
৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাবে হেলে পড়া ও ফাটল ধরায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা ফজলুল হক হলের শিক্ষার্থীদের নির্মাণাধীন শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান হলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার সন্ধ্যায় হল প্রাধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নির্মাণাধীন কামারুজ্জামান হলে এখনো পানি, বিদ্যুৎ ও বাথরুমসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তবে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত সংস্কার ও সংযোগ স্থাপনের কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সজীব আহমেদ বলেন, “আগামীকালের মধ্যেই আমাদের নির্মাণাধীন কামারুজ্জামান হলে যেতে বলা হয়েছে। যদিও সেখানে এখনো মৌলিক সুবিধা নেই, তবে জীবন নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে জরুরি। আমরা আশা করি দ্রুত প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা হবে।” আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী হাসান আলী বলেন, “হলের বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনায় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত যথাযথ। আপাতত আমাদের হলে না থাকতে বলা হয়েছে। নতুন হলে কিছু কাজ বাকি থাকলেও কয়েক দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে।” হল প্রাধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণে শিক্ষার্থীদের নতুন হলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ থেকেই শিক্ষার্থীরা সেখানে উঠতে পারবেন। নতুন অ্যালটমেন্টের মাধ্যমে রুম বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দুইজনের রুমে তিনজন থাকতে হতে পারে।” শেরে বাংলা হলকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে হলে থাকতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ এনে ভবনের স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করা হবে। তারপর সংস্কার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।” শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে রাবির শেরে বাংলা হলের পশ্চিমাংশ হেলে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা হলটি ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল কর্তৃপক্ষ এবং রাকসুর প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত নতুন হলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী 









