ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
১৭১তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসে

রাজশাহীতে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি কমিশনের দাবি

রাজশাহীতে ১৭১তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যালি ও আলোচনা সভা।

রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৭১তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ থেকে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন এবং তাদের ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে গণকপাড়া পার্টি অফিসে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন সিধু, কানহু, চাঁদ ও ভৈরব মুর্মুর নেতৃত্বে সাঁওতাল জনগণ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, জমিদারি প্রথা, মহাজনী শোষণ এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন। ইতিহাসে এই আন্দোলন শুধু সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই নয়, বরং উপমহাদেশে ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভা থেকে সমতলের আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যার টেকসই সমাধানে পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাস তুলে ধরা, মাতৃভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্র এবং সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।

বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গণেশ মার্ডি, সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়ার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম কনক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ছোটন সরদার এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আন্দ্রিয়াজ বিশ্বাস।

সভার বক্তারা একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আদিবাসী সমাজের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভাষা এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

১৭১তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসে

রাজশাহীতে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি কমিশনের দাবি

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৭১তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ থেকে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন এবং তাদের ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে গণকপাড়া পার্টি অফিসে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন সিধু, কানহু, চাঁদ ও ভৈরব মুর্মুর নেতৃত্বে সাঁওতাল জনগণ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, জমিদারি প্রথা, মহাজনী শোষণ এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন। ইতিহাসে এই আন্দোলন শুধু সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই নয়, বরং উপমহাদেশে ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভা থেকে সমতলের আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যার টেকসই সমাধানে পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাস তুলে ধরা, মাতৃভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্র এবং সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।

বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গণেশ মার্ডি, সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়ার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম কনক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ছোটন সরদার এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আন্দ্রিয়াজ বিশ্বাস।

সভার বক্তারা একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আদিবাসী সমাজের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভাষা এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।