
বরিশালের গৌরনদীতে এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল একটি সুখের পরিবার। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাটাজোর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় স্বামী, স্ত্রী ও তাদের একমাত্র কন্যাসন্তান নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতরা হলেন—উজিরপুর উপজেলার উজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম হাওলাদারের বড় ছেলে মোঃ ফিরোজ মাহমুদ (৩৬), তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাঁদের একমাত্র আদরের মেয়ে জন্নাত আক্তার। স্থানীয়দের ভাষ্য, হাসিখুশি এই পরিবারটি কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে রক্তাক্ত নিথর দেহে পরিণত হয় মহাসড়কের ওপর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে বরিশালগামী ‘তাজ পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগতির বাস বাটাজোর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও কান্নার রোল।
এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাটাজোর অংশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দুই পাশে সৃষ্টি হয় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। ঘরমুখো যাত্রীদের অনেকেই প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।
খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ ও গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ঘাতক বাসটিকে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে বাস স্ট্যান্ড ও জনবহুল এলাকায় গতিনিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রায়ই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
একটি পরিবারের তিনটি প্রাণ একসঙ্গে ঝরে যাওয়ার এই ঘটনা শুধু গৌরনদী নয়, পুরো বরিশালবাসীকেই গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাটাজোরের বাতাস।
সৈয়দ নূর আহছান, বরিশাল 

















