
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে জাতীয় ছাত্রশক্তির টাঙানো ‘বিএনপি সরকারের ২০০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক একটি ব্যানার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে প্রক্টর অফিস থেকে এটি অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইবির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরের দিকে ক্যাম্পাসের ঝাল চত্বরে ব্যানারটি টাঙান ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে ক্যাম্পাস সময় শেষ হওয়ার আগে কোনো এক সময় সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।
ব্যানারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিরোধী দলের ওপর হামলা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ ও নিয়োগ বাণিজ্য, জ্বালানি সংকট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি, ব্যাংক দখল এবং দ্বিমুখী আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল মিরপুরের রাড্ডা এমএসএইচ টিকা কেন্দ্রে হামলা, কুষ্টিয়ায় কথিত পীরকে হত্যা, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ধর্ষণ, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় উপাচার্য নিয়োগের মতো বিষয়।
শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দীন বলেন, ব্যানার টাঙানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়। সেখানে প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা ও একজন সহকারী উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এক ঘণ্টার মধ্যে ব্যানার খুলে ফেলার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ব্যানার টাঙানো যাবে না বলেও সতর্ক করা হয়।
তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে তারা এর প্রতিবাদ করেন এবং এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকার উল্লেখ করে ব্যানার সরাতে অসম্মতি জানান। আনুমানিক দুই ঘণ্টা পর ব্যানারটি সরিয়ে ফেলা হয়। কে বা কারা সরিয়েছে, তা তাদের জানা নেই। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি বলে জানান তিনি। বিষয়টির সুরাহা না হলে আগামীকাল আবার ব্যানার টাঙানো হবে বলেও জানান ইফতেহার উদ্দীন।
আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যানারটি খুলে ফেলেছে। তাঁর দাবি, ছাত্রদল সরকারের সফলতা তুলে ধরে ক্যাম্পাসের তিন-চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় ব্যানার টাঙিয়েছে, যা দিনের পর দিন সেখানে রয়েছে। অথচ সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে একটি ছোট ব্যানার টাঙানোর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন জানিয়েছে ক্যাম্পাসে যেকোনো ব্যানার টাঙাতে অনুমতি নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ছাত্রদল কয়টি ব্যানারের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছিল। এ ঘটনাকে তিনি গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন।
ইবির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনায় প্রক্টর অফিস থেকে ব্যানারটি খুলে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
মোহাম্মদ সাদ,ইবি প্রতিনিধিঃ 





















