
মাদক, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকাসক্ত, মাদক সংরক্ষণকারী ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পক্ষে কোনো ধরনের তদবির বা সুপারিশ করা উচিত নয়। দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিতে হবে।
এ সময় মাদকবিরোধী আইনের শাস্তির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ৫ কোটি টাকা জরিমানা। সরকার দেশকে মাদকমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, একটি জেলায় প্রায় ৭০ ধরনের সরকারি অধিদপ্তর ও প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে জনগণের কল্যাণে কাজ করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
তিনি সরকারি কর্মচারীদের অতীতের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সেবার জন্য নিয়োজিত এবং সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নেন। তাই জনগণকে যথাযথ সেবা দেওয়া তাঁদের দায়িত্ব।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কার্যকর ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সমন্বয়ের তাগিদ
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি সম্ভব বলে মন্তব্য করেন বিমানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।
সভায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও পুনঃখনন এবং পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় বিনামূল্যে বই, স্কুল ব্যাগ ও মিড ডে মিলের পাশাপাশি মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, জনগণ শিক্ষিত হলে দেশের অগ্রগতিও ত্বরান্বিত হবে।
কৃষক কার্ডের আওতায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিগগিরই সারের সংকট দূর হবে।
শেরপুরের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে যা বললেন
শেরপুরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ভারতের মেঘালয় থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা মোকাবিলায় একটি প্রকল্প প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এ ছাড়া ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী ও সোমেশ্বরী নদীর বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব প্রি-একনেক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
শেরপুরকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ঝিনাইগাতীতে একটি হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। সম্মিলিতভাবে কাজ করে শেরপুরের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক চৌধুরী, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন, পুলিশ সুপার এ.কে.এম জহিরুল ইসলামসহ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অধিকার ডেস্কঃ 

























