
রিপন আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে দুই সন্তানকে রেখে খালাতো দেবরের সাথে নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন গৃহবধূ সোহাগী। এদিকে গৃহবধূ চলে যাওয়ায় ২ সন্তান নিয়ে কাঁদছেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় রোববার (গত ২১ অক্টোবর) শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী স্বামী রফিকুল ইসলাম। এর আগে, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চককীত্তি ইউনিয়নের মকিমপুর গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে খালাতো দেবর আক্কাশ আলী নামে প্রতিবেশী এক যুবকের সাথে চলে যায় গৃহবধূ সোহাগী বেগম । এমন কান্ডে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সোহাগী বেগমের অনেক দিন থেকে আক্কাশ আলীর সাথে পরকিয়া সম্পর্ক চলছে ,এনিয়ে তার পরিবারের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ ঘটনায় ২০ তারিখ সোমবার টাকা-পয়সা নিয়ে পালানোয় স্বামী ও সন্তানরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চককীত্তি ইউনিয়নের মকিমপুর গ্রামের মোঃ জুলমত আলীর ছেলে আক্কাশ আলীর, সাথে একই এলাকার দুই সন্তানের জননী সোহাগী বেগমের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এর আগেও তাদের পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে সালিশ হয়েছে। গত সোমবার সোহাগী বেগমকে নিয়ে পালিয়ে যান আক্কাশ। পালিয়ে যাওয়ার সময় নগদ ২,৫২০০০/- টাকা নিয়ে গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন, রফিকুল ইসলাম। অভিযোগে আসামি করা হয়, মোঃ আকাশ আলী (৩০), পিতা- মোঃ জুলমাত আলী, ২। মোসাঃ সোহাগী বেগম (৪০), পিতা- মোঃ মোজাম্মিল, ৩। মোঃ জুলমাত আলী (৬০), পিতা- অজ্ঞাত, ৪। মোসাঃ সোখিনা বেগম (৫৫), স্বামী- মোঃ জুলমাত আলীকে।
ওই গৃহবধূর স্বামী রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৫ বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ্ মোতাবেক আমাদের বিয়ে হয়। আমার ২ সন্তান রয়েছে। মেয়ের বয়স সাড়ে ২০ বছর, ছেলের বয়স ১৭ বছর। আমার আমার খালাতো ভাই আক্কাশ আলীর সাথে স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর আগেও তাকে কয়েকবার হাতেনাতে ধরে ছিলাম। দুই সন্তানের কথা ভেবে তাকে মেনে নিয়েছি। এদিকে আমি দোকানে থাকায় গত সোমবার বিকেল ৫ টার সময় আক্কাশ আলীর সাথে ঘর থেকে বের হয়ে যায়, সোহাগী। এ সময় ২,৫২০০০/- হাজার টাকা সহ নিয়ে গিয়েছে। আমার ২ সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আক্কাশ আলীর বাবা, মোঃ জুলমত আলী ও মা সখিনা বেগমকে, ঘটনার বিষয়ে জানিয়ে, কোন প্রতিকার পায়নি। এ ঘটনার সাথে তারাও জড়িত। আক্কাশ আলী, এর আগেও অনেক মহিলার সঙ্গে পরকিয়া করে, টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে।
সোহাগীর ছেলে, আলমাস আলী বলেন, আমার খালাতো চাচা আক্কাশ, কানসাটের একটি হোটেলে, কাজ করেন, মাঝে মধ্যে আমার মোবাইলে, ফোন করে আমার মায়ের সাথে কথা বলত, এ নিয়ে আমাদের পরিবারে ঝামেলা সৃষ্টি হয়, আমি আক্কাশ চাচাকে ফোন দিতে নিষেধ করি, কিন্তু আমার মা আমার ফোন নিয়ে আড়ালে লুকিয়ে আক্কাশ চাচার সাথে কথা বলত, তাদের এই সম্পর্কের কারণে আমাদের পরিবারটা শেষ হয়ে গেল।
তিনি আরও বলেন, আক্কাশ চাচা কানসাট থেকে বাড়ি এসেই আমাদের দোকানে আসতেন, এসে আমকে ও আমার মাকে দোকান থেকে প্রতিদিন, তিন থেকে চারশত টাকা করে সরিয়ে রাখার কুপরামর্শ দিতেন।
মকিমপুর গ্রামের রায়হান আলী নামে এক যুবক বলেন, আক্কাশ আলীর সাথে আমাদের, পরিবারের ঘনিষ্ঠ চলাফেরা ছিল, আমাদের পরিবারে এরকমই একটি ঘটনা ঘটিয়ে, আমাদের পরিবার ধংস করে দিয়েছে।
একই গ্রামের নাজমুল হক জানান, এর আগেও এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছিল। সেগুলো স্থানীয় ভাবে মীমাংসা করা হয়। আজ ও শুনলাম এমন ঘটনা। আসলে আক্কাশ আলী দুশ্চরিত্রবান ছেলে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, এ বিষয়ে খবর পেয়েছি রফিকুলের স্ত্রী চলে গেছে অন্য আরেকজনের সাথে। সে স্ত্রী সহ চার জনের নামে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 















