
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুন্দর, সুদৃঢ় ও জনবান্ধব হোক এমন প্রত্যাশা এখন ভারতের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিবেশী দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন, সাংস্কৃতিক মিল এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কারণে এই সম্পর্ক শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই নয়, জনগণের হৃদয়ের সম্পর্ক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতার প্রেস সেক্রেটারি তারিক চয়ন সম্প্রতি কুমিল্লায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কূটনীতির গণ্ডি পেরিয়ে বহু আগেই জনকূটনীতিতে রূপ নিয়েছে। দুই দেশের সাধারণ মানুষ একে অপরের সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনযাত্রার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
তারিক চয়ন বলেন, ভারতের বহু নাগরিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতিকে ভারতের সাধারণ মানুষ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক—এমন আকাঙ্ক্ষা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
ভারত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার, অন্যদিকে বাংলাদেশও ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। স্থলবন্দর, নৌপথ ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হচ্ছে, যা উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটন খাতেও বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তারিক চয়ন। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতে যান, একইভাবে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রেও ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের নির্ভরতা রয়েছে। এসব যোগাযোগ দুই দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ভিসা প্রক্রিয়া, বাণিজ্যিক ভারসাম্যসহ কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। এসব ইস্যু নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কখনো কখনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারিক চয়ন বলেন, “আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও বাস্তবতাবোধ। সমস্যা থাকবে, কিন্তু সেগুলোর সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। উত্তেজনা নয়, সংলাপই দুই দেশের সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে পারে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকরাও মত দেন, দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের সুসম্পর্ক অপরিহার্য। তারা বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি জনগণের পর্যায়েও বন্ধুত্ব ও যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও টেকসই হবে।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক বিনিময় ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি 





















