ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মা আটক- পলাতক বাবা লুট হওয়া জামায়াতের ৯ মোটরসাইকেল বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা রাজধানীর সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেনের ছাদে দুই ব্যক্তি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিনিয়র সাংবাদিক জহির এনসিপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে আর ‘দুই দিন’ সময় লাগতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় যুব দলের দোয়া মাহফিল “স্বেচ্ছায় বিবাহ, তবুও  অপহরণ মামলা-নিরাপত্তা চেয়ে  ইসরাত খাতুন”র সংবাদ সম্মেলন ৮ দল আমাদের আর ৮ দল থাকছে না- আরও অনেক দল জোট করার আবেদন করছে- গোলাম পরওয়ার

আগাম আলু চাষে ফুলবাড়ীতে কৃষকের মুখে হাসি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। আগাম আলুর বেশি দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। আগাম আলুর বেশি দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।জানা গেছে, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাঠে মাঠে চলছে আলু তোলার ধুম । বাজারে নতুন আলুর চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় আলু চাষিদের মুখে ফুটেছে হাসি। ক্ষেত থেকেই প্রতিকেজি আলু জাতভেদে ৬২ থেকে ৬৫ টাকায় কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা। এতে কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই লাভবান হচ্ছেন কৃষক। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে আগাম আলু। উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হচ্ছে ৭৫০ হেক্টর জমিতে।উপজেলার চাষিরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমি প্রস্তুত করে আগাম আলুর আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৫৫-৬০ দিনের মধ্যেই আলু উত্তোলন করে বাজারজাত করা যায়। অল্প সময়ে অধিক লাভ হয় এবং আলু তোলার পর একই জমিতে সময়মতো ভুট্টাও রোপণ করা যায় বলে আগাম জাতের আলু চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।সোমবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে গ্রামের নারী শ্রমিকরা দল বেঁধে আলু তুলছেন। পুরুষ শ্রমিকরা কোদালের সাহায্যে আলুর বেড আলগা করে দিচ্ছেন। আলু তোলার পর বস্তাজাত করছেন তারা। উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামের কৃষক বাবলু সরকার জানান, তিনি চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে চার বিঘা জমিতে আগাম জাতের ক্যারেজ আলু চাষ করেছেন। ওই সময় বীজ আলু ১৫-১৭ টাকা কেজি করে কিনে রোপণ করেন। মাত্র ৫৯ দিনেই আলু উত্তোলন করছেন। ক্ষেত থেকে পাইকাররা ৬২ টাকা কেজি হিসেবে আলু নিয়ে যাচ্ছে। বাজার দর এমন থাকলে গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।অপরদিকে আমডুঙ্গীহাট গ্রামের আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে সাত বিঘা জমিতে ক্যারেজ জাতের আলু চাষ করেছেন। এবার বীজ আলুর দাম কম থাকায় আলু চাষে ব্যয় কম হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিকে কিছুটা ক্ষতি হলেও লোকসান হবে না। পাইকাররা ৬৫ টাকা দরে আলু ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।গঙ্গপ্রসাদ গ্রামের আক্তারুল ইসলাম বলেন, তিনি চার বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করেছেন। এবার আলু রোপণের পর সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় তার কিছু আলুর ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত উত্তোলনকৃত আলু ৬৫ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি করছেন। লাভের হিসেবে এখনো কষেননি। কোনো লোকসান হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।কথা হয় আলুরডাঙ্গা গ্রামে ক্ষেত থেকে আলু কিনতে আসা রবিউল ইসলাম ও মনিছুর রহমানের সঙ্গে। তারা বলেন, সবেমাত্র কৃষকরা আলু তোলতে শুরু করেছেন। তারা পাইকারি কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। আগাম ক্যারেজ জাতের আলু ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি হিসেবে কিনছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই এলাকায় পুরো দমে শুরু হবে আলু উত্তোলন। তখন তারা প্রতিদিন ট্রাকে করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে আলু পাঠাবেন।এদিকে সোমবার ফুলবাড়ী পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি হিসেবে। আর নতুন আলু ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি হিসেবে।বাজারে সবজি বিক্রেতা মমতাজ ও সেলিম বলেন, এবার আলুর দাম গত বছরের চেয়ে কম। কারণ এখনো পুরাতন আলু ১২ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই রকম সময় নতুন আলু ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, সেখানে এবার ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।শফিকুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতা বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার পুরাতন আলুর দাম অনেক কম । তাই নতুন আলুর দাম গতবারের মতো নেই। তিনি বলেন, গত বছর এই রকম সময়ে পুরাতন আলু ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সেখানে এবার ১২ টাকা থেকে ২৫ টাকা। আর নতুন আলু গতবার ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এবার ৭০-৭৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এখন সবেমাত্র আলু তোলা শুরু হয়েছে। সপ্তাহখানেক পর পুরোদমে আলু উঠবে, তখন আরো দাম কমে যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ বলেন, এ বছর ফুলবাড়ী উপজেলায় ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ১২০ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলার আগাম আলু চাষিরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। গত বছর উপজেলায় ৭২০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ হলেও এ বছর তা হয়েছে ৭৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের চেয়ে নতুন আলুর দাম কম হলেও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবার কৃষক ভালো দাম পাচ্ছেন এবং লাভবান হচ্ছেন। ফলে তারা আগাম আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর

