ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হাম নিয়ন্ত্রণে আরও ২-৩ মাস সময় লাগতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোর ব্যবস্থা, বললেন তাপস রায় মহাখালী থেকে চুরি হওয়া এনা পরিবহণের বাস মিরপুর বেড়িবাঁধে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ২৭ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শনিবার দ্বিতীয় টেস্ট, ম্যাকাইয়ে অচেনা ভেন্যুর পরীক্ষায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু, অনুমোদনের জন্য ১১ প্রকল্প ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে প্রাইভেটকার, আহত ২ বেগমগঞ্জে ১২ দিনে ৮ জনকে গুলি, এখনো অধরা অস্ত্রধারীরা কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ- ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি

রাতভর বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ – ঘরে ঘরে পানি, চরম দুর্ভোগে শহরবাসী

রাতভর টানা বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। শহরের বেশিরভাগ এলাকায় রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট এমনকি সরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও গোড়ালি, কোথাও আবার হাঁটুপানি— শহরজুড়ে এক অচলাবস্থার চিত্র।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি চলে সারারাত। ভোরের আলো ফোটার আগেই আরামবাগ, শান্তিরমোড়, বাতেনখাঁর মোড়, পুরাতন বাজার, নিউমার্কেট, উদয়ন মোড়সহ পৌরসভার প্রায় সব এলাকাতেই পানি জমে যায়। অনেক বাসাবাড়ি ও ছাত্রাবাসে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ রাতভর আতঙ্কে কাটিয়েছে। কেউ কেউ গৃহবন্দি, আবার কারও রান্নাঘর ও টিউবওয়েল ডুবে গেছে পানির নিচে।

আরামবাগের বাসিন্দা সাফিউল ইসলাম বলেন, “এতো বৃষ্টি আগেও হয়েছে, কিন্তু ঘরে পানি কখনো ওঠেনি। এখন ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় সব পানি বাসায় ঢুকে গেছে। ঘরের জিনিসপত্র বাঁচাতেই হিমশিম খেতে হয়েছে।”

শান্তিরমোড়ের পলাশ হোসেন বলেন, “৯৮ সালের বন্যার পর এমন দৃশ্য দেখিনি। এবার বৃষ্টির পানিতেই ঘরে হাঁটুপানি জমে গেছে। ছোট বাচ্চারা ঘরেই আটকা।”
জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরাও।”

নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র শিমুল আলী বলেন, “মেসে পানি ঢুকে বই-খাতা সব ভিজে গেছে। ঘর থেকে পানি বের করতে সারারাত চেষ্টা করেছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভরাট হয়ে যাওয়া নালা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার অচলাবস্থার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই শহর তলিয়ে যায়।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তোফিকুল ইসলাম বলেন, “কয়েকটি এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান থাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মেশিনের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।”

তবে শহরবাসীর দাবি, পৌরসভার অদক্ষ পরিকল্পনা ও অচল ড্রেনই মূল দায়ী। তারা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। রাতের সেই বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর যেন এক নিমজ্জিত নগরীর রূপ নেয়—বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু দুর্ভোগ এখনো শুকোয়নি।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

হাম নিয়ন্ত্রণে আরও ২-৩ মাস সময় লাগতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

রাতভর বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ – ঘরে ঘরে পানি, চরম দুর্ভোগে শহরবাসী

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:১৭:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

রাতভর টানা বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। শহরের বেশিরভাগ এলাকায় রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট এমনকি সরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও গোড়ালি, কোথাও আবার হাঁটুপানি— শহরজুড়ে এক অচলাবস্থার চিত্র।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি চলে সারারাত। ভোরের আলো ফোটার আগেই আরামবাগ, শান্তিরমোড়, বাতেনখাঁর মোড়, পুরাতন বাজার, নিউমার্কেট, উদয়ন মোড়সহ পৌরসভার প্রায় সব এলাকাতেই পানি জমে যায়। অনেক বাসাবাড়ি ও ছাত্রাবাসে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ রাতভর আতঙ্কে কাটিয়েছে। কেউ কেউ গৃহবন্দি, আবার কারও রান্নাঘর ও টিউবওয়েল ডুবে গেছে পানির নিচে।

আরামবাগের বাসিন্দা সাফিউল ইসলাম বলেন, “এতো বৃষ্টি আগেও হয়েছে, কিন্তু ঘরে পানি কখনো ওঠেনি। এখন ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় সব পানি বাসায় ঢুকে গেছে। ঘরের জিনিসপত্র বাঁচাতেই হিমশিম খেতে হয়েছে।”

শান্তিরমোড়ের পলাশ হোসেন বলেন, “৯৮ সালের বন্যার পর এমন দৃশ্য দেখিনি। এবার বৃষ্টির পানিতেই ঘরে হাঁটুপানি জমে গেছে। ছোট বাচ্চারা ঘরেই আটকা।”
জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরাও।”

নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র শিমুল আলী বলেন, “মেসে পানি ঢুকে বই-খাতা সব ভিজে গেছে। ঘর থেকে পানি বের করতে সারারাত চেষ্টা করেছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভরাট হয়ে যাওয়া নালা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার অচলাবস্থার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই শহর তলিয়ে যায়।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তোফিকুল ইসলাম বলেন, “কয়েকটি এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান থাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মেশিনের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।”

তবে শহরবাসীর দাবি, পৌরসভার অদক্ষ পরিকল্পনা ও অচল ড্রেনই মূল দায়ী। তারা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। রাতের সেই বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর যেন এক নিমজ্জিত নগরীর রূপ নেয়—বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু দুর্ভোগ এখনো শুকোয়নি।