ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

মেডিকেল কলেজে চান্স পেল দুই যমজ বোন

কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় যমজ দুই বোন ফাবিহা জামান মিহা ও লামিসা জামান লিহা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সাফল্য অর্জন করেছেন। মিহা ৮১.৭৫ নম্বর পেয়ে জাতীয় মেধা তালিকায় ৮৭৩তম স্থান অর্জন করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন, আর লিহা ৭৫ নম্বর পেয়ে জাতীয় মেধা তালিকায় ৪৬৭৫তম হয়ে নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে চান্স পান। একসাথে উত্তীর্ণ হওয়ায় তারা এলাকায় আনন্দ ও গর্বের স্রোত সৃষ্টি করেছেন।

মেধাবী এই দুই বোন বর্তমানে ময়মনসিংহের বাউন্ডারী রোডে বসবাস করছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার ভাটি সাভার গ্রামে।

তাদের বাবা ডা. এম. কামরুজ্জামান মানিক, সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিক সার্জারি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং মা তসলিমা বেগম লাভলী, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, রসায়ন বিভাগ, নাসিরাবাদ কলেজ, ময়মনসিংহে কর্মরত।

মিহা ও লিহা ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এসএসসি-২০২৩ পরীক্ষায় মিহা ১২৪৭ ও লিহা ১২৪১ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এইচএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় মিহা ১১৯২ ও লিহা ১১৮৫ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন। উভয় পরীক্ষাতেই তারা মেধাবৃত্তি লাভ করেন।

ডা. এম. কামরুজ্জামান মানিক বলেন, “আমি যেহেতু ডাক্তার, তাই তাদের এই সাফল্য শুধু পরিবারের নয়, পুরো নান্দাইলবাসীর। তাদের অর্জন আশপাশের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হবে। আমরা আশা করি, তারা ভবিষ্যতে মানবিক চিকিৎসক হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবে।” তিনি আরও বলেন, “মেয়েদের এই সাফল্যের পিছনে তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষিকার নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”

মায়ের দিক থেকে তসলিমা বেগম লাভলী বলেন, “মেয়েদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে, আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করি। তারা যেন আজীবন মানবিক গুণাবলি ধারণ করে, কারণ ডাক্তারি পেশায় মানবতা অপরিহার্য।”

মিহা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মানবিক ডাক্তার হয়ে পরিবার, দেশ ও মানুষের সেবা করতে চাই।” লিহা বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি ডাক্তার হয়ে বাবার মতো মানুষের সেবা করতে চাই।”

মিহা ও লিহার এই অসাধারণ অর্জনে ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, ময়মনসিংহের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আবু হায়াত মো. রীশাদ মোরশেদ বলেন, “যমজ দুই বোন একই পরিবারের হয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, যা আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য এক গৌরবের মুহূর্ত। এটি প্রমাণ করে, অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে অসাধ্য কিছুই নয়। আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”

জনপ্রিয় সংবাদ

মেডিকেল কলেজে চান্স পেল দুই যমজ বোন

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় যমজ দুই বোন ফাবিহা জামান মিহা ও লামিসা জামান লিহা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সাফল্য অর্জন করেছেন। মিহা ৮১.৭৫ নম্বর পেয়ে জাতীয় মেধা তালিকায় ৮৭৩তম স্থান অর্জন করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন, আর লিহা ৭৫ নম্বর পেয়ে জাতীয় মেধা তালিকায় ৪৬৭৫তম হয়ে নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে চান্স পান। একসাথে উত্তীর্ণ হওয়ায় তারা এলাকায় আনন্দ ও গর্বের স্রোত সৃষ্টি করেছেন।

মেধাবী এই দুই বোন বর্তমানে ময়মনসিংহের বাউন্ডারী রোডে বসবাস করছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার ভাটি সাভার গ্রামে।

তাদের বাবা ডা. এম. কামরুজ্জামান মানিক, সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিক সার্জারি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং মা তসলিমা বেগম লাভলী, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, রসায়ন বিভাগ, নাসিরাবাদ কলেজ, ময়মনসিংহে কর্মরত।

মিহা ও লিহা ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এসএসসি-২০২৩ পরীক্ষায় মিহা ১২৪৭ ও লিহা ১২৪১ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এইচএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় মিহা ১১৯২ ও লিহা ১১৮৫ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন। উভয় পরীক্ষাতেই তারা মেধাবৃত্তি লাভ করেন।

ডা. এম. কামরুজ্জামান মানিক বলেন, “আমি যেহেতু ডাক্তার, তাই তাদের এই সাফল্য শুধু পরিবারের নয়, পুরো নান্দাইলবাসীর। তাদের অর্জন আশপাশের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হবে। আমরা আশা করি, তারা ভবিষ্যতে মানবিক চিকিৎসক হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবে।” তিনি আরও বলেন, “মেয়েদের এই সাফল্যের পিছনে তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষিকার নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”

মায়ের দিক থেকে তসলিমা বেগম লাভলী বলেন, “মেয়েদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে, আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করি। তারা যেন আজীবন মানবিক গুণাবলি ধারণ করে, কারণ ডাক্তারি পেশায় মানবতা অপরিহার্য।”

মিহা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মানবিক ডাক্তার হয়ে পরিবার, দেশ ও মানুষের সেবা করতে চাই।” লিহা বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি ডাক্তার হয়ে বাবার মতো মানুষের সেবা করতে চাই।”

মিহা ও লিহার এই অসাধারণ অর্জনে ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, ময়মনসিংহের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আবু হায়াত মো. রীশাদ মোরশেদ বলেন, “যমজ দুই বোন একই পরিবারের হয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, যা আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য এক গৌরবের মুহূর্ত। এটি প্রমাণ করে, অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে অসাধ্য কিছুই নয়। আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”