
শান্তি সবাই চায়। কেউ সেই শান্তি খোঁজে অর্থ-সম্পদে, কেউ খ্যাতিতে, কেউ আবার সম্পর্কের উষ্ণতায়। কিন্তু প্রকৃত মুমিনের হৃদয় প্রশান্তি পায় মসজিদের পবিত্র পরিবেশে। এখানে দুনিয়ার কোলাহল থেমে যায়, বান্দা নিজেকে সঁপে দেয় তার রবের কাছে। মসজিদ ঈমানের কেন্দ্র, আত্মশুদ্ধির পাঠশালা এবং আল্লাহর রহমতের অবিরাম উৎস। যারা এই ঘরকে ভালোবাসে, তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা। দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সম্মান ও পুরস্কার।
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান মসজিদ
রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান মসজিদ, আর সবচেয়ে অপছন্দনীয় স্থান বাজার। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৪১৪)
তাই নেককার বান্দাদের মন সব সময় মসজিদের দিকে টানে। মুয়াজ্জিনের আজান শোনার অপেক্ষায় তারা উদগ্রীব থাকে। আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করলেই তাদের মন প্রফুল্ল হয়, ইবাদতে একনিষ্ঠতা বাড়ে।
কিয়ামতের দিন আরশের ছায়া
কিয়ামতের কঠিন দিনেও আল্লাহ এই বান্দাদের বিশেষ মর্যাদা দেবেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যেদিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহ সাত ব্যক্তিকে তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। তাঁদের একজন সেই ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৬০)
মসজিদ নির্মাণের পুরস্কার
যারা মসজিদ নির্মাণে অংশ নেয়, আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতে সুউচ্চ প্রাসাদের ঘোষণা দিয়েছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর তৈরি করেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৭৩৬)
প্রতিবার মসজিদে যাওয়ায় জান্নাতে মেহমানদারি
বান্দা যতবার ইবাদতের জন্য মসজিদে যায়, আল্লাহ ততবারই তার জন্য জান্নাতে মেহমানদারির ব্যবস্থা করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, সকালে বা সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারির আয়োজন করে রাখেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৬২)
মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতিদান
আবু হুরায়রা (রা.) আরও বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে অজু করে ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য পায়ে হেঁটে মসজিদে যায়, তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে গুনাহ মাফ হয় এবং অন্যটিতে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৪০৭)
মসজিদে থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি
মসজিদকে ভালোবাসা, সাধ্যমতো এর খেদমত করা এবং নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। সম্ভব হলে আগে আগে মসজিদে গিয়ে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও নফল ইবাদত করা উচিত। এতে আল্লাহ অত্যন্ত খুশি হন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, কোনো মুসলিম যতক্ষণ মসজিদে নামাজ ও জিকিরে মশগুল থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তার প্রতি এমন খুশি থাকেন, যেমন প্রবাসী ব্যক্তি ঘরে ফিরলে তার পরিবার আনন্দিত হয়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৮০০)
মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক মানে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক
মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া মানে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা। এই ভালোবাসা মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে, হৃদয়কে আলোকিত করে এবং জীবনে প্রশান্তি ও বরকত আনে। তাই শুধু নামাজের জন্য নয়, হৃদয়ের টানে মসজিদের সঙ্গে যুক্ত থাকা উচিত। যে হৃদয় মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, সে হৃদয় কখনো পথভ্রষ্ট হয় না।
আসুন, আমরা সবাই মসজিদমুখী হই, মসজিদকে ভালোবাসি এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাওয়া সৌভাগ্যবানদের দলে শামিল হওয়ার চেষ্টা করি। আমিন।
অধিকার ডেস্কঃ 























