
পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতসহ চারজনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ২৭ নভেম্বর সিআইডির আর্থিক অপরাধ ইউনিট এই মামলা দায়ের করে।গুলশান থানার মামলার নম্বর-৫১। জালিয়াতির মাধ্যমে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা উপার্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে আসে, নাফিস সরাফাত ও তার সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম ২০০৮ সালে রেইস ম্যানেজমেন্ট পিএসিএল নামে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি একাধিক মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনার দায়িত্ব পায়। তবে এসব ফান্ডকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তদন্তে পাওয়া যায়।অভিযোগে বলা হয়, সরাফাত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও ইমাম ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় করেন এবং পর্ষদে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন। পরে কৌশলে সরাফাত তার স্ত্রীকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদেও বসান।এ ছাড়া ফান্ডের অর্থ দিয়ে মাল্টি সিকিউরিটিজ নামে ব্রোকার হাউস কেনা হয় এবং এর লেনদেন লাইসেন্স ব্যবহার করে বিপুল টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে সিআইডির দাবি। একইভাবে পদ্মা ব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করে স্ট্র্যাটেজিক ইকুইটি নামে ফান্ড এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার তথ্যও মিলেছে।
বিদেশি ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য
সিআইডি জানায়, নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী ও সন্তানের নামে দেশে–বিদেশে মোট ৭৮টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে, যাতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১,৮০৯ কোটি টাকা। বর্তমানে তাদের নামে দেশে ২১টি সক্রিয় হিসাবে রয়েছে মাত্র ২৯.২১ লাখ টাকা, তবে বিদেশে কানাডা, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে বহু ব্যাংক হিসাবের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।তাদের নামে কানাডাভিত্তিক কানাডিয়ান ম্যাপল স্ট্র্যাটেজিক ওয়েলথ এলপি, রেইস ম্যানেজমেন্ট–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে নিবন্ধিত ব্লু ওশান সাপ্লাই লিমিটেড, লহোটসে সামিট ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড–এর তথ্যও নিশ্চিত করেছে সিআইডি। দুবাইয়ে তাদের নামে ফ্ল্যাট ও ভিলার খবরও পাওয়া গেছে। ড. হাসান তাহের ইমামের মালিকানাধীন সিঙ্গাপুরভিত্তিক নেক্সট ফ্রন্টিয়ার্স ফান্ড পিটিই লিমিটেড–এর বিদেশি ব্যাংক হিসাব পরিচালনার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলাপ্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার বেশি অর্থ অর্জন করে তা পাচার করা হয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)–এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। রাষ্ট্রের অর্থপাচার রোধ ও আর্থিক স্বার্থ সংরক্ষণে সিআইডির এ ধরনের অভিযান চলমান আছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্কঃ 









