ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ডেঙ্গু ঠেকাতে পৌরসভা টিম ৪ এর ঝটিকা অভিযান, সরানো হলো জমে থাকা পানি ফুটপাত কার, নগরবাসীর নাকি দখলদারের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিক্ষোভ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে জাতীয় স্বীকৃতি পেল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আশুলিয়া থেকে নিখোঁজ শিশু তিন দিন পর ময়মনসিংহে উদ্ধার, দম্পতি আটক শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় সরকার কার্পণ্য করবে না: এলজিআরডি মন্ত্রী ময়মনসিংহে মাদক নিয়ে বিরোধে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, গ্রেপ্তার ১ ময়মনসিংহে মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে চাকু দিয়ে কুপিয়ে তরুণকে হত্যা চাকসুর মেয়াদ শেষের ১৭ দিন আগে শপথ নিলেন আকাশ দাশ চরপাথালিয়া বাজারে ভয়াবহ আগুন, ৬ দোকান পুড়ে কোটি টাকার ক্ষতির দাবি

ফুটপাত কার, নগরবাসীর নাকি দখলদারের

দখল ও অব্যবস্থাপনায় সংকুচিত হচ্ছে পথচারীদের চলাচলের জায়গা—নগর ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান। ছবি- এ আই জেনারেট

ফুটপাত পথচারীর জন্য এ কথা জানাতে কোনো আইনজ্ঞের ব্যাখ্যা প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমাদের শহরের বাস্তবতা যেন উল্টো কথা বলে। ফুটপাত দখল করে দোকানের পসরা, পণ্যসামগ্রী, অস্থায়ী স্থাপনা, নির্মাণসামগ্রী কিংবা যানবাহন রাখা হচ্ছে। পথচারীর জন্য সামান্য জায়গাটুকুও কোথাও নেই। ফলে ফুটপাত ছেড়ে মানুষকে নামতে হচ্ছে মূল সড়কে। যানবাহনের ভিড়ে ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠতেই পারে ফুটপাত কার, নগরবাসীর নাকি দখলদারের?
একটি শহরের নাগরিকবান্ধবতার সবচেয়ে সহজ পরীক্ষা হলো তার ফুটপাত। সেখানে শিশু, নারী, প্রবীণ কিংবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কতটা নিরাপদে হাঁটতে পারেন তা দিয়েই অনেকটা বোঝা যায় নগর ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর। অথচ আমাদের নগরগুলোতে ফুটপাত নির্মাণের পর সেটি রক্ষা করার দায় যেন ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। নতুন ফুটপাত তৈরি হয়, কিছুদিন পর দখল হয়; উচ্ছেদ অভিযান চলে, আবার দখল ফিরে আসে। এই চক্র বছরের পর বছর চলছে।
সমস্যাটি শুধু হকার বা দোকানদারের নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা। ফুটপাত দখল হচ্ছে কর্তৃপক্ষ জানে। দখলমুক্ত করার অভিযান হচ্ছে তারপরও পুনর্দখল হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, অভিযান যদি স্থায়ী সমাধান না দেয়, দায় কার? শুধু দখলদারকে সরিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যায় না। দখল ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে একই জায়গায় বারবার অভিযান চালানো মূলত সমস্যাকে দীর্ঘায়িত করার নামান্তর।
তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের বাস্তবতাও অস্বীকার করা যাবে না। তাঁদের অনেকের জীবিকা ফুটপাতকেন্দ্রিক। তাই উচ্ছেদই একমাত্র সমাধান হতে পারে না। প্রয়োজন পরিকল্পিত পুনর্বাসন ও হকার ব্যবস্থাপনা। নির্দিষ্ট স্থান, নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় তাঁদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু জীবিকার প্রয়োজনের সঙ্গে নাগরিকের চলাচলের অধিকারকে সাংঘর্ষিক করে তোলা যাবে না। একজনের জীবিকার জন্য হাজার মানুষের নিরাপদ চলাচল বন্ধ হতে পারে না।
