ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মা আটক- পলাতক বাবা লুট হওয়া জামায়াতের ৯ মোটরসাইকেল বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা রাজধানীর সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেনের ছাদে দুই ব্যক্তি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিনিয়র সাংবাদিক জহির এনসিপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে আর ‘দুই দিন’ সময় লাগতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় যুব দলের দোয়া মাহফিল “স্বেচ্ছায় বিবাহ, তবুও  অপহরণ মামলা-নিরাপত্তা চেয়ে  ইসরাত খাতুন”র সংবাদ সম্মেলন ৮ দল আমাদের আর ৮ দল থাকছে না- আরও অনেক দল জোট করার আবেদন করছে- গোলাম পরওয়ার

ইসকনের হাতে আইনজীবী হত্যা, ১৮ আসামি এখনো অধরা

ছবি-আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানবন্ধন করে আইনজীবীরা।

চট্টগ্রামে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনের হাতে নির্মমভাবে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও অধরা রয়ে গেছেন মামলার ১৮ জন আসামি। এতে বিচার কাজ যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি নিহতের পরিবারেও ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার শুরুর দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের আইনজীবী ও আলিফের পরিবারের সদস্যরা। একইসাথে এক বছরেও সব আসামি গ্রেপ্তার ও বিচারকাজ শুরু না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে চট্টগ্রাম কোর্টহিলে এক মানবন্ধন করে আইনজীবীরা।মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, আলিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একজন আইনজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করা বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ ও ন্যায়বিচারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক আসামি দ্রুত আইনের আওতায় আসুক। আইনজীবীরা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে।মানবন্ধনে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফজলুল বারীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পিপি এডভোকেট আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, মহানগর পিপি মো. মফিজুল হক ভূঁইয়্যাসহ আইনজীবীরা।আদালত সূত্রে জানা যায়, আলিফ হত্যা মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর মামলাটির দিন ধার্য রয়েছে। এই মামলায় মোট ৩৯ জন আসামি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ জনের বিরুদ্ধেই আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। আসামিদের মধ্যে ২১ জন গ্রেপ্তার আছে আর ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালত মালামাল ক্রোকের আদেশ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছেন।আসামিদের বিষয়ে প্রতিবেদন আসলে মামলাটির বিচার কাজ শুরুর জন্য দায়রা জজ আদালতে বদলি হবে। সেখানে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হবে।গত বছরের ২৬ নভেম্বর তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নগরের আদালত চত্বরের অদূরে রঙ্গম কনভেনশন হলের গলিতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিন বহিষ্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে আদালতে তোলা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে তার অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। নেদিন ঘটনার একপর্যায়ে ইসকন সদস্য ও চিন্ময় অনুসারীরা মসজিদ, আদালত, দোকানপাট, গাড়ি ভাঙচুর করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আইনজীবীদের সাথে সংঘর্ষ হয়। এসময় আলিফকে হত্যা করা হয়।সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ও আলিফের বন্ধু মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, এই মামলাটি অন্য দশটি সাধারণ মামলার মতোই চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই মামলাটি এখনও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়নি। আলিফ হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় রাস্ট্রের তৎপরতায় আমি হতাশ ও ক্ষুব্ধ। আমাদের সহকর্মীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল, পুরো বিশ্ব দেখেছে। এক বছর হয়ে গেলেও এখন বিচার কাজ শুরু হয়নি।

তিনি আরও বলেন, মামলার চার্জ গঠনের আগে যেসব প্রসিডিউর আছে সেগুলো চলমান। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা, হুলিয়া ক্রোকি ইস্যু করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর ধার্য দিনে হয়তো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির জন্য আদেশ হবে। এরপর আদালত মামলাটির বিচারের দিন ধার্যের জন্য একটি দিন ঠিক করবেন। আমাদের দাবি মামলাটি দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত বিচারে পাঠানো হোক এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হোক।জানা যায়, আলিফ হত্যার ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় ও আদালতে মোট সাতটি মামলা হয়। এগুলো হলো, পুলিশ বাদী হয়ে ৭৯ জনের নামে তিনটি, আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নামে একটি (হত্যা মামলা) ও তার ভাই বাদী হয়ে ১১৬ জনের নামে একটি ও মোহাম্মদ উল্লাহ নামে এক ব্যবসায়ী ২৯ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া মো. এনামুল হক নামে একজন বাদী হয়ে ১৬৪ জনের নামে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী বলেন, আলিফ হত্যার বিচার ধীরগতিতে চলছে। এ মামলাটি দ্রুত শেষ হওয়া প্রয়োজন। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচার করতে সরকার আবেদন করতে পারে। অন্যথায় আমরা আবেদন করব। তিনি বলেন, আলিফের প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আমরা মানববন্ধন করে সেখানেও একই দাবি জানিয়েছি। সেইসাথে স্মরণ-সভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর

