ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

যশোরের হোটেল জাবিরে ২৪ মৃত্যু: জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ, ৭ জনের অব্যাহতি চেয়ে প্রতিবেদন

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১২:৪৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৪৫ Time View

যশোরের হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল। ছবি: সংগৃহীত

যশোরে হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডে ২৪ জন নিহতের ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত করেও সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন সম্প্রতি আদালতে প্রতিবেদনটি জমা দেন। এতে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অব্যাহতির আবেদন করা ব্যক্তিরা হলেন মো. আব্দুল খালেক, মো. এনামুল হক, আব্দুর রহমান শাওন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি, এস এম আজাহার হোসেন স্বপন, কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল এবং মো. ইমন কাজী।

বুধবার সন্ধ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন জানান, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো সাতজনের অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের এম এম আলী রোডে অবস্থিত হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে হোটেলে ঢুকে ক্যাশ ভল্ট ভেঙে প্রায় ৯০ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে হোটেলের বিভিন্ন মালামালও লুট করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হোটেল থেকে বিপুলসংখ্যক ফ্রিজ, স্মার্ট টেলিভিশন, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, বিভিন্ন আসবাব ও ইলেকট্রিক সরঞ্জামসহ নানা সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর হোটেলের প্রথম থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে হোটেলে অবস্থানরত ২৪ জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে হোটেলের কর্মী ও অতিথি ছিলেন। নিহতদের মধ্যে একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকও ছিলেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার বাদীর অভিযোগে হোটেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, আসবাব, স্টোরের মালামাল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। আগুনে লিফট, জানালার গ্রিল, কাচের দরজা ও ভবনের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তদন্ত চলাকালে সন্দেহের ভিত্তিতে সাতজনকে বিভিন্ন সময়ে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

এ কারণে সাতজনের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এখন প্রতিবেদনের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

যশোরের হোটেল জাবিরে ২৪ মৃত্যু: জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ, ৭ জনের অব্যাহতি চেয়ে প্রতিবেদন

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৪৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

যশোরে হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডে ২৪ জন নিহতের ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত করেও সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন সম্প্রতি আদালতে প্রতিবেদনটি জমা দেন। এতে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অব্যাহতির আবেদন করা ব্যক্তিরা হলেন মো. আব্দুল খালেক, মো. এনামুল হক, আব্দুর রহমান শাওন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি, এস এম আজাহার হোসেন স্বপন, কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল এবং মো. ইমন কাজী।

বুধবার সন্ধ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন জানান, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো সাতজনের অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের এম এম আলী রোডে অবস্থিত হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে হোটেলে ঢুকে ক্যাশ ভল্ট ভেঙে প্রায় ৯০ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে হোটেলের বিভিন্ন মালামালও লুট করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হোটেল থেকে বিপুলসংখ্যক ফ্রিজ, স্মার্ট টেলিভিশন, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, বিভিন্ন আসবাব ও ইলেকট্রিক সরঞ্জামসহ নানা সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর হোটেলের প্রথম থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে হোটেলে অবস্থানরত ২৪ জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে হোটেলের কর্মী ও অতিথি ছিলেন। নিহতদের মধ্যে একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকও ছিলেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার বাদীর অভিযোগে হোটেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, আসবাব, স্টোরের মালামাল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। আগুনে লিফট, জানালার গ্রিল, কাচের দরজা ও ভবনের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তদন্ত চলাকালে সন্দেহের ভিত্তিতে সাতজনকে বিভিন্ন সময়ে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

এ কারণে সাতজনের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এখন প্রতিবেদনের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।