উত্তরের জেলা নওগাঁয় জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। কুয়াশায় পথ-ঘাট ঢাকা পড়েছে। যানবাহনকে চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। নিম্নচাপের সময়ের মতো ঝিরঝির করে ঝরছে শিশির। শীত বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাকারের তথ্যমতে, জেলায় আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে গতকাল ছিল ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত এক সপ্তাহ ধরে ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও তাতে থাকে না তীব্রতা। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর থেকে হালকা হিমেল বাতাস শীতকে বাড়িয়ে তুলছে কয়েকগুণ। সঙ্গে ঘন কুয়াশায় পথঘাটসহ ঢাকা পড়েছে প্রকৃতি। যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
প্রচণ্ড শীতে মানুষ সকালে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। পথঘাট অনেকটা ফাঁকা। আয়ে ভাটা পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের। তবে শহরের তুলনায় গ্রামে শীত একটু বেশি অনুভুব হচ্ছে। সকালে শীতের পোশাক গায়ে জড়িয়ে কাজে বের হতে হচ্ছে শ্রমজীবীদের। আবহাওয়া পরিবর্তনে সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। মানুষ ছাড়াও কষ্ট পাচ্ছে পশুপাখি।
অটোরিকশা চালক সোহেল হোসেন বলেন, প্রচণ্ড শীত পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সকালে রিকশা নিয়ে বের হওয়া যাচ্ছে না। ঠাণ্ডায় সকাল ১০টার পর বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও ৮০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা আয় হতো। এখন আয় হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের টেলিপ্রম্পটার অপারেটর আরমান হোসেন বলেন, সূর্যের তীব্রতা না থাকাই শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। আজ (শনিবার) জেলায় সকাল ৯টা পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা কেমন থাকবে- তা এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।