ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি

অনিয়মের অভিযোগে বরিশাল বিভাগের দুই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা

সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন এবং দায়িত্ব পালনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বরিশাল বিভাগের দুই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে চাকরি থেকে অপসারণ এবং অপরজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের এ সিদ্ধান্তকে ভূমি প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় মামলার শুনানি শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গত রোববার এ সংক্রান্ত আদেশ দেওয়া হলেও বিষয়টি বুধবার দুপুরের পর প্রকাশ্যে আসে।

সূত্র জানায়, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আছমা আক্তারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে মাছরং ও জম্বুদ্বীপ মৌজার এসএ খতিয়ানের রেকর্ড সংশোধনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সংশোধনের আইনগত ক্ষমতা তার না থাকা সত্ত্বেও তিনি এ কাজে সম্পৃক্ত হন।

বিভাগীয় তদন্ত চলাকালে তিনি লিখিতভাবে বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানায় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে খাস খতিয়ানভুক্ত জমির রশিদ ও দাখিলা প্রদান করে সরকারি জমি বেহাত করতে সহায়তা করার অভিযোগ ওঠে।

বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন,
“বিভাগীয় মামলার শুনানি শেষে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যবস্থা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করবে বলে আমরা আশা করছি।”

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। সরকারি জমি সংরক্ষণ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম রোধে এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন তারা।

ভূমি সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতাদের মতে, দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ভূমি প্রশাসনে সুশাসন নিশ্চিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন এবং দায়িত্ব পালনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বরিশাল বিভাগের দুই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে চাকরি থেকে অপসারণ এবং অপরজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের এ সিদ্ধান্তকে ভূমি প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় মামলার শুনানি শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গত রোববার এ সংক্রান্ত আদেশ দেওয়া হলেও বিষয়টি বুধবার দুপুরের পর প্রকাশ্যে আসে।

সূত্র জানায়, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আছমা আক্তারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে মাছরং ও জম্বুদ্বীপ মৌজার এসএ খতিয়ানের রেকর্ড সংশোধনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সংশোধনের আইনগত ক্ষমতা তার না থাকা সত্ত্বেও তিনি এ কাজে সম্পৃক্ত হন।

বিভাগীয় তদন্ত চলাকালে তিনি লিখিতভাবে বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানায় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে খাস খতিয়ানভুক্ত জমির রশিদ ও দাখিলা প্রদান করে সরকারি জমি বেহাত করতে সহায়তা করার অভিযোগ ওঠে।

বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন,
“বিভাগীয় মামলার শুনানি শেষে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যবস্থা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করবে বলে আমরা আশা করছি।”

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। সরকারি জমি সংরক্ষণ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম রোধে এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন তারা।

ভূমি সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতাদের মতে, দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ভূমি প্রশাসনে সুশাসন নিশ্চিত হবে।