ইসকনের হাতে আইনজীবী হত্যা, ১৮ আসামি এখনো অধরা

প্রকাশের সময়ঃ ১১:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনের হাতে নির্মমভাবে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও অধরা রয়ে গেছেন মামলার ১৮ জন আসামি। এতে বিচার কাজ যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি নিহতের পরিবারেও ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার শুরুর দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের আইনজীবী ও আলিফের পরিবারের সদস্যরা। একইসাথে এক বছরেও সব আসামি গ্রেপ্তার ও বিচারকাজ শুরু না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে চট্টগ্রাম কোর্টহিলে এক মানবন্ধন করে আইনজীবীরা।মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, আলিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একজন আইনজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করা বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ ও ন্যায়বিচারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক আসামি দ্রুত আইনের আওতায় আসুক। আইনজীবীরা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে।মানবন্ধনে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফজলুল বারীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পিপি এডভোকেট আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, মহানগর পিপি মো. মফিজুল হক ভূঁইয়্যাসহ আইনজীবীরা।আদালত সূত্রে জানা যায়, আলিফ হত্যা মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর মামলাটির দিন ধার্য রয়েছে। এই মামলায় মোট ৩৯ জন আসামি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ জনের বিরুদ্ধেই আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। আসামিদের মধ্যে ২১ জন গ্রেপ্তার আছে আর ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালত মালামাল ক্রোকের আদেশ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছেন।আসামিদের বিষয়ে প্রতিবেদন আসলে মামলাটির বিচার কাজ শুরুর জন্য দায়রা জজ আদালতে বদলি হবে। সেখানে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হবে।গত বছরের ২৬ নভেম্বর তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নগরের আদালত চত্বরের অদূরে রঙ্গম কনভেনশন হলের গলিতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিন বহিষ্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে আদালতে তোলা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে তার অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। নেদিন ঘটনার একপর্যায়ে ইসকন সদস্য ও চিন্ময় অনুসারীরা মসজিদ, আদালত, দোকানপাট, গাড়ি ভাঙচুর করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আইনজীবীদের সাথে সংঘর্ষ হয়। এসময় আলিফকে হত্যা করা হয়।সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ও আলিফের বন্ধু মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, এই মামলাটি অন্য দশটি সাধারণ মামলার মতোই চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই মামলাটি এখনও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়নি। আলিফ হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় রাস্ট্রের তৎপরতায় আমি হতাশ ও ক্ষুব্ধ। আমাদের সহকর্মীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল, পুরো বিশ্ব দেখেছে। এক বছর হয়ে গেলেও এখন বিচার কাজ শুরু হয়নি।

তিনি আরও বলেন, মামলার চার্জ গঠনের আগে যেসব প্রসিডিউর আছে সেগুলো চলমান। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা, হুলিয়া ক্রোকি ইস্যু করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর ধার্য দিনে হয়তো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির জন্য আদেশ হবে। এরপর আদালত মামলাটির বিচারের দিন ধার্যের জন্য একটি দিন ঠিক করবেন। আমাদের দাবি মামলাটি দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত বিচারে পাঠানো হোক এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হোক।জানা যায়, আলিফ হত্যার ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় ও আদালতে মোট সাতটি মামলা হয়। এগুলো হলো, পুলিশ বাদী হয়ে ৭৯ জনের নামে তিনটি, আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নামে একটি (হত্যা মামলা) ও তার ভাই বাদী হয়ে ১১৬ জনের নামে একটি ও মোহাম্মদ উল্লাহ নামে এক ব্যবসায়ী ২৯ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া মো. এনামুল হক নামে একজন বাদী হয়ে ১৬৪ জনের নামে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী বলেন, আলিফ হত্যার বিচার ধীরগতিতে চলছে। এ মামলাটি দ্রুত শেষ হওয়া প্রয়োজন। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচার করতে সরকার আবেদন করতে পারে। অন্যথায় আমরা আবেদন করব। তিনি বলেন, আলিফের প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আমরা মানববন্ধন করে সেখানেও একই দাবি জানিয়েছি। সেইসাথে স্মরণ-সভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে।