ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

মহম্মদপুরে রাতের আঁধারে সরকারি খাল কাটার অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের মাছিনাগড়া গ্রামে গভীর রাতে সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি ইটভাটার মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই সরকারি সম্পদ লুট করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত গভীর রাতে গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি খালে শক্তিশালী এক্সকাভেটর (ভেকু) নামিয়ে মাটি কাটার ঘটনা স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে মাটি বোঝাই ট্রাক্টরের বহর ইটভাটার দিকে যেতে দেখে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ ভারী যন্ত্রের বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আশপাশের বাসিন্দাদের। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কয়েকজন এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, সরকারি খালের তলদেশ থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরে তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সরে পড়ার চেষ্টা করেন।

অভিযোগ উঠেছে, এলাকার ‘একতা ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটায় ওই মাটি নেওয়া হচ্ছিল। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ভাটাটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সেখানে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সরকারি খাল থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এতে জলাবদ্ধতা, পাড় ধস এবং আশপাশের ফসলি জমির ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন,
“খালটা গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। এভাবে মাটি কেটে নিলে বর্ষায় পুরো এলাকা পানির নিচে চলে যাবে। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চাই।”

আরেক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“রাতের আঁধারে ভেকু চালিয়ে সরকারি খাল কাটা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভয় দেখানো হয়। এভাবে চলতে থাকলে খাল বলে কিছু থাকবে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ইটভাটার মালিক লাভলু মিয়া ও হালিম মোল্লা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি খালের মাটি কাটার বিষয়টি তারা স্থানীয়ভাবে স্বীকারও করেছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যখন খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে, তখন উল্টো সরকারি খাল কেটে মাটি বিক্রি ও ইটভাটায় ব্যবহার করার ঘটনা উদ্বেগজনক। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদও হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করতে হবে এবং সরকারি খাল রক্ষায় প্রশাসনকে দৃশ্যমান অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একইসঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

মহম্মদপুরে রাতের আঁধারে সরকারি খাল কাটার অভিযোগ

প্রকাশের সময়ঃ ১০:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের মাছিনাগড়া গ্রামে গভীর রাতে সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি ইটভাটার মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই সরকারি সম্পদ লুট করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত গভীর রাতে গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি খালে শক্তিশালী এক্সকাভেটর (ভেকু) নামিয়ে মাটি কাটার ঘটনা স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে মাটি বোঝাই ট্রাক্টরের বহর ইটভাটার দিকে যেতে দেখে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ ভারী যন্ত্রের বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আশপাশের বাসিন্দাদের। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কয়েকজন এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, সরকারি খালের তলদেশ থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরে তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সরে পড়ার চেষ্টা করেন।

অভিযোগ উঠেছে, এলাকার ‘একতা ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটায় ওই মাটি নেওয়া হচ্ছিল। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ভাটাটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সেখানে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সরকারি খাল থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এতে জলাবদ্ধতা, পাড় ধস এবং আশপাশের ফসলি জমির ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন,
“খালটা গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। এভাবে মাটি কেটে নিলে বর্ষায় পুরো এলাকা পানির নিচে চলে যাবে। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চাই।”

আরেক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“রাতের আঁধারে ভেকু চালিয়ে সরকারি খাল কাটা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভয় দেখানো হয়। এভাবে চলতে থাকলে খাল বলে কিছু থাকবে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ইটভাটার মালিক লাভলু মিয়া ও হালিম মোল্লা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি খালের মাটি কাটার বিষয়টি তারা স্থানীয়ভাবে স্বীকারও করেছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যখন খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে, তখন উল্টো সরকারি খাল কেটে মাটি বিক্রি ও ইটভাটায় ব্যবহার করার ঘটনা উদ্বেগজনক। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদও হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করতে হবে এবং সরকারি খাল রক্ষায় প্রশাসনকে দৃশ্যমান অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একইসঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।