ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

ইয়াবা দিয়ে পরিবারকে ফাঁসানোর অভিযোগ, চুনারুঘাটে দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৫২ Time View

ইয়াবা দিয়ে পরিবারকে ফাঁসানোর অভিযোগে চুনারুঘাটের দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি পরিবারকে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চুনারুঘাট থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন চুনারুঘাট থানার এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিন। শুক্রবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া প্রতিবেশীর সঙ্গে রাস্তা নিয়ে চলমান একটি মামলার হাজিরা দিতে হবিগঞ্জ আদালতের উদ্দেশে ইজিবাইকে করে রওনা হন।

পথে বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাদের ইজিবাইকের গতিরোধ করে। পরে তল্লাশির কথা বলে ছায়েদ মিয়ার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এরপর তাদের আটক করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বেশ কয়েকজন লোক থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়ায় প্রায় সাত ঘণ্টা পর ছায়েদ মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ছায়েদ মিয়া ও তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তারের অভিযোগ, পুলিশের সদস্যরা তাদের তল্লাশির সময় পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখানোর চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, ওই সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সাত্তার মোল্লা জানান, ছায়েদ মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশীর রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে তাদের পুলিশ ইয়াবাসহ আটক করেছে বলে তিনি জানতে পারেন। পরে থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। তাঁর দাবি, ছায়েদ মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন।

এ বিষয়ে এসআই মাসুম আল মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ছায়েদ আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় শুক্রবার বিকেলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছেন।

চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাফিউর রহমান বলেন, একটি নিরীহ পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠায় এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

ইয়াবা দিয়ে পরিবারকে ফাঁসানোর অভিযোগ, চুনারুঘাটে দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি পরিবারকে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চুনারুঘাট থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন চুনারুঘাট থানার এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিন। শুক্রবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া প্রতিবেশীর সঙ্গে রাস্তা নিয়ে চলমান একটি মামলার হাজিরা দিতে হবিগঞ্জ আদালতের উদ্দেশে ইজিবাইকে করে রওনা হন।

পথে বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাদের ইজিবাইকের গতিরোধ করে। পরে তল্লাশির কথা বলে ছায়েদ মিয়ার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এরপর তাদের আটক করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বেশ কয়েকজন লোক থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়ায় প্রায় সাত ঘণ্টা পর ছায়েদ মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ছায়েদ মিয়া ও তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তারের অভিযোগ, পুলিশের সদস্যরা তাদের তল্লাশির সময় পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখানোর চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, ওই সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সাত্তার মোল্লা জানান, ছায়েদ মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশীর রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে তাদের পুলিশ ইয়াবাসহ আটক করেছে বলে তিনি জানতে পারেন। পরে থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। তাঁর দাবি, ছায়েদ মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন।

এ বিষয়ে এসআই মাসুম আল মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ছায়েদ আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় শুক্রবার বিকেলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছেন।

চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাফিউর রহমান বলেন, একটি নিরীহ পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠায় এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।