ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
রাজশাহীতে লাইব্রেরিয়ান গ্রেপ্তার

মিষ্টির প্রলোভনে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

গ্রেপ্তার মো. আজিজুল আলম (৪০)।

রাজশাহী মহানগরীতে মিষ্টি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও অনুরূপ অভিযোগ থাকলেও তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানার নেপালপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল মন্ডলের ছেলে মো. আজিজুল আলম (৪০)। তিনি হড়গ্রাম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে বিদ্যালয় ছুটির পর একই প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম রানীদিঘী এলাকায় নিজের ভাগ্নির বাসায় নিয়ে যান আজিজুল আলম। সেখানে একটি শয়নকক্ষে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাড়িতে ফিরে পুরো ঘটনা তার বাবা-মাকে জানায়। বিষয়টি জানার পর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশকে অবহিত করে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে রবিবার (৭ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত আজিজুল আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, “আজিজুল আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তখন বিষয়টি যথাযথ তদন্ত ও শাস্তির পরিবর্তে ধামাচাপা দেওয়া হয়। ফলে সে আবারও একই ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে।”

তাদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো নতুন করে কোনো শিক্ষার্থী এমন ঘটনার শিকার হতো না। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরহাদ আলী বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

রাজশাহীতে লাইব্রেরিয়ান গ্রেপ্তার

মিষ্টির প্রলোভনে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:৩০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

রাজশাহী মহানগরীতে মিষ্টি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও অনুরূপ অভিযোগ থাকলেও তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানার নেপালপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল মন্ডলের ছেলে মো. আজিজুল আলম (৪০)। তিনি হড়গ্রাম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে বিদ্যালয় ছুটির পর একই প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম রানীদিঘী এলাকায় নিজের ভাগ্নির বাসায় নিয়ে যান আজিজুল আলম। সেখানে একটি শয়নকক্ষে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাড়িতে ফিরে পুরো ঘটনা তার বাবা-মাকে জানায়। বিষয়টি জানার পর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশকে অবহিত করে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে রবিবার (৭ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত আজিজুল আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, “আজিজুল আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তখন বিষয়টি যথাযথ তদন্ত ও শাস্তির পরিবর্তে ধামাচাপা দেওয়া হয়। ফলে সে আবারও একই ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে।”

তাদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো নতুন করে কোনো শিক্ষার্থী এমন ঘটনার শিকার হতো না। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরহাদ আলী বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান।