ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

সিডনির হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র আইন কঠোর করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বিখ্যাত বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে ইহুদি ধর্মীয় এক অনুষ্ঠানে ১৫ জনকে হত্যার অভিযোগে এক বাবা ও তার ছেলেকে গণগুলিবর্ষণের জন্য দায়ী করেছে পুলিশ। এই ঘটনা অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শোক পালন শুরু হওয়ার মধ্যে সোমবার, দেশটি আরো কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই ঘটনার পর, প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র আইনগুলোর মধ্যে থাকা অস্ট্রেলিয়ার আইনগুলো নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজন আছে কি না। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন বয়স্ক ব্যক্তি ২০১৫ সাল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী ছিলেন এবং তার নামে ছয়টি নিবন্ধিত অস্ত্র ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অন্তনি আলবানিজ বলেন, মন্ত্রিসভা আগ্নেয়াস্ত্র আইন আরও শক্তিশালী করতে এবং জাতীয় স্তরে একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিবন্ধনব্যবস্থা গড়ে তুলতে একমত হয়েছে। এতে লাইসেন্সের আওতায় কতটি অস্ত্র রাখা যাবে এবং লাইসেন্সের মেয়াদ কতদিন থাকবে—এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আলবানিজ, তিনি বলেন, “মানুষের পরিস্থিতি বদলাতে পারে। সময়ের সঙ্গে মানুষ উগ্রপন্থায় ঝুঁকে পড়তে পারে। তাই লাইসেন্স চিরস্থায়ী হতে পারে না।”

পুলিশ জানায়, দুজন বন্দুকধারীর মধ্যে ৫০ বছর বয়সী বাবা ঘটনাস্থলেই নিহত হন, ফলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জনে। তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, হামলার পর হাসপাতালে নেওয়া ৪০ জনের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্যের অবস্থাও গুরুতর হলেও স্থিতিশীল।

নিহত ও আহতদের বয়স ১০ থেকে ৮৭ বছরের মধ্যে। পুলিশ সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ করেনি, তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, তাদের একজন কর্তৃপক্ষের কাছে পরিচিত ছিলেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের কমিশনার মাল লানইয়ন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা উভয় ব্যক্তির পটভূমি খতিয়ে দেখছি। এই পর্যায়ে তাদের সম্পর্কে আমরা খুব কমই জানি।”

জাতীয় সম্প্রচারক এবিসি এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের নাম সাজিদ আকরাম এবং তার ছেলে নাভিদ আকরাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বারক জানান, বাবা ১৯৯৮ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসেন, আর ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী নাগরিক।

পুলিশ অস্ত্রগুলোর বিস্তারিত জানায়নি, তবে ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, তারা যে অস্ত্র ব্যবহার করেছেন তা বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল ও শটগানের মতো। এবিসি নিউজ জানায়, বন্দুকধারীদের গাড়ি থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের দুটি পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে, তবে কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।

অলবানিজ বলেন, “বিবেচনাধীন ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে—লাইসেন্সের মেয়াদ সীমিত করা, একজন ব্যক্তির হাতে থাকা অস্ত্রের সংখ্যা ও বৈধ অস্ত্রের ধরন (পরিবর্তনসহ) সীমিত করা এবং কেবল অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের জন্য পারমিট সীমাবদ্ধ রাখা।”

জনপ্রিয় সংবাদ

সিডনির হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র আইন কঠোর করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশের সময়ঃ ০১:১০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বিখ্যাত বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে ইহুদি ধর্মীয় এক অনুষ্ঠানে ১৫ জনকে হত্যার অভিযোগে এক বাবা ও তার ছেলেকে গণগুলিবর্ষণের জন্য দায়ী করেছে পুলিশ। এই ঘটনা অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শোক পালন শুরু হওয়ার মধ্যে সোমবার, দেশটি আরো কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই ঘটনার পর, প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র আইনগুলোর মধ্যে থাকা অস্ট্রেলিয়ার আইনগুলো নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজন আছে কি না। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন বয়স্ক ব্যক্তি ২০১৫ সাল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী ছিলেন এবং তার নামে ছয়টি নিবন্ধিত অস্ত্র ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অন্তনি আলবানিজ বলেন, মন্ত্রিসভা আগ্নেয়াস্ত্র আইন আরও শক্তিশালী করতে এবং জাতীয় স্তরে একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিবন্ধনব্যবস্থা গড়ে তুলতে একমত হয়েছে। এতে লাইসেন্সের আওতায় কতটি অস্ত্র রাখা যাবে এবং লাইসেন্সের মেয়াদ কতদিন থাকবে—এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আলবানিজ, তিনি বলেন, “মানুষের পরিস্থিতি বদলাতে পারে। সময়ের সঙ্গে মানুষ উগ্রপন্থায় ঝুঁকে পড়তে পারে। তাই লাইসেন্স চিরস্থায়ী হতে পারে না।”

পুলিশ জানায়, দুজন বন্দুকধারীর মধ্যে ৫০ বছর বয়সী বাবা ঘটনাস্থলেই নিহত হন, ফলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জনে। তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, হামলার পর হাসপাতালে নেওয়া ৪০ জনের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্যের অবস্থাও গুরুতর হলেও স্থিতিশীল।

নিহত ও আহতদের বয়স ১০ থেকে ৮৭ বছরের মধ্যে। পুলিশ সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ করেনি, তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, তাদের একজন কর্তৃপক্ষের কাছে পরিচিত ছিলেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের কমিশনার মাল লানইয়ন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা উভয় ব্যক্তির পটভূমি খতিয়ে দেখছি। এই পর্যায়ে তাদের সম্পর্কে আমরা খুব কমই জানি।”

জাতীয় সম্প্রচারক এবিসি এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের নাম সাজিদ আকরাম এবং তার ছেলে নাভিদ আকরাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বারক জানান, বাবা ১৯৯৮ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসেন, আর ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী নাগরিক।

পুলিশ অস্ত্রগুলোর বিস্তারিত জানায়নি, তবে ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, তারা যে অস্ত্র ব্যবহার করেছেন তা বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল ও শটগানের মতো। এবিসি নিউজ জানায়, বন্দুকধারীদের গাড়ি থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের দুটি পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে, তবে কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।

অলবানিজ বলেন, “বিবেচনাধীন ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে—লাইসেন্সের মেয়াদ সীমিত করা, একজন ব্যক্তির হাতে থাকা অস্ত্রের সংখ্যা ও বৈধ অস্ত্রের ধরন (পরিবর্তনসহ) সীমিত করা এবং কেবল অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের জন্য পারমিট সীমাবদ্ধ রাখা।”