ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
চাঁপাইনবাবগঞ্জে

ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসলহানি, অবশেষে ক্ষতিপূরণ পেলেন কৃষকরা

ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী ধানের জমিতে বিঘাপ্রতি ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। বছরের পর বছর জেলার বিভিন্ন এলাকায় আম, ধানসহ নানা ফসলের ক্ষতি হলেও অধিকাংশ সময়ই ক্ষতিপূরণ পান না কৃষকরা। তবে এবার সেই চিত্রে দেখা গেল ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের একটি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে নগদ ক্ষতিপূরণ তুলে দিয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবারের মাঝে।

স্থানীয়রা বলছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রায় দেড় শতাধিক ইটভাটা থাকলেও কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের এমন নজির এই প্রথম। বিষয়টি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের নন্দলালপুর মাঠে অবস্থিত ‘এএনএফ ব্রিকস’ নামের ইটভাটাটি প্রায় দেড় যুগ ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। চলতি মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে ভাটা সংলগ্ন এলাকার ধানক্ষেত ও আমবাগানের ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করলে ইউপি সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভাটা কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ শেষে কৃষকদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৩০ জনের বেশি ধানচাষী ও ২০ জনের অধিক আমচাষী রয়েছেন। ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী ধানের জমিতে বিঘাপ্রতি ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আমবাগানের ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

নন্দলালপুর গ্রামের কৃষক তাজেমুল হক জানান, তার ২ বিঘা ধানক্ষেত ও ৭ বিঘা আমবাগান ইটভাটার পাশে অবস্থিত। তিনি বলেন,
“ধানে ক্ষতি একটু বেশি হয়েছিল। আমরা ইউপি সদস্যের মাধ্যমে দাবি জানিয়েছিলাম। পরে সরেজমিন দেখে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেই অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এতদিন শুধু অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কখনও ক্ষতিপূরণ পাইনি। তাই এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”

চৌডালা গুরজঘাট এলাকার কৃষক মো. ধুলু বলেন,
“ইটভাটা থাকলে কিছুটা ক্ষতি হবেই। তবে এএনএফ ব্রিকস কয়লাভিত্তিক হওয়ায় ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে। তারপরও জমিতে সার ও কীটনাশকের যে খরচ হয়েছিল, তা ভাটা মালিকরা পরিশোধ করেছেন। এতে কৃষকরা কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছেন।”

এএনএফ ব্রিকসের অন্যতম স্বত্বাধিকারী নাজমুল আলম বলেন,
“যেসব কৃষক তাদের ক্ষতির বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন, তাদের প্রায় সবাইকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক। যেহেতু এটি আমাদের নিজ এলাকার মানুষ, তাই দায়িত্ববোধ থেকেই উদ্যোগ নিয়েছি। অন্য ইটভাটা মালিকরাও যদি এমন উদ্যোগ নেন, তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। পরিবেশের কথা বিবেচনা করে আমরা ভাটায় খড়ি পোড়ানো থেকেও বিরত থাকি।”

চৌডালা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন,
“কৃষকরা অভিযোগ করলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি। পরে সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ক্ষতিপূরণ বুঝে পাওয়ার পর কৃষকরা লিখিতভাবে অনাপত্তিও দিয়েছেন।”

এদিকে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাকলাইন হোসেন বলেন,
“আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রায়ই ধান, আমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়। সে জায়গা থেকে এটি একটি ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও কমবে।”

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, জেলার অন্যান্য ইটভাটার আশপাশেও প্রতিবছর ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য স্থায়ী ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে

ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসলহানি, অবশেষে ক্ষতিপূরণ পেলেন কৃষকরা

প্রকাশের সময়ঃ ০১:০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। বছরের পর বছর জেলার বিভিন্ন এলাকায় আম, ধানসহ নানা ফসলের ক্ষতি হলেও অধিকাংশ সময়ই ক্ষতিপূরণ পান না কৃষকরা। তবে এবার সেই চিত্রে দেখা গেল ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের একটি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে নগদ ক্ষতিপূরণ তুলে দিয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবারের মাঝে।

স্থানীয়রা বলছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রায় দেড় শতাধিক ইটভাটা থাকলেও কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের এমন নজির এই প্রথম। বিষয়টি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের নন্দলালপুর মাঠে অবস্থিত ‘এএনএফ ব্রিকস’ নামের ইটভাটাটি প্রায় দেড় যুগ ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। চলতি মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে ভাটা সংলগ্ন এলাকার ধানক্ষেত ও আমবাগানের ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করলে ইউপি সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভাটা কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ শেষে কৃষকদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৩০ জনের বেশি ধানচাষী ও ২০ জনের অধিক আমচাষী রয়েছেন। ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী ধানের জমিতে বিঘাপ্রতি ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আমবাগানের ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

নন্দলালপুর গ্রামের কৃষক তাজেমুল হক জানান, তার ২ বিঘা ধানক্ষেত ও ৭ বিঘা আমবাগান ইটভাটার পাশে অবস্থিত। তিনি বলেন,
“ধানে ক্ষতি একটু বেশি হয়েছিল। আমরা ইউপি সদস্যের মাধ্যমে দাবি জানিয়েছিলাম। পরে সরেজমিন দেখে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেই অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এতদিন শুধু অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কখনও ক্ষতিপূরণ পাইনি। তাই এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”

চৌডালা গুরজঘাট এলাকার কৃষক মো. ধুলু বলেন,
“ইটভাটা থাকলে কিছুটা ক্ষতি হবেই। তবে এএনএফ ব্রিকস কয়লাভিত্তিক হওয়ায় ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে। তারপরও জমিতে সার ও কীটনাশকের যে খরচ হয়েছিল, তা ভাটা মালিকরা পরিশোধ করেছেন। এতে কৃষকরা কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছেন।”

এএনএফ ব্রিকসের অন্যতম স্বত্বাধিকারী নাজমুল আলম বলেন,
“যেসব কৃষক তাদের ক্ষতির বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন, তাদের প্রায় সবাইকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক। যেহেতু এটি আমাদের নিজ এলাকার মানুষ, তাই দায়িত্ববোধ থেকেই উদ্যোগ নিয়েছি। অন্য ইটভাটা মালিকরাও যদি এমন উদ্যোগ নেন, তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। পরিবেশের কথা বিবেচনা করে আমরা ভাটায় খড়ি পোড়ানো থেকেও বিরত থাকি।”

চৌডালা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন,
“কৃষকরা অভিযোগ করলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি। পরে সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ক্ষতিপূরণ বুঝে পাওয়ার পর কৃষকরা লিখিতভাবে অনাপত্তিও দিয়েছেন।”

এদিকে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাকলাইন হোসেন বলেন,
“আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রায়ই ধান, আমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়। সে জায়গা থেকে এটি একটি ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও কমবে।”

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, জেলার অন্যান্য ইটভাটার আশপাশেও প্রতিবছর ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য স্থায়ী ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।