ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

দশ বছরের নীরব প্রার্থনার পর পাঁচ শিশুর কান্না

পাঁচ সন্তানের সঙ্গে সুমন-এনি দম্পতির পরিবার। সংগৃহীত ছবি

দশ বছর ধরে প্রতিটি ঈদ, প্রতিটি উৎসব আর প্রতিটি সকাল শুরু হতো একরাশ শূন্যতা নিয়ে। সন্তানের হাসির অপেক্ষায় কেটেছে ওয়াহিদুল ইসলাম সুমন ও এনি আক্তারের দীর্ঘ এক দশক। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একসঙ্গে পাঁচ শিশুর কান্নায় মুখর হলো চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার তাদের ছোট্ট সংসার।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে পাঁচ নবজাতককে নিয়ে বাড়ি ফেরেন সুমন-এনি দম্পতি। তিন কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানকে বুকে জড়িয়ে চোখের পানি আর হাসি একসঙ্গে ধরে রাখতে পারেননি পরিবারের কেউই। দীর্ঘদিনের কষ্ট, দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার জায়গায় আজ শুধুই আনন্দ আর স্বস্তি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকার পর আধুনিক চিকিৎসার সহায়তায় এই অলৌকিক আনন্দের মুখ দেখেন দম্পতিটি। প্রসূতি ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ফরিদা ইয়াসমিন সুমির তত্ত্বাবধানে ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (IUI) পদ্ধতিতে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি পিপলস হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম হয়।

তবে জন্মের পরই শুরু হয় নতুন এক লড়াই। শারীরিকভাবে অপরিপক্ব হওয়ায় পাঁচ শিশুর অবস্থাই ছিল সংকটাপন্ন। তখনই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের চট্টগ্রামের পার্ক ভিউ হসপিটালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

দিন-রাত এক করে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি আর নিরবচ্ছিন্ন যত্নে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে পাঁচ নবজাতক। প্রতিটি দিন ছিল পরিবারের জন্য উৎকণ্ঠা আর প্রার্থনায় ভরা।

পার্ক ভিউ হসপিটালের পরিচালক ডা. এ টি এম রেজাউল করিম বলেন, “এটি ছিল একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল কেস। তবে চিকিৎসক দল ও নার্সদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি।”

প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ফরিদা ইয়াসমিন সুমি জানান, “সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এমন জটিল পরিস্থিতিতেও আশা হারায় না। এই পাঁচ শিশুর সুস্থতা তারই প্রমাণ।”

উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর সাতকানিয়ার এই দম্পতির ঘরে একসঙ্গে পাঁচটি শিশু জন্ম নেয়। প্রসবের পর অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় দীর্ঘদিন তাদের এনআইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

আজ পাঁচ শিশুকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সুমন-এনি দম্পতির চোখে শুধু আনন্দের জল। দশ বছরের অপেক্ষা শেষে তাদের ঘরে ফিরেছে জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার—পাঁচটি নতুন জীবন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

দশ বছরের নীরব প্রার্থনার পর পাঁচ শিশুর কান্না

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৩৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

দশ বছর ধরে প্রতিটি ঈদ, প্রতিটি উৎসব আর প্রতিটি সকাল শুরু হতো একরাশ শূন্যতা নিয়ে। সন্তানের হাসির অপেক্ষায় কেটেছে ওয়াহিদুল ইসলাম সুমন ও এনি আক্তারের দীর্ঘ এক দশক। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একসঙ্গে পাঁচ শিশুর কান্নায় মুখর হলো চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার তাদের ছোট্ট সংসার।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে পাঁচ নবজাতককে নিয়ে বাড়ি ফেরেন সুমন-এনি দম্পতি। তিন কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানকে বুকে জড়িয়ে চোখের পানি আর হাসি একসঙ্গে ধরে রাখতে পারেননি পরিবারের কেউই। দীর্ঘদিনের কষ্ট, দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার জায়গায় আজ শুধুই আনন্দ আর স্বস্তি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকার পর আধুনিক চিকিৎসার সহায়তায় এই অলৌকিক আনন্দের মুখ দেখেন দম্পতিটি। প্রসূতি ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ফরিদা ইয়াসমিন সুমির তত্ত্বাবধানে ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (IUI) পদ্ধতিতে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি পিপলস হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম হয়।

তবে জন্মের পরই শুরু হয় নতুন এক লড়াই। শারীরিকভাবে অপরিপক্ব হওয়ায় পাঁচ শিশুর অবস্থাই ছিল সংকটাপন্ন। তখনই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের চট্টগ্রামের পার্ক ভিউ হসপিটালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

দিন-রাত এক করে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি আর নিরবচ্ছিন্ন যত্নে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে পাঁচ নবজাতক। প্রতিটি দিন ছিল পরিবারের জন্য উৎকণ্ঠা আর প্রার্থনায় ভরা।

পার্ক ভিউ হসপিটালের পরিচালক ডা. এ টি এম রেজাউল করিম বলেন, “এটি ছিল একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল কেস। তবে চিকিৎসক দল ও নার্সদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি।”

প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ফরিদা ইয়াসমিন সুমি জানান, “সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এমন জটিল পরিস্থিতিতেও আশা হারায় না। এই পাঁচ শিশুর সুস্থতা তারই প্রমাণ।”

উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর সাতকানিয়ার এই দম্পতির ঘরে একসঙ্গে পাঁচটি শিশু জন্ম নেয়। প্রসবের পর অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় দীর্ঘদিন তাদের এনআইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

আজ পাঁচ শিশুকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সুমন-এনি দম্পতির চোখে শুধু আনন্দের জল। দশ বছরের অপেক্ষা শেষে তাদের ঘরে ফিরেছে জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার—পাঁচটি নতুন জীবন।