ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

চুয়াডাঙ্গায় মদপানে ৭ মৃত্যুর ৪ মরদেহ উত্তোলন, হবে ময়নাতদন্ত

আবুল হাশেম দামুড়হুদা উপজেলা প্রতিনিধি ,চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় বিষাক্ত মদপানে ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসন পূনরায় কবর থেকে চারজনের মরদেহ উত্তোলন করেছে। এর আগে তিন জনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষ করা হয়েছিল।বাকী চারজনের মরদেহ গোপনে তাদের পরিবার দাফন করেছিল।

মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ও এলাকাবাসীর পাশাপাশি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এসব মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়।এব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশক সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় সদর থানায় ইতোমধ্যেক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে তিন জনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্নক হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে বাকি চারজনের মরদেহ পূনরায় কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।সেগুলো ময়নাতদন্ত করা হবে।উত্তোলন মরদেহ গুলো হলো চুয়াডাঙ্গা সদরের পিরোজখালি গ্রামের নবীছউদ্দিনের ছেলে লাল্টু হোসেন, খেজুরা গ্রামের মৃতক দাউদ আলীর ছেলে সেলিম (৪৫), নফরকান্দি গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে খেদের আলী (৫০) এবং শংকরচন্দ্র গ্রামের শহিদুল মোল্লা।
উল্লেখ্য ৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ বাজার এলাকায় বেশ কয়েকজন মিলে বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেন। এরপর একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যুর পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ নিহতদের বাড়িতে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। এ সময় জানা যায়, নিহতদের মধ্যে চারজনকে গোপনে দাফন করে ফেলেছিল তাদের পরিবারের সদস্যরা। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার ওই চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়।
এদিকে, এই মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিষাক্ত স্পিরিটের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছিল পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১১৭ বোতল মেয়াদোত্তীর্ণ স্পিরিট।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহ থেকে মূল আসামি ফারুক আহমেদ ওরফে ‘এ্যালকো ফারুক ও তার সহযোগী জুমাত আলীকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক স্বীকার করে, সে দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সবিহীনভাবে হোমিও চিকিৎসার নামে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল বিক্রি করে আসছিল এবং চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ দিত।
পুলিশের ধারণা, ফারুকের সরবরাহ করা এই বিষাক্ত স্পিরিট পান করেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

চুয়াডাঙ্গায় মদপানে ৭ মৃত্যুর ৪ মরদেহ উত্তোলন, হবে ময়নাতদন্ত

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৪৫:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

আবুল হাশেম দামুড়হুদা উপজেলা প্রতিনিধি ,চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় বিষাক্ত মদপানে ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসন পূনরায় কবর থেকে চারজনের মরদেহ উত্তোলন করেছে। এর আগে তিন জনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষ করা হয়েছিল।বাকী চারজনের মরদেহ গোপনে তাদের পরিবার দাফন করেছিল।

মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ও এলাকাবাসীর পাশাপাশি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এসব মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়।এব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশক সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় সদর থানায় ইতোমধ্যেক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে তিন জনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্নক হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে বাকি চারজনের মরদেহ পূনরায় কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।সেগুলো ময়নাতদন্ত করা হবে।উত্তোলন মরদেহ গুলো হলো চুয়াডাঙ্গা সদরের পিরোজখালি গ্রামের নবীছউদ্দিনের ছেলে লাল্টু হোসেন, খেজুরা গ্রামের মৃতক দাউদ আলীর ছেলে সেলিম (৪৫), নফরকান্দি গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে খেদের আলী (৫০) এবং শংকরচন্দ্র গ্রামের শহিদুল মোল্লা।
উল্লেখ্য ৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ বাজার এলাকায় বেশ কয়েকজন মিলে বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেন। এরপর একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যুর পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ নিহতদের বাড়িতে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। এ সময় জানা যায়, নিহতদের মধ্যে চারজনকে গোপনে দাফন করে ফেলেছিল তাদের পরিবারের সদস্যরা। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার ওই চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়।
এদিকে, এই মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিষাক্ত স্পিরিটের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছিল পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১১৭ বোতল মেয়াদোত্তীর্ণ স্পিরিট।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহ থেকে মূল আসামি ফারুক আহমেদ ওরফে ‘এ্যালকো ফারুক ও তার সহযোগী জুমাত আলীকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক স্বীকার করে, সে দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সবিহীনভাবে হোমিও চিকিৎসার নামে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল বিক্রি করে আসছিল এবং চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ দিত।
পুলিশের ধারণা, ফারুকের সরবরাহ করা এই বিষাক্ত স্পিরিট পান করেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।