ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ডেঙ্গু ঠেকাতে পৌরসভা টিম ৪ এর ঝটিকা অভিযান, সরানো হলো জমে থাকা পানি ফুটপাত কার, নগরবাসীর নাকি দখলদারের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিক্ষোভ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে জাতীয় স্বীকৃতি পেল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আশুলিয়া থেকে নিখোঁজ শিশু তিন দিন পর ময়মনসিংহে উদ্ধার, দম্পতি আটক শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় সরকার কার্পণ্য করবে না: এলজিআরডি মন্ত্রী ময়মনসিংহে মাদক নিয়ে বিরোধে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, গ্রেপ্তার ১ ময়মনসিংহে মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে চাকু দিয়ে কুপিয়ে তরুণকে হত্যা চাকসুর মেয়াদ শেষের ১৭ দিন আগে শপথ নিলেন আকাশ দাশ চরপাথালিয়া বাজারে ভয়াবহ আগুন, ৬ দোকান পুড়ে কোটি টাকার ক্ষতির দাবি

শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় সরকার কার্পণ্য করবে না: এলজিআরডি মন্ত্রী

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৯:২৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৪২ Time View

জাতীয় শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

দেশের সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের কল্যাণ এবং তাদের ন্যায্য দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও দায়িত্বের বিষয়টিও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেও একজন শিক্ষক। তাই শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।’ তবে চাকরি জাতীয়করণ হলে শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারীর কাঠামোর মধ্যে আসতে হবে। এর সঙ্গে বদলি, প্রশাসনিক দায়িত্বসহ বিভিন্ন নতুন বিষয় যুক্ত হতে পারে। ফলে জাতীয়করণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও শিক্ষকদের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিকাশ ও শিক্ষকদের সরকারি সহায়তার ইতিহাস তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ই ছিল বেসরকারি। ব্যক্তি ও সমাজের দানশীল মানুষের সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো। সময়ের সঙ্গে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় সরকারি সহায়তার পরিমাণও ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের ৫০ শতাংশ সরকারি সহায়তার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা কমিশন গঠন করে। ওই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষকদের জন্য সরকারি বেতন-সহায়তা আরও বাড়ানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের শতভাগ সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে বর্তমানে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সরকারি সহায়তার আওতায় রয়েছেন।

শিক্ষকদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশের সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার পিছপা হবে না।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রথমে অষ্টম শ্রেণি এবং পরবর্তী সময়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল। এর ফলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মেয়েদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতির পেছনে ওই সময়ের নীতিগত সিদ্ধান্তেরও ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একজন শিক্ষকের দায়িত্ব সাধারণ সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্বের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরাই দেশের নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান, মূল্যবোধ ও দক্ষতায় গড়ে তোলেন। তাই নিজেদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, একটি রাষ্ট্রের শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতা কিংবা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল নয়। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজই একটি দেশকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করে। তাই বাংলাদেশকে উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু ঠেকাতে পৌরসভা টিম ৪ এর ঝটিকা অভিযান, সরানো হলো জমে থাকা পানি

শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় সরকার কার্পণ্য করবে না: এলজিআরডি মন্ত্রী

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:২৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দেশের সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের কল্যাণ এবং তাদের ন্যায্য দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও দায়িত্বের বিষয়টিও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেও একজন শিক্ষক। তাই শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।’ তবে চাকরি জাতীয়করণ হলে শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারীর কাঠামোর মধ্যে আসতে হবে। এর সঙ্গে বদলি, প্রশাসনিক দায়িত্বসহ বিভিন্ন নতুন বিষয় যুক্ত হতে পারে। ফলে জাতীয়করণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও শিক্ষকদের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিকাশ ও শিক্ষকদের সরকারি সহায়তার ইতিহাস তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ই ছিল বেসরকারি। ব্যক্তি ও সমাজের দানশীল মানুষের সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো। সময়ের সঙ্গে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় সরকারি সহায়তার পরিমাণও ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের ৫০ শতাংশ সরকারি সহায়তার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা কমিশন গঠন করে। ওই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষকদের জন্য সরকারি বেতন-সহায়তা আরও বাড়ানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের শতভাগ সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে বর্তমানে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সরকারি সহায়তার আওতায় রয়েছেন।

শিক্ষকদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশের সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার পিছপা হবে না।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রথমে অষ্টম শ্রেণি এবং পরবর্তী সময়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল। এর ফলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মেয়েদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতির পেছনে ওই সময়ের নীতিগত সিদ্ধান্তেরও ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একজন শিক্ষকের দায়িত্ব সাধারণ সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্বের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরাই দেশের নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান, মূল্যবোধ ও দক্ষতায় গড়ে তোলেন। তাই নিজেদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, একটি রাষ্ট্রের শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতা কিংবা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল নয়। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজই একটি দেশকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করে। তাই বাংলাদেশকে উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।