ঢাকা ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

সরিষা চাষের পাশাপাশি উৎপাদন হচ্ছে মধু শিবগঞ্জে সরিষা ফুলের মাঠে ব্যস্ত মৌয়ালরা

সরিষা চাষের পাশাপাশি প্রাকৃতিভাবে উৎপাদন হচ্ছে মধু্

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সরিষা চাষের পাশাপাশি প্রাকৃতিভাবে উৎপাদন হচ্ছে মধু। যা উপজেলার মাঠগুলো এখন সরিষা ফুলের হলুদ আভায় আর মধুর কর্মচাঞ্চল্যে মুখরিত। সরিষে ফুলে ঘেরা বিস্তীর্ণ মাঠের পাশে সারি সারি মৌবাক্স বসিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালরা। স্থানীয় চাষিদের পাশাপাশি স্বল্প পুঁজিতে লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে শতাধিক মৌয়াল শিবগঞ্জে এসে মধু চাষে যুক্ত হয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরিষা ক্ষেতে মৌচাষ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না; বরং মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায়। এ কারণে কৃষি বিভাগ চাষিদের সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগ না করার বিষয়ে সচেতন করছে।

চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জ উপজেলায় মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কেজি। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার কেজি মধু উৎপাদন হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে দেখা যায়, ঝিনাউদহ, বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, নেত্রকোনা, নড়াইল ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌয়ালরা দলবদ্ধভাবে মৌচাষ করছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলায় দাইপুখুরিয়ায় মধু উৎপাদন স্থাপনকারী মো. রকিবুল ইসলাম জানান, আমরা প্রতি বছর মৌমাছি নিয়ে এই উপজেলায় আসি। এই উপজেলায় সরিষা চাষ বেশি হওয়ায় আমাদের মধু সংগ্রহে আগ্রহ বাড়ছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রায় ১০/১৫ দিন পরপর মৌ বক্স খুলে মধু সংগ্রহ করি। আবহাওয়া ভালো হলে প্রাতি সাপ্তাহেও মধু সংগ্রহ করা যায়। আমার ৭০টি বক্স থেকে ৮/৯’শ কেজি মধু সংগ্রহ করতে পারবো। এপর্যন্ত আমার বক্স থেকে ৫/৬’শ কেজি মধু সংগ্রহ করেছি।কিশোরহাট মৌচাষ সমবায় সমিতির সভাপতি শামসুল হক জানান, নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে তারা প্রায় ২০ দিন আগে শিবগঞ্জে এসেছেন। ৭৫টি মৌবাক্স থেকে এক সপ্তাহ পর পর প্রায় ৪০০ কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তারা ১৯ মণ মধু সংগ্রহ করেছেন।নড়াইল থেকে আসা মৌয়াল নুরুল ইসলাম বলেন, মৌচাষে সফলতার গল্প শুনে কয়েক বছর আগে তিনি এই পেশায় যুক্ত হন। তিনজন অংশীদার মিলে প্রতি বছর খরচ বাদ দিয়ে জনপ্রতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নয়ন মিয়া বলেন, এবছর উপজেলায় ৮ হাজার ৬’শ হেক্টর জমি সরিষা চাষ হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন এলাকায় সরিষার মাঠ পরিদর্শন করেছি। আশা করছি, উৎপাদন ভালো হবে।তিনি আরো বলেন, এবছর ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বগুড়া ও রাজশাহী অঞ্চল থেকে মৌচাষীরা এসেছেন। উপজেলার ১১টি স্থানে ১১টি মৌয়াল দল তাঁদের মধু চাষ করছেন। এতে ১ হাজার ১০৬টি মৌ বক্সে তাঁরা কাজ করছেন। আমরা এবছর প্রায় ১২ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছি। ইতোমধ্যে আমরা মধু পেয়েছি প্রায় ১০ হাজার কেজি। স্থানীয়ভাবে চাহিদা থাকায় মৌয়ালরা সেখানেই মধু বিক্রয় করছেন। আমাদের সাথে যোগাযোগ থাকায় আমরাও বিভিন্ন জায়গায় মধু বিক্রয়ের পরামর্শ দিচ্ছি এবং মধু যা গুনগতমান তাঁরা যেনো সেটি কে ধরে রাখেন।

