ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

পরিবেশ ধ্বংসের কারখানায় অভিযান- ৯ টি অবৈধ ইটভাটায় জরিমানা ৩২ লাখ টাকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে ৯টি ইটভাটায় একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কর হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আম-ফলজ সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। জেলার সদর উপজেলার বারোঘরিয়া এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ৯টি ইটভাটায় একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
০৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স, জেলা আনসার ও র্যাব-৫ এর সার্বিক সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর বিভিন্ন ধারায় ৯টি মামলায় মোট ৩২ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করে তা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে ৮টি ইটভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ৩টি ইটভাটার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সহকারী সচিব) মিজ্ প্রিয়াংকা দাস, পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়, বগুড়া। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আবু সাঈদসহ দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পরিবেশ ও আম-ফল উৎপাদনে ভয়াবহ ক্ষতি পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এসব অবৈধ ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও আমবাগানের নিকট স্থাপিত হয়ে বিষাক্ত ধোঁয়া ও কালো কার্বন ছড়িয়ে আসছিল। এর ফলে বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও ক্ষতিকর পার্টিকুলেট ম্যাটারের মাত্রা বেড়ে গিয়ে মানুষের শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, হাঁপানি ও দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি আম ও অন্যান্য ফলের গাছ এসব বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাছের পাতায় কালো আস্তরণ জমে আলোকসংশ্লেষ ব্যাহত হয়, ফল ঝরে পড়ে, ফলের আকার ও গুণগত মান কমে যায়। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং দেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।প্রশাসনের কঠোর বার্তা
অভিযান শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও কৃষি অর্থনীতি বাঁচাতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে কোনো ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই অভিযান শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষায় একটি শক্ত বার্তা। নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিবেশ, আমবাগান ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবেশ ধ্বংসের কারখানায় অভিযান- ৯ টি অবৈধ ইটভাটায় জরিমানা ৩২ লাখ টাকা

প্রকাশের সময়ঃ ১০:৩০:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আম-ফলজ সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। জেলার সদর উপজেলার বারোঘরিয়া এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ৯টি ইটভাটায় একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
০৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স, জেলা আনসার ও র্যাব-৫ এর সার্বিক সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর বিভিন্ন ধারায় ৯টি মামলায় মোট ৩২ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করে তা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে ৮টি ইটভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ৩টি ইটভাটার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সহকারী সচিব) মিজ্ প্রিয়াংকা দাস, পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়, বগুড়া। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আবু সাঈদসহ দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পরিবেশ ও আম-ফল উৎপাদনে ভয়াবহ ক্ষতি পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এসব অবৈধ ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও আমবাগানের নিকট স্থাপিত হয়ে বিষাক্ত ধোঁয়া ও কালো কার্বন ছড়িয়ে আসছিল। এর ফলে বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও ক্ষতিকর পার্টিকুলেট ম্যাটারের মাত্রা বেড়ে গিয়ে মানুষের শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, হাঁপানি ও দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি আম ও অন্যান্য ফলের গাছ এসব বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাছের পাতায় কালো আস্তরণ জমে আলোকসংশ্লেষ ব্যাহত হয়, ফল ঝরে পড়ে, ফলের আকার ও গুণগত মান কমে যায়। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং দেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।প্রশাসনের কঠোর বার্তা
অভিযান শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও কৃষি অর্থনীতি বাঁচাতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে কোনো ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই অভিযান শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষায় একটি শক্ত বার্তা। নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিবেশ, আমবাগান ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।