আগাম আলু চাষে ফুলবাড়ীতে কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। আগাম আলুর বেশি দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।জানা গেছে, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাঠে মাঠে চলছে আলু তোলার ধুম । বাজারে নতুন আলুর চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় আলু চাষিদের মুখে ফুটেছে হাসি। ক্ষেত থেকেই প্রতিকেজি আলু জাতভেদে ৬২ থেকে ৬৫ টাকায় কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা। এতে কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই লাভবান হচ্ছেন কৃষক। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে আগাম আলু। উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হচ্ছে ৭৫০ হেক্টর জমিতে।উপজেলার চাষিরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমি প্রস্তুত করে আগাম আলুর আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৫৫-৬০ দিনের মধ্যেই আলু উত্তোলন করে বাজারজাত করা যায়। অল্প সময়ে অধিক লাভ হয় এবং আলু তোলার পর একই জমিতে সময়মতো ভুট্টাও রোপণ করা যায় বলে আগাম জাতের আলু চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।সোমবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে গ্রামের নারী শ্রমিকরা দল বেঁধে আলু তুলছেন। পুরুষ শ্রমিকরা কোদালের সাহায্যে আলুর বেড আলগা করে দিচ্ছেন। আলু তোলার পর বস্তাজাত করছেন তারা। উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামের কৃষক বাবলু সরকার জানান, তিনি চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে চার বিঘা জমিতে আগাম জাতের ক্যারেজ আলু চাষ করেছেন। ওই সময় বীজ আলু ১৫-১৭ টাকা কেজি করে কিনে রোপণ করেন। মাত্র ৫৯ দিনেই আলু উত্তোলন করছেন। ক্ষেত থেকে পাইকাররা ৬২ টাকা কেজি হিসেবে আলু নিয়ে যাচ্ছে। বাজার দর এমন থাকলে গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।অপরদিকে আমডুঙ্গীহাট গ্রামের আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে সাত বিঘা জমিতে ক্যারেজ জাতের আলু চাষ করেছেন। এবার বীজ আলুর দাম কম থাকায় আলু চাষে ব্যয় কম হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিকে কিছুটা ক্ষতি হলেও লোকসান হবে না। পাইকাররা ৬৫ টাকা দরে আলু ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।গঙ্গপ্রসাদ গ্রামের আক্তারুল ইসলাম বলেন, তিনি চার বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করেছেন। এবার আলু রোপণের পর সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় তার কিছু আলুর ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত উত্তোলনকৃত আলু ৬৫ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি করছেন। লাভের হিসেবে এখনো কষেননি। কোনো লোকসান হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।কথা হয় আলুরডাঙ্গা গ্রামে ক্ষেত থেকে আলু কিনতে আসা রবিউল ইসলাম ও মনিছুর রহমানের সঙ্গে। তারা বলেন, সবেমাত্র কৃষকরা আলু তোলতে শুরু করেছেন। তারা পাইকারি কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। আগাম ক্যারেজ জাতের আলু ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি হিসেবে কিনছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই এলাকায় পুরো দমে শুরু হবে আলু উত্তোলন। তখন তারা প্রতিদিন ট্রাকে করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে আলু পাঠাবেন।এদিকে সোমবার ফুলবাড়ী পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি হিসেবে। আর নতুন আলু ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি হিসেবে।বাজারে সবজি বিক্রেতা মমতাজ ও সেলিম বলেন, এবার আলুর দাম গত বছরের চেয়ে কম। কারণ এখনো পুরাতন আলু ১২ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই রকম সময় নতুন আলু ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, সেখানে এবার ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।শফিকুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতা বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার পুরাতন আলুর দাম অনেক কম । তাই নতুন আলুর দাম গতবারের মতো নেই। তিনি বলেন, গত বছর এই রকম সময়ে পুরাতন আলু ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সেখানে এবার ১২ টাকা থেকে ২৫ টাকা। আর নতুন আলু গতবার ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এবার ৭০-৭৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এখন সবেমাত্র আলু তোলা শুরু হয়েছে। সপ্তাহখানেক পর পুরোদমে আলু উঠবে, তখন আরো দাম কমে যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ বলেন, এ বছর ফুলবাড়ী উপজেলায় ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ১২০ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলার আগাম আলু চাষিরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। গত বছর উপজেলায় ৭২০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ হলেও এ বছর তা হয়েছে ৭৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের চেয়ে নতুন আলুর দাম কম হলেও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবার কৃষক ভালো দাম পাচ্ছেন এবং লাভবান হচ্ছেন। ফলে তারা আগাম আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।