ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ, শোকের ছায়া শিবগঞ্জজুড়ে ইবির মার্কেটিং বিভাগে নীতিমালা উপেক্ষা করে ডিনকে সভাপতি নিয়োগ নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দু’পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ, আহত ৫ নির্মাণাধীন কালভার্টে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু নোবিপ্রবিতে হলের সিট নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৩; সাংবাদিক হেনস্তা দুই দিনের সফরে কাতার গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীর যেসব রুটে চলবে বিআরটিসির ‘পিংক বাস’ উল্লাপাড়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত, মরদেহ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ বুটেক্সে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ২ জন সাময়িক বহিষ্কার, জরিমানা ৩ জনকে সিলেটে হামে ফের ২ শিশুর মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ১১৫

রাজশাহীতে আগুনে পুড়ল ১৩টি ঘর, ক্ষতি কোটি টাকার বেশি

আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ছবি।

রাজশাহী জেলার চারঘাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মিয়াপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার পরিবারের ১২টি বসতঘর ও একটি কাঠের দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরগুলোতে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, কাগজপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, কাঠের নকশার মেশিনসহ সবকিছু ভস্মীভূত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবার হলো- মুক্তার হোসেনের ছেলে শিশির ও মুস্তাকিন, মুক্তার হোসেনের ভাই মোকবুল এবং আলমের ছেলে কাঠ ব্যবসায়ী বাবু। স্থানীয়রা জানান, ঘুম থেকে উঠে প্রথমে পরিবারের সদস্যরা আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাদের আহ্বানে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।খবর পেয়ে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সবকিছুই পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তিনি আরও বলেন, চার পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা গেছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য শিশির দাবি করেন, তাদের মোট ক্ষয়ক্ষতি দেড় কোটি টাকারও বেশি। তিনি বলেন, “আমরা চারটি পরিবার পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছি। ঘর, দোকান, আসবাব, কাগজপত্র- কিছুই বাঁচানো যায়নি।” অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন, ছয় হাজার টাকা, কম্বল ও শুকনো খাবার প্রদান করা হয়। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতে হঠাৎ আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবার। স্থানীয়রা দ্রুত পুনর্বাসনসহ আরও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ, শোকের ছায়া শিবগঞ্জজুড়ে

রাজশাহীতে আগুনে পুড়ল ১৩টি ঘর, ক্ষতি কোটি টাকার বেশি

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহী জেলার চারঘাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মিয়াপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার পরিবারের ১২টি বসতঘর ও একটি কাঠের দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরগুলোতে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, কাগজপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, কাঠের নকশার মেশিনসহ সবকিছু ভস্মীভূত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবার হলো- মুক্তার হোসেনের ছেলে শিশির ও মুস্তাকিন, মুক্তার হোসেনের ভাই মোকবুল এবং আলমের ছেলে কাঠ ব্যবসায়ী বাবু। স্থানীয়রা জানান, ঘুম থেকে উঠে প্রথমে পরিবারের সদস্যরা আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাদের আহ্বানে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।খবর পেয়ে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সবকিছুই পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তিনি আরও বলেন, চার পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা গেছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য শিশির দাবি করেন, তাদের মোট ক্ষয়ক্ষতি দেড় কোটি টাকারও বেশি। তিনি বলেন, “আমরা চারটি পরিবার পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছি। ঘর, দোকান, আসবাব, কাগজপত্র- কিছুই বাঁচানো যায়নি।” অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন, ছয় হাজার টাকা, কম্বল ও শুকনো খাবার প্রদান করা হয়। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতে হঠাৎ আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবার। স্থানীয়রা দ্রুত পুনর্বাসনসহ আরও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।