ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মা আটক- পলাতক বাবা লুট হওয়া জামায়াতের ৯ মোটরসাইকেল বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা রাজধানীর সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেনের ছাদে দুই ব্যক্তি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিনিয়র সাংবাদিক জহির এনসিপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে আর ‘দুই দিন’ সময় লাগতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় যুব দলের দোয়া মাহফিল “স্বেচ্ছায় বিবাহ, তবুও  অপহরণ মামলা-নিরাপত্তা চেয়ে  ইসরাত খাতুন”র সংবাদ সম্মেলন ৮ দল আমাদের আর ৮ দল থাকছে না- আরও অনেক দল জোট করার আবেদন করছে- গোলাম পরওয়ার

রাতভর বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ – ঘরে ঘরে পানি, চরম দুর্ভোগে শহরবাসী

রাতভর টানা বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। শহরের বেশিরভাগ এলাকায় রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট এমনকি সরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও গোড়ালি, কোথাও আবার হাঁটুপানি— শহরজুড়ে এক অচলাবস্থার চিত্র।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি চলে সারারাত। ভোরের আলো ফোটার আগেই আরামবাগ, শান্তিরমোড়, বাতেনখাঁর মোড়, পুরাতন বাজার, নিউমার্কেট, উদয়ন মোড়সহ পৌরসভার প্রায় সব এলাকাতেই পানি জমে যায়। অনেক বাসাবাড়ি ও ছাত্রাবাসে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ রাতভর আতঙ্কে কাটিয়েছে। কেউ কেউ গৃহবন্দি, আবার কারও রান্নাঘর ও টিউবওয়েল ডুবে গেছে পানির নিচে।

আরামবাগের বাসিন্দা সাফিউল ইসলাম বলেন, “এতো বৃষ্টি আগেও হয়েছে, কিন্তু ঘরে পানি কখনো ওঠেনি। এখন ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় সব পানি বাসায় ঢুকে গেছে। ঘরের জিনিসপত্র বাঁচাতেই হিমশিম খেতে হয়েছে।”

শান্তিরমোড়ের পলাশ হোসেন বলেন, “৯৮ সালের বন্যার পর এমন দৃশ্য দেখিনি। এবার বৃষ্টির পানিতেই ঘরে হাঁটুপানি জমে গেছে। ছোট বাচ্চারা ঘরেই আটকা।”
জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরাও।”

নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র শিমুল আলী বলেন, “মেসে পানি ঢুকে বই-খাতা সব ভিজে গেছে। ঘর থেকে পানি বের করতে সারারাত চেষ্টা করেছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভরাট হয়ে যাওয়া নালা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার অচলাবস্থার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই শহর তলিয়ে যায়।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তোফিকুল ইসলাম বলেন, “কয়েকটি এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান থাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মেশিনের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।”

তবে শহরবাসীর দাবি, পৌরসভার অদক্ষ পরিকল্পনা ও অচল ড্রেনই মূল দায়ী। তারা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। রাতের সেই বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর যেন এক নিমজ্জিত নগরীর রূপ নেয়—বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু দুর্ভোগ এখনো শুকোয়নি।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর

রাতভর বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ – ঘরে ঘরে পানি, চরম দুর্ভোগে শহরবাসী

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:১৭:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

রাতভর টানা বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। শহরের বেশিরভাগ এলাকায় রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট এমনকি সরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও গোড়ালি, কোথাও আবার হাঁটুপানি— শহরজুড়ে এক অচলাবস্থার চিত্র।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি চলে সারারাত। ভোরের আলো ফোটার আগেই আরামবাগ, শান্তিরমোড়, বাতেনখাঁর মোড়, পুরাতন বাজার, নিউমার্কেট, উদয়ন মোড়সহ পৌরসভার প্রায় সব এলাকাতেই পানি জমে যায়। অনেক বাসাবাড়ি ও ছাত্রাবাসে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ রাতভর আতঙ্কে কাটিয়েছে। কেউ কেউ গৃহবন্দি, আবার কারও রান্নাঘর ও টিউবওয়েল ডুবে গেছে পানির নিচে।

আরামবাগের বাসিন্দা সাফিউল ইসলাম বলেন, “এতো বৃষ্টি আগেও হয়েছে, কিন্তু ঘরে পানি কখনো ওঠেনি। এখন ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় সব পানি বাসায় ঢুকে গেছে। ঘরের জিনিসপত্র বাঁচাতেই হিমশিম খেতে হয়েছে।”

শান্তিরমোড়ের পলাশ হোসেন বলেন, “৯৮ সালের বন্যার পর এমন দৃশ্য দেখিনি। এবার বৃষ্টির পানিতেই ঘরে হাঁটুপানি জমে গেছে। ছোট বাচ্চারা ঘরেই আটকা।”
জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরাও।”

নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র শিমুল আলী বলেন, “মেসে পানি ঢুকে বই-খাতা সব ভিজে গেছে। ঘর থেকে পানি বের করতে সারারাত চেষ্টা করেছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভরাট হয়ে যাওয়া নালা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার অচলাবস্থার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই শহর তলিয়ে যায়।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তোফিকুল ইসলাম বলেন, “কয়েকটি এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান থাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মেশিনের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।”

তবে শহরবাসীর দাবি, পৌরসভার অদক্ষ পরিকল্পনা ও অচল ড্রেনই মূল দায়ী। তারা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। রাতের সেই বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর যেন এক নিমজ্জিত নগরীর রূপ নেয়—বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু দুর্ভোগ এখনো শুকোয়নি।