
নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়গুলো সামনে রেখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো ও অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো।
আগামী ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের আশা, নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন সমাধান সম্পর্কে শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টদের ধারণা দিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা জানান, এবারের প্রদর্শনীতে ১০টি দেশের দেড় শতাধিক ব্র্যান্ড অংশ নেবে। সেখানে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তাই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এবারের প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শন করবে। এর ফলে দর্শনার্থীরা নতুন প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সমাধান সম্পর্কে সরাসরি জানার এবং সেগুলো দেখার সুযোগ পাবেন।
আই-স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মধু সুদন সাহা বলেন, ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপোতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি ও পণ্য তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে থাকবে সার্ভিল্যান্স ও মনিটরিং সিস্টেম, সাইবার সিকিউরিটি, অ্যাকসেস কন্ট্রোল, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি, সিকিউরিটি সফটওয়্যার, নেটওয়ার্কিং সুইচ ও ডিজিটাল ভল্টসহ সরকারি-বেসরকারি খাতের বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও সমাধান।
শিল্প খাত ও প্রযুক্তির সংযোগ
আয়োজকদের মতে, দুটি প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণের ফলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, ডিস্ট্রিবিউটর, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা খাতে নতুন প্রযুক্তি ও সমাধান নিয়ে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
থাকছে সেমিনার ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ
এবারের আয়োজন শুধু পণ্য প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কয়েকটি সেমিনারের আয়োজন করা হবে।
আয়োজকদের দাবি, এসব সেমিনারে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে।
প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা সর্বশেষ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সরাসরি দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা খাতের পরিবর্তনশীল প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়েও বাস্তব ধারণা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
আই-স্টেশন ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো এবং অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপোর আয়োজন করছে। ১৯ সেপ্টেম্বর প্রদর্শনী দুটির সমাপ্তি হবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি 
























