ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

লক্ষ্মীপুর ২ আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ঘিরে আতঙ্ক, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নেই তৎপরতা

ছবি। ‎মেহেরাব ইমরান আকিব, লক্ষ্মীপুর ।

‎আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর ২ আসন তথা রায়পুর উপজেলায় একাধিক ভোটকেন্দ্র ঘিরে সহিংসতা ও অবৈধ অস্ত্র ব্যাবহাররের ঝুঁকি রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিগত সময়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনকে ঘিরে চরম নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বলছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের অভিযোগ যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভোটকেন্দ্র দখল ও সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এছাড়াও ‎গত ৭ এপ্রিল ২০২৫ সালে ২নং চরবংশী ইউনিয়নের মালেক খাঁর বিজ্র সংলগ্নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাইজুদ্দিন দেওয়ান নামের এক বিএনপি কর্মীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় গুরুতর আহত জসিম উদ্দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।

এ ঘটনায় মোস্তফা গাজী, শামীম গাজী গং এবং ফারুক কবিরাজ, মেহেদী কবিরাজ গং উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হত্যা মামলা দায়ের করে। ‎স্থানীয় সূত্র জানায়, ঐ হত্যাকাণ্ডের পর সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযোগ রয়েছে, একটি গ্রুপ বিএনপি নেতা ওবায়দুল্লাহ গাজী ও স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা রুহুল আমিন খান ও আনোয়ার মাল-এর বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন এত বড় দুটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো এখন কোথায়? কেন এখনো সেগুলো উদ্ধার হয়নি? তাঁদের আশঙ্কা, এসব অস্ত্র নির্বাচনের আগে কিংবা ভোটের দিন আবারও ব্যবহৃত হতে পারে, বিশেষ করে যেসব কেন্দ্র অতীতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা সহকারী রিটার্নীং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউসার বলেন,“নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করার কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আমরা ঝুঁকিপুর্ন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করছি পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে যৌথ বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সাথে একযোগে চেষ্টা চালাচ্ছি। বিগত দিনের চেয়ে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশি থাকবে। আজকে আমরা এবিষয় গুলো নিয়ে বিভাগীয়ভাবে আলোচনায় বসেছি।

‎রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)শাহীন মিয়া বলেন,  “লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই ব্যাপারে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা ব্যক্তিগত সোর্স ব্যবহার করছি।  বিভিন্ন সূত্রে তথ্য যাচাই চলছে, কোথাও খোঁজ পেলে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা করবো। আমরা আশাবাদী দ্রুত অগ্রগতি হবে।” ‎তবে সচেতন মহল বলছেন, কেবল আশ্বাস নয় এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান অভিযান ও ফলাফল। এছাড়াও তারা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, অবৈধ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। ‎সচেতন মহলের সতর্ক বার্তা এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে রায়পুরের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অশনিসংকেত।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

লক্ষ্মীপুর ২ আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ঘিরে আতঙ্ক, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নেই তৎপরতা

প্রকাশের সময়ঃ ০১:০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‎আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর ২ আসন তথা রায়পুর উপজেলায় একাধিক ভোটকেন্দ্র ঘিরে সহিংসতা ও অবৈধ অস্ত্র ব্যাবহাররের ঝুঁকি রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিগত সময়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনকে ঘিরে চরম নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বলছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের অভিযোগ যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভোটকেন্দ্র দখল ও সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এছাড়াও ‎গত ৭ এপ্রিল ২০২৫ সালে ২নং চরবংশী ইউনিয়নের মালেক খাঁর বিজ্র সংলগ্নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাইজুদ্দিন দেওয়ান নামের এক বিএনপি কর্মীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় গুরুতর আহত জসিম উদ্দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।

এ ঘটনায় মোস্তফা গাজী, শামীম গাজী গং এবং ফারুক কবিরাজ, মেহেদী কবিরাজ গং উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হত্যা মামলা দায়ের করে। ‎স্থানীয় সূত্র জানায়, ঐ হত্যাকাণ্ডের পর সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযোগ রয়েছে, একটি গ্রুপ বিএনপি নেতা ওবায়দুল্লাহ গাজী ও স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা রুহুল আমিন খান ও আনোয়ার মাল-এর বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন এত বড় দুটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো এখন কোথায়? কেন এখনো সেগুলো উদ্ধার হয়নি? তাঁদের আশঙ্কা, এসব অস্ত্র নির্বাচনের আগে কিংবা ভোটের দিন আবারও ব্যবহৃত হতে পারে, বিশেষ করে যেসব কেন্দ্র অতীতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা সহকারী রিটার্নীং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউসার বলেন,“নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করার কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আমরা ঝুঁকিপুর্ন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করছি পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে যৌথ বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সাথে একযোগে চেষ্টা চালাচ্ছি। বিগত দিনের চেয়ে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশি থাকবে। আজকে আমরা এবিষয় গুলো নিয়ে বিভাগীয়ভাবে আলোচনায় বসেছি।

‎রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)শাহীন মিয়া বলেন,  “লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই ব্যাপারে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা ব্যক্তিগত সোর্স ব্যবহার করছি।  বিভিন্ন সূত্রে তথ্য যাচাই চলছে, কোথাও খোঁজ পেলে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা করবো। আমরা আশাবাদী দ্রুত অগ্রগতি হবে।” ‎তবে সচেতন মহল বলছেন, কেবল আশ্বাস নয় এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান অভিযান ও ফলাফল। এছাড়াও তারা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, অবৈধ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। ‎সচেতন মহলের সতর্ক বার্তা এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে রায়পুরের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অশনিসংকেত।