
পিরোজপুরের নেছারাবাদে (স্বরূপকাঠি) বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় এক ছাত্রদল নেতাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যার পর স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের অলঙ্কারকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইমাম হোসেনকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি।
ঘটনার পর ইমাম হোসেন বাদী হয়ে একই গ্রামের সাকিব, তাঁর বড় ভাই মো. সাইফুল, বাবা মো. ওহাব আলী ও মো. খোকনের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্তের অভিযোগ
ইমাম হোসেনের অভিযোগ, সাকিব প্রায়ই কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে অলঙ্কারকাঠি এম আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করেন। বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার সময় ছাত্রীদের পথরোধ করে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাও তিনি কয়েকবার দেখেছেন বলে দাবি করেন।
রোববার বিকেলে এ বিষয়ে সাকিবকে সতর্ক করেন ইমাম। এ সময় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ইমাম তাকে একটি থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর সন্ধ্যার পর সাকিব ইমামকে বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ের কাছে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে সাকিব, তাঁর ভাই সাইফুল, বাবা ওহাব আলী ও খোকন তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের অভিযোগ
খবর পেয়ে স্বরূপকাঠি শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হাফিজুর রহমান শান্ত সেখানে গিয়ে ইমামকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সাকিব ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথার পেছনে আঘাত করেন এবং লোহার চেইন দিয়েও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হাফিজুর রহমান শান্ত বলেন, সাকিবের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। ইমাম বিষয়টির প্রতিবাদ করায় তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। খবর পেয়ে তিনি ইমামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ
সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ইমাম কোনো একটি বিষয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। এর জের ধরে রোববার সন্ধ্যার পর সাকিব তাঁকে মারধর করেছেন বলে জানতে পেরেছেন।
ইমামের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নেছারাবাদ থানা পুলিশ।
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসির হোসেন বলেন, সাকিব একটি মেয়েকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইমাম তাঁকে সতর্ক করার পাশাপাশি একটি থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জেরে সাকিব, তাঁর ভাই সাইফুল, বাবা ওহাব আলী ও স্বজন খোকন ইমামকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিকার ডেস্কঃ 




















