ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
আগুনে সর্বস্ব হারাল দিনমজুর হাসানের পরিবার, খোলা আকাশের নিচে ৪ জন মতলব উত্তরে ১৬ হাজার টাকার জালনোটসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার মুন্সীগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা মাগুরায় ৭০ কোটি টাকার আইটি পার্ক, আট বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ এশিয়ার জন্য তেলের দাম ছয় বছরের সর্বনিম্নে নামাল সৌদি চট্টগ্রাম রেঞ্জে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৭৬৪ রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে শিক্ষার্থীদের অতিক্ষমতা চলতে পারে না: টিআইবি অর্থ পাচার ও বেনামি সম্পত্তির অভিযোগ অস্বীকার করলেন রাকুল প্রীত সিং সঠিক নীতি ও প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা মোকাবিলা সম্ভব: মাহদী আমিন ফোনে পরিচয়ের পর দেখা করতে গিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

আগুনে সর্বস্ব হারাল দিনমজুর হাসানের পরিবার, খোলা আকাশের নিচে ৪ জন

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৮:২১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৩৩ Time View

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আগুনে দিনমজুর হাসান আলীর ঘর ও ঘরের সব মালামাল পুড়ে গেছে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অগ্নিকাণ্ডে টিনের ঘরসহ সর্বস্ব হারিয়েছেন দিনমজুর হাসান আলী (৩৫)। সোমবার ভোরে নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী রেলপাড়া এলাকায় তাঁর ঘরে আগুন লাগে। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ঘরের আসবাব, নগদ টাকা, চাল-ডাল, কাপড়চোপড়সহ সবকিছু পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের পর স্ত্রী নুপুর খাতুন, প্রতিবন্ধী পাঁচ বছরের ছেলে হোসেন আলী ও বৃদ্ধ মা ফাতেমা খাতুনকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে হাসানের পরিবারের।

হাসান আলী বলেন, ঘুমের মধ্যে আগুনের আঁচে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসেন। তাঁর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে ঘরের চাল, ডাল, আসবাবসহ সবকিছু পুড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার ভোর ৪টার দিকে হাসানের ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রতিবেশীদের প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যেই ঘরে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা, আসবাবপত্র, চাল-ডাল ও কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল পুড়ে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুই লাখ টাকার বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসান আলীর নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। রেললাইনের পাশে একটি টিনের ছাপড়া ঘরে স্ত্রী, সন্তান ও মাকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। দিনমজুরি করে কোনোভাবে সংসার চালাতেন।

হাসান বলেন, ‘দিন এনে দিন খাই। কোনোমতে সংসার চলছিল। ২০ মিনিটের আগুনে আমার সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য আমার নেই। সরকারের সহযোগিতা চাই।’

দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে কয়েকটি টিনের খুপড়ি ও ছাপড়া ঘর রয়েছে। পোড়া ঘরের পাশে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন হাসান। চারদিকে তখনো পোড়া গন্ধ। আগুনে ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ার পর সেখানে কয়েকটি সিমেন্টের খুঁটি ছাড়া তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। ওই এলাকায় চলাচলের জন্য কোনো সড়ক না থাকায় বাসিন্দাদের রেললাইনের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয়।

হাসানের স্ত্রী নুপুর খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আগুন টের পেয়ে দৌড়ে জীবন বাঁচিয়েছি। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেই। সবাই মিলে যদি ঘরটা করে দিত, তাহলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।’

হাসানের মা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘চারজন মানুষের কাপড়চোপড়, হাঁড়ি-পাতিল—কিছুই নেই। মানুষ খাবার দিয়েছে, তাই সকালে খেয়েছি। সরকার যদি একটু দেখত, তাহলে বাঁচতাম।’

অগ্নিকাণ্ডে শুধু ঘর নয়, পরিবারটির শেষ আশ্রয়ও পুড়ে গেছে। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শিখা খাতুন।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে শুকনা খাবার দেওয়া হবে। লিখিত আবেদন করলে বরাদ্দ পাওয়ার সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবানদেরও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগুনে সর্বস্ব হারাল দিনমজুর হাসানের পরিবার, খোলা আকাশের নিচে ৪ জন

আগুনে সর্বস্ব হারাল দিনমজুর হাসানের পরিবার, খোলা আকাশের নিচে ৪ জন

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:২১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অগ্নিকাণ্ডে টিনের ঘরসহ সর্বস্ব হারিয়েছেন দিনমজুর হাসান আলী (৩৫)। সোমবার ভোরে নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী রেলপাড়া এলাকায় তাঁর ঘরে আগুন লাগে। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ঘরের আসবাব, নগদ টাকা, চাল-ডাল, কাপড়চোপড়সহ সবকিছু পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের পর স্ত্রী নুপুর খাতুন, প্রতিবন্ধী পাঁচ বছরের ছেলে হোসেন আলী ও বৃদ্ধ মা ফাতেমা খাতুনকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে হাসানের পরিবারের।

হাসান আলী বলেন, ঘুমের মধ্যে আগুনের আঁচে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসেন। তাঁর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে ঘরের চাল, ডাল, আসবাবসহ সবকিছু পুড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার ভোর ৪টার দিকে হাসানের ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রতিবেশীদের প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যেই ঘরে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা, আসবাবপত্র, চাল-ডাল ও কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল পুড়ে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুই লাখ টাকার বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসান আলীর নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। রেললাইনের পাশে একটি টিনের ছাপড়া ঘরে স্ত্রী, সন্তান ও মাকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। দিনমজুরি করে কোনোভাবে সংসার চালাতেন।

হাসান বলেন, ‘দিন এনে দিন খাই। কোনোমতে সংসার চলছিল। ২০ মিনিটের আগুনে আমার সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য আমার নেই। সরকারের সহযোগিতা চাই।’

দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে কয়েকটি টিনের খুপড়ি ও ছাপড়া ঘর রয়েছে। পোড়া ঘরের পাশে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন হাসান। চারদিকে তখনো পোড়া গন্ধ। আগুনে ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ার পর সেখানে কয়েকটি সিমেন্টের খুঁটি ছাড়া তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। ওই এলাকায় চলাচলের জন্য কোনো সড়ক না থাকায় বাসিন্দাদের রেললাইনের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয়।

হাসানের স্ত্রী নুপুর খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আগুন টের পেয়ে দৌড়ে জীবন বাঁচিয়েছি। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেই। সবাই মিলে যদি ঘরটা করে দিত, তাহলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।’

হাসানের মা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘চারজন মানুষের কাপড়চোপড়, হাঁড়ি-পাতিল—কিছুই নেই। মানুষ খাবার দিয়েছে, তাই সকালে খেয়েছি। সরকার যদি একটু দেখত, তাহলে বাঁচতাম।’

অগ্নিকাণ্ডে শুধু ঘর নয়, পরিবারটির শেষ আশ্রয়ও পুড়ে গেছে। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শিখা খাতুন।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে শুকনা খাবার দেওয়া হবে। লিখিত আবেদন করলে বরাদ্দ পাওয়ার সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবানদেরও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।