বাংলাদেশ হ্যানি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আরিফ উদ্দিন বলেন, মৌচাষে বিসিকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দেশে মধুর চাহিদা প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৬ হাজার মেট্রিক টন। সঠিক সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে বছরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরিষা চাষের পাশাপাশি উৎপাদন হচ্ছে মধু শিবগঞ্জে সরিষা ফুলের মাঠে ব্যস্ত মৌয়ালরা

প্রকাশের সময়ঃ ১০:৩৮:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সরিষা চাষের পাশাপাশি প্রাকৃতিভাবে উৎপাদন হচ্ছে মধু। যা উপজেলার মাঠগুলো এখন সরিষা ফুলের হলুদ আভায় আর মধুর কর্মচাঞ্চল্যে মুখরিত। সরিষে ফুলে ঘেরা বিস্তীর্ণ মাঠের পাশে সারি সারি মৌবাক্স বসিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালরা। স্থানীয় চাষিদের পাশাপাশি স্বল্প পুঁজিতে লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে শতাধিক মৌয়াল শিবগঞ্জে এসে মধু চাষে যুক্ত হয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরিষা ক্ষেতে মৌচাষ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না; বরং মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায়। এ কারণে কৃষি বিভাগ চাষিদের সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগ না করার বিষয়ে সচেতন করছে।

চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জ উপজেলায় মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কেজি। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার কেজি মধু উৎপাদন হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে দেখা যায়, ঝিনাউদহ, বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, নেত্রকোনা, নড়াইল ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌয়ালরা দলবদ্ধভাবে মৌচাষ করছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলায় দাইপুখুরিয়ায় মধু উৎপাদন স্থাপনকারী মো. রকিবুল ইসলাম জানান, আমরা প্রতি বছর মৌমাছি নিয়ে এই উপজেলায় আসি। এই উপজেলায় সরিষা চাষ বেশি হওয়ায় আমাদের মধু সংগ্রহে আগ্রহ বাড়ছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রায় ১০/১৫ দিন পরপর মৌ বক্স খুলে মধু সংগ্রহ করি। আবহাওয়া ভালো হলে প্রাতি সাপ্তাহেও মধু সংগ্রহ করা যায়। আমার ৭০টি বক্স থেকে ৮/৯’শ কেজি মধু সংগ্রহ করতে পারবো। এপর্যন্ত আমার বক্স থেকে ৫/৬’শ কেজি মধু সংগ্রহ করেছি।কিশোরহাট মৌচাষ সমবায় সমিতির সভাপতি শামসুল হক জানান, নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে তারা প্রায় ২০ দিন আগে শিবগঞ্জে এসেছেন। ৭৫টি মৌবাক্স থেকে এক সপ্তাহ পর পর প্রায় ৪০০ কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তারা ১৯ মণ মধু সংগ্রহ করেছেন।নড়াইল থেকে আসা মৌয়াল নুরুল ইসলাম বলেন, মৌচাষে সফলতার গল্প শুনে কয়েক বছর আগে তিনি এই পেশায় যুক্ত হন। তিনজন অংশীদার মিলে প্রতি বছর খরচ বাদ দিয়ে জনপ্রতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নয়ন মিয়া বলেন, এবছর উপজেলায় ৮ হাজার ৬’শ হেক্টর জমি সরিষা চাষ হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন এলাকায় সরিষার মাঠ পরিদর্শন করেছি। আশা করছি, উৎপাদন ভালো হবে।তিনি আরো বলেন, এবছর ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বগুড়া ও রাজশাহী অঞ্চল থেকে মৌচাষীরা এসেছেন। উপজেলার ১১টি স্থানে ১১টি মৌয়াল দল তাঁদের মধু চাষ করছেন। এতে ১ হাজার ১০৬টি মৌ বক্সে তাঁরা কাজ করছেন। আমরা এবছর প্রায় ১২ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছি। ইতোমধ্যে আমরা মধু পেয়েছি প্রায় ১০ হাজার কেজি। স্থানীয়ভাবে চাহিদা থাকায় মৌয়ালরা সেখানেই মধু বিক্রয় করছেন। আমাদের সাথে যোগাযোগ থাকায় আমরাও বিভিন্ন জায়গায় মধু বিক্রয়ের পরামর্শ দিচ্ছি এবং মধু যা গুনগতমান তাঁরা যেনো সেটি কে ধরে রাখেন।

বাংলাদেশ হ্যানি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আরিফ উদ্দিন বলেন, মৌচাষে বিসিকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দেশে মধুর চাহিদা প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৬ হাজার মেট্রিক টন। সঠিক সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে বছরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।