতকের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও হত্যাকারীদের বিচার চাই।”

নিহতের স্বজনেরা বলেন, ঘটনার প্রায় সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁরা এখনো ন্যায়বিচার পাননি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু তারেক বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারকে কারা হুমকি দিচ্ছে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের।”