ফুটপাত দখলের আরেকটি বড় কারণ অবৈধ পার্কিং। অনেক এলাকায় ফুটপাত ও তার আশপাশ গাড়ি-মোটরসাইকেল রাখার জায়গায় পরিণত হয়েছে। কোথাও আবার দোকানের মালামাল রাখার জন্য ফুটপাত স্থায়ীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ পার্কিং সংকট বা ব্যবসার জায়গার অভাবের দায় পথচারীকে বহন করতে হবে কেন? নগর কর্তৃপক্ষকে পার্কিং ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক স্থাপনার জন্য আলাদা পরিকল্পনা করতে হবে। ফুটপাতের জায়গা কোনো বিকল্প পার্কিং বা গুদাম নয়।
শুধু দখলমুক্ত করলেই অবশ্য সমস্যার সমাধান হবে না। অনেক ফুটপাত ভাঙাচোরা, অসমতল ও অপরিকল্পিত। কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি, কোথাও ড্রেনের মুখ, কোথাও নির্মাণসামগ্রী সব মিলিয়ে হাঁটার পথই হয়ে উঠেছে বাধাগ্রস্ত। ফলে ফুটপাত থাকলেও পথচারী সেটি ব্যবহার করতে পারেন না। নতুন ফুটপাত নির্মাণের ক্ষেত্রে তাই শুধু সৌন্দর্য নয়, ব্যবহারযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও প্রবেশগম্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে প্রতিবন্ধী ও চলাচলে সীমাবদ্ধ মানুষের প্রয়োজন। একটি আধুনিক শহরের ফুটপাত এমন হবে, যেখানে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী কিংবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষও স্বাধীনভাবে চলতে পারবেন। প্রয়োজনীয় র‍্যাম্প, স্পর্শনির্ভর পথ, বাধামুক্ত প্রবেশ ও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা ছাড়া ফুটপাতকে পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না।
এখানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো জবাবদিহি। ফুটপাত কোনো ব্যক্তি, দোকানদার কিংবা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। এটি জনসাধারণের সম্পদ। ফলে দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতারও হিসাব থাকা প্রয়োজন। কোথায় ফুটপাত দখল হয়েছে, কোন সংস্থা তা দেখভাল করবে এবং কত সময়ের মধ্যে দখলমুক্ত করা হবে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা জরুরি।
উচ্ছেদ অভিযানকে লোকদেখানো কার্যক্রমে পরিণত করা যাবে না। আজ উচ্ছেদ, কাল পুনর্দখল এই নাটক বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, জরিমানা, পুনর্দখল প্রতিরোধ এবং নাগরিক অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি। স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে কোনো অভিযানই দীর্ঘস্থায়ী ফল দেবে না।
নগরবাসীরও দায়িত্ব আছে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা যেমন অন্যায়, তেমনি দখল করা জায়গা থেকে পণ্য কেনা বা অবৈধ পার্কিংকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়াও সমস্যাকে টিকিয়ে রাখে। নাগরিকদের সচেতনতা ও প্রতিবাদ প্রশাসনিক উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে পারে।
একটি শহরের উন্নয়ন শুধু ফ্লাইওভার, উড়ালসড়ক, শপিংমল কিংবা বহুতল ভবনে মাপা যায় না। উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো একজন সাধারণ মানুষ সেখানে কতটা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্য ও মর্যাদার সঙ্গে চলাফেরা করতে পারেন। ফুটপাত সেই নাগরিক মর্যাদারই অংশ।
তাই এখন আর প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই ফুটপাত কার? উত্তর একটাই ফুটপাত নগরবাসীর। দখলদার সেখানে সাময়িকভাবে জায়গা দখল করতে পারে, কিন্তু অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দখল উচ্ছেদ নয়; দখলমুক্ত ফুটপাতকে স্থায়ীভাবে পথচারীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। কারণ ফুটপাত ফিরিয়ে দেওয়া মানে শুধু হাঁটার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া নয় ফিরিয়ে দেওয়া নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার।
জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু ঠেকাতে পৌরসভা টিম ৪ এর ঝটিকা অভিযান, সরানো হলো জমে থাকা পানি

