ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

মিড-ডে মিল’ পাবে ৩১ লাখ শিক্ষার্থী

কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে চালু হয়েছে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’। গতকাল শনিবার নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন‌। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থী সপ্তাহে পাঁচদিন ফর্টিফায়েড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ পাবে।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে এই ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, পুষ্টির অভাব ও বিদ্যালয় চলাকালে শিশুদের স্বল্পকালীন ক্ষুধা দূরীকরণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা পড়ালেখায় আরো মনোযোগী হবে এবং বিদ্যালয়ে আসতে আগ্রহী হবে। এতে, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও সহায়তা করবে।

সরকার ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির হার শতকরা ৮০ ভাগের বেশি হবে এবং ঝরেপড়া কমবে। এছাড়া, প্রতি বছর শতকরা ১০ ভাগের বেশি হিসেবে বিদ্যালয়ে প্রকৃত ভর্তির হার বৃদ্ধি পাবে এবং বিদ্যালয়ে শিশুদের ধরে রাখার হার অন্তত ৯৯ শতাংশে উন্নীত হবে। এদিকে, বিদ্যালয়ে শিশুদের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তারা।

কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে উপদেষ্টা নাটোর প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পে মোট পাঁচ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৭ শতাংশ ব্যয়ই বরাদ্দ রাখা হয়েছে খাদ্য সরবরাহের জন্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ১৬৪ কোটি টাকার বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও নানা জটিলতায় পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ, গত সেপ্টেম্বরে চালুর কথা বলা হলেও টেন্ডার জটিলতায় সে আটকে যায়। সব জটিলতা কাটিয়ে গতকাল শনিবার তা চালু হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফ হোসেন, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ডোমেনিকো স্কালপেলি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

মিড-ডে মিল’ পাবে ৩১ লাখ শিক্ষার্থী

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৩৬:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে চালু হয়েছে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’। গতকাল শনিবার নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন‌। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থী সপ্তাহে পাঁচদিন ফর্টিফায়েড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ পাবে।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে এই ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, পুষ্টির অভাব ও বিদ্যালয় চলাকালে শিশুদের স্বল্পকালীন ক্ষুধা দূরীকরণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা পড়ালেখায় আরো মনোযোগী হবে এবং বিদ্যালয়ে আসতে আগ্রহী হবে। এতে, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও সহায়তা করবে।

সরকার ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির হার শতকরা ৮০ ভাগের বেশি হবে এবং ঝরেপড়া কমবে। এছাড়া, প্রতি বছর শতকরা ১০ ভাগের বেশি হিসেবে বিদ্যালয়ে প্রকৃত ভর্তির হার বৃদ্ধি পাবে এবং বিদ্যালয়ে শিশুদের ধরে রাখার হার অন্তত ৯৯ শতাংশে উন্নীত হবে। এদিকে, বিদ্যালয়ে শিশুদের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তারা।

কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে উপদেষ্টা নাটোর প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পে মোট পাঁচ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৭ শতাংশ ব্যয়ই বরাদ্দ রাখা হয়েছে খাদ্য সরবরাহের জন্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ১৬৪ কোটি টাকার বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও নানা জটিলতায় পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ, গত সেপ্টেম্বরে চালুর কথা বলা হলেও টেন্ডার জটিলতায় সে আটকে যায়। সব জটিলতা কাটিয়ে গতকাল শনিবার তা চালু হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফ হোসেন, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ডোমেনিকো স্কালপেলি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।