
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনকে যৌন হয়রানি ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট অডিও ক্লিপগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা শেষ না হওয়া সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একই সঙ্গে তাঁকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক সাবেক শিক্ষার্থী নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের কাছে ই-মেইলে অভিযোগ পাঠান। অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, যৌন হয়রানি এবং নম্বর টেম্পারিং করে ফল খারাপ করার কথা উল্লেখ করা হয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষক ও এক ছাত্রীর কথোপকথন বলে দাবি করা তিনটি কণ্ঠসদৃশ অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ছিলেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এবং গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম।
কমিটি অডিওগুলো পর্যালোচনা করে। পর্যালোচনায় অডিওতে অন্য একজন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার আভাস পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে অডিওগুলোর সত্যতা যাচাই ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আলাদা তদন্তের সুপারিশ করা হয়। পরে প্রশাসন ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্দেশ্যে আরেকটি কমিটি গঠন করে। ২০২৫ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনেও ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি।
ফরেনসিক পরীক্ষা না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন পেতে হলে আগে মামলা থাকতে হয়, অথচ এই শিক্ষকের নামে কোনো মামলা নেই। বিষয়টি সিন্ডিকেটকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী করণীয় সিন্ডিকেটই ঠিক করবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে মামলা ছাড়া ফরেনসিক পরীক্ষা করানোর সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্যমতে, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগ নেই; শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন লেখালেখি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা না হলেও ড. তানজিউল ইসলাম জীবনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
মামলা ছাড়া ফরেনসিক পরীক্ষা না করার যুক্তির বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ড. তানজিউল ইসলাম জীবন আগেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিলেন।
বেরোবি প্রতিনিধিঃ 