ফুটপাত কার, নগরবাসীর নাকি দখলদারের

প্রকাশের সময়ঃ ১০:১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
ফুটপাত পথচারীর জন্য এ কথা জানাতে কোনো আইনজ্ঞের ব্যাখ্যা প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমাদের শহরের বাস্তবতা যেন উল্টো কথা বলে। ফুটপাত দখল করে দোকানের পসরা, পণ্যসামগ্রী, অস্থায়ী স্থাপনা, নির্মাণসামগ্রী কিংবা যানবাহন রাখা হচ্ছে। পথচারীর জন্য সামান্য জায়গাটুকুও কোথাও নেই। ফলে ফুটপাত ছেড়ে মানুষকে নামতে হচ্ছে মূল সড়কে। যানবাহনের ভিড়ে ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠতেই পারে ফুটপাত কার, নগরবাসীর নাকি দখলদারের?
একটি শহরের নাগরিকবান্ধবতার সবচেয়ে সহজ পরীক্ষা হলো তার ফুটপাত। সেখানে শিশু, নারী, প্রবীণ কিংবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কতটা নিরাপদে হাঁটতে পারেন তা দিয়েই অনেকটা বোঝা যায় নগর ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর। অথচ আমাদের নগরগুলোতে ফুটপাত নির্মাণের পর সেটি রক্ষা করার দায় যেন ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। নতুন ফুটপাত তৈরি হয়, কিছুদিন পর দখল হয়; উচ্ছেদ অভিযান চলে, আবার দখল ফিরে আসে। এই চক্র বছরের পর বছর চলছে।
সমস্যাটি শুধু হকার বা দোকানদারের নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা। ফুটপাত দখল হচ্ছে কর্তৃপক্ষ জানে। দখলমুক্ত করার অভিযান হচ্ছে তারপরও পুনর্দখল হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, অভিযান যদি স্থায়ী সমাধান না দেয়, দায় কার? শুধু দখলদারকে সরিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যায় না। দখল ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে একই জায়গায় বারবার অভিযান চালানো মূলত সমস্যাকে দীর্ঘায়িত করার নামান্তর।
তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের বাস্তবতাও অস্বীকার করা যাবে না। তাঁদের অনেকের জীবিকা ফুটপাতকেন্দ্রিক। তাই উচ্ছেদই একমাত্র সমাধান হতে পারে না। প্রয়োজন পরিকল্পিত পুনর্বাসন ও হকার ব্যবস্থাপনা। নির্দিষ্ট স্থান, নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় তাঁদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু জীবিকার প্রয়োজনের সঙ্গে নাগরিকের চলাচলের অধিকারকে সাংঘর্ষিক করে তোলা যাবে না। একজনের জীবিকার জন্য হাজার মানুষের নিরাপদ চলাচল বন্ধ হতে পারে না।
ফুটপাত দখলের আরেকটি বড় কারণ অবৈধ পার্কিং। অনেক এলাকায় ফুটপাত ও তার আশপাশ গাড়ি-মোটরসাইকেল রাখার জায়গায় পরিণত হয়েছে। কোথাও আবার দোকানের মালামাল রাখার জন্য ফুটপাত স্থায়ীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ পার্কিং সংকট বা ব্যবসার জায়গার অভাবের দায় পথচারীকে বহন করতে হবে কেন? নগর কর্তৃপক্ষকে পার্কিং ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক স্থাপনার জন্য আলাদা পরিকল্পনা করতে হবে। ফুটপাতের জায়গা কোনো বিকল্প পার্কিং বা গুদাম নয়।
শুধু দখলমুক্ত করলেই অবশ্য সমস্যার সমাধান হবে না। অনেক ফুটপাত ভাঙাচোরা, অসমতল ও অপরিকল্পিত। কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি, কোথাও ড্রেনের মুখ, কোথাও নির্মাণসামগ্রী সব মিলিয়ে হাঁটার পথই হয়ে উঠেছে বাধাগ্রস্ত। ফলে ফুটপাত থাকলেও পথচারী সেটি ব্যবহার করতে পারেন না। নতুন ফুটপাত নির্মাণের ক্ষেত্রে তাই শুধু সৌন্দর্য নয়, ব্যবহারযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও প্রবেশগম্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে প্রতিবন্ধী ও চলাচলে সীমাবদ্ধ মানুষের প্রয়োজন। একটি আধুনিক শহরের ফুটপাত এমন হবে, যেখানে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী কিংবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষও স্বাধীনভাবে চলতে পারবেন। প্রয়োজনীয় র‍্যাম্প, স্পর্শনির্ভর পথ, বাধামুক্ত প্রবেশ ও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা ছাড়া ফুটপাতকে পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না।
এখানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো জবাবদিহি। ফুটপাত কোনো ব্যক্তি, দোকানদার কিংবা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। এটি জনসাধারণের সম্পদ। ফলে দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতারও হিসাব থাকা প্রয়োজন। কোথায় ফুটপাত দখল হয়েছে, কোন সংস্থা তা দেখভাল করবে এবং কত সময়ের মধ্যে দখলমুক্ত করা হবে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা জরুরি।
উচ্ছেদ অভিযানকে লোকদেখানো কার্যক্রমে পরিণত করা যাবে না। আজ উচ্ছেদ, কাল পুনর্দখল এই নাটক বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, জরিমানা, পুনর্দখল প্রতিরোধ এবং নাগরিক অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি। স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে কোনো অভিযানই দীর্ঘস্থায়ী ফল দেবে না।
নগরবাসীরও দায়িত্ব আছে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা যেমন অন্যায়, তেমনি দখল করা জায়গা থেকে পণ্য কেনা বা অবৈধ পার্কিংকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়াও সমস্যাকে টিকিয়ে রাখে। নাগরিকদের সচেতনতা ও প্রতিবাদ প্রশাসনিক উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে পারে।
একটি শহরের উন্নয়ন শুধু ফ্লাইওভার, উড়ালসড়ক, শপিংমল কিংবা বহুতল ভবনে মাপা যায় না। উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো একজন সাধারণ মানুষ সেখানে কতটা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্য ও মর্যাদার সঙ্গে চলাফেরা করতে পারেন। ফুটপাত সেই নাগরিক মর্যাদারই অংশ।
তাই এখন আর প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই ফুটপাত কার? উত্তর একটাই ফুটপাত নগরবাসীর। দখলদার সেখানে সাময়িকভাবে জায়গা দখল করতে পারে, কিন্তু অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দখল উচ্ছেদ নয়; দখলমুক্ত ফুটপাতকে স্থায়ীভাবে পথচারীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। কারণ ফুটপাত ফিরিয়ে দেওয়া মানে শুধু হাঁটার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া নয় ফিরিয়ে দেওয়া নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার।