ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরি, নেই উদ্ধার-আটক

দক্ষিণ ছিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের দুটি সিসি ক্যামেরা চুরি হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে একের পর এক ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও অবৈধ ভোটের সিল তৈরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে এলো ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা। নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রের তিনটি সিসি ক্যামেরার মধ্যে দুইটি চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের তিন দিন পার হলেও পুলিশ এখনো ক্যামেরা উদ্ধার বা কাউকে আটক করতে পারেনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিদ্যালয়ের নিচতলায় তিনটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ২৯ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় স্কুল ছুটি শেষে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন। এরপর টানা তিন দিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকরা দেখতে পান, স্থাপিত ক্যামেরার দুটি খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন, “ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া সিসি ক্যামেরা উদ্ধার বা অভিযুক্ত কাউকে আটক করার বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাইনি।”

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মহসিন কবির মুরাদ অভিযোগ করে বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় ধরনের অন্তরায়।”

একই সুরে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, “যাদের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে, তারাই সিসি ক্যামেরা চুরির সঙ্গে জড়িত। ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোট কারচুপি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অংশ হিসেবেই এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে।”

এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, “সিসি ক্যামেরা চুরির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নির্বাচনের আগ মুহূর্তে একের পর এক এমন ঘটনায় লক্ষ্মীপুরে ভোটের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরি, নেই উদ্ধার-আটক

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে একের পর এক ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও অবৈধ ভোটের সিল তৈরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে এলো ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা। নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রের তিনটি সিসি ক্যামেরার মধ্যে দুইটি চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের তিন দিন পার হলেও পুলিশ এখনো ক্যামেরা উদ্ধার বা কাউকে আটক করতে পারেনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিদ্যালয়ের নিচতলায় তিনটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ২৯ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় স্কুল ছুটি শেষে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন। এরপর টানা তিন দিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকরা দেখতে পান, স্থাপিত ক্যামেরার দুটি খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন, “ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া সিসি ক্যামেরা উদ্ধার বা অভিযুক্ত কাউকে আটক করার বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাইনি।”

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মহসিন কবির মুরাদ অভিযোগ করে বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় ধরনের অন্তরায়।”

একই সুরে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, “যাদের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে, তারাই সিসি ক্যামেরা চুরির সঙ্গে জড়িত। ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোট কারচুপি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অংশ হিসেবেই এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে।”

এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, “সিসি ক্যামেরা চুরির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নির্বাচনের আগ মুহূর্তে একের পর এক এমন ঘটনায় লক্ষ্মীপুরে ভোটের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।