ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
রিমার্কের পথ ধরে কসমেটিকস রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন শামা ওবায়েদ অসুস্থতায় মিডটার্মে অনুপস্থিত হলে জরিমানা, ক্ষুব্ধ বেরোবির শিক্ষার্থীরা ক্যান্সার আক্রান্ত যুবদল নেতার পাশে তারেক রহমান চট্টগ্রামে নিজ বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার রেলওয়ের তিন শীর্ষ পদে রদবদল ধামরাইয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সৎ বাবা গ্রেফতার ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলা: বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে বেরোবিতে মিড সেমিস্টার পরীক্ষা মিস করলে গুনতে হবে জরিমানা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রায়পুরে সড়ক উন্নয়নের নামে ভোগান্তি- থমকে আছে কাজ ইরানে মার্কিন হামলায় ১৮ নিহত, বিয়ের অনুষ্ঠানে হতাহতের ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ

কমিশন ও বিল অনিয়মের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুরের প্রকৌশলী ইকবাল বদলি

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১১:৩৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৪১ Time View

কমিশন ও উন্নয়ন প্রকল্পের বিল নিয়ে অভিযোগের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে বদলি করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. ইকবাল হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ইকবাল হোসেনকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ে কমিশন দাবির অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় ৩৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ এবং নিজ জেলায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের অভিযোগের মধ্যে তাকে বদলি করা হলো।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর দপ্তর থেকে গত ৩১ আগস্ট এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে ইকবাল হোসেনকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে পরশুরামে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘মেসার্স মনোয়ারা এন্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্স’-এর করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই এলজিইডি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে ২৮ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীন সরেজমিনে তদন্তে যান।

অভিযোগ রয়েছে, ওই তদন্তের সময় ইকবাল হোসেন তার এলাকার কয়েকজন পরিচিত ঠিকাদারকে নিয়ে এসে নিজের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে তদন্ত চলাকালে লক্ষ্মীপুরের পিটিআইয়ের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, একাডেমিক ভবন ও মহিলা হোস্টেলের বেশ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকার পরও জুন ক্লোজিংয়ে প্রকল্পটির শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, মসজিদ, কালভার্ট, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ করার পর বিল পেতে কমিশন দিতে হতো।

এ ছাড়া সরকারি নীতিমালায় নিজ জেলায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার পরও ইকবাল হোসেন দীর্ঘ সময় লক্ষ্মীপুরে কর্মরত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ ও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না। অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে শতভাগ বিল পরিশোধ এবং কমিশন দাবির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যাতে তদন্ত ছাড়াই শেষ হয়ে না যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে এলজিইডি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে বদলির বিষয়ে এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে আদেশ এসেছে। অভিযোগ ও তদন্তসংক্রান্ত বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রিমার্কের পথ ধরে কসমেটিকস রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন শামা ওবায়েদ

কমিশন ও বিল অনিয়মের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুরের প্রকৌশলী ইকবাল বদলি

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৩৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. ইকবাল হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ইকবাল হোসেনকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ে কমিশন দাবির অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় ৩৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ এবং নিজ জেলায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের অভিযোগের মধ্যে তাকে বদলি করা হলো।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর দপ্তর থেকে গত ৩১ আগস্ট এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে ইকবাল হোসেনকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে পরশুরামে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘মেসার্স মনোয়ারা এন্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্স’-এর করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই এলজিইডি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে ২৮ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীন সরেজমিনে তদন্তে যান।

অভিযোগ রয়েছে, ওই তদন্তের সময় ইকবাল হোসেন তার এলাকার কয়েকজন পরিচিত ঠিকাদারকে নিয়ে এসে নিজের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে তদন্ত চলাকালে লক্ষ্মীপুরের পিটিআইয়ের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, একাডেমিক ভবন ও মহিলা হোস্টেলের বেশ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকার পরও জুন ক্লোজিংয়ে প্রকল্পটির শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, মসজিদ, কালভার্ট, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ করার পর বিল পেতে কমিশন দিতে হতো।

এ ছাড়া সরকারি নীতিমালায় নিজ জেলায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার পরও ইকবাল হোসেন দীর্ঘ সময় লক্ষ্মীপুরে কর্মরত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ ও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না। অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে শতভাগ বিল পরিশোধ এবং কমিশন দাবির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যাতে তদন্ত ছাড়াই শেষ হয়ে না যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে এলজিইডি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে বদলির বিষয়ে এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে আদেশ এসেছে। অভিযোগ ও তদন্তসংক্রান্ত বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।