ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

নেপালে প্রকৃতির কাছে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৬:১৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৪২ Time View

নেপালের পোখারার পাহাড় ও ফেওয়া লেকের সৌন্দর্যে মুগ্ধ নাজনীন নিহা।

ভ্রমণ আমার কাছে শুধু নতুন কোনো জায়গা ঘুরে দেখা নয়; বরং প্রতিদিনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে নিজের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার একটি সুযোগ। কাজের চাপ, শহুরে জীবনের একঘেয়েমি আর চারপাশের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে যখন প্রকৃতির কাছে দাঁড়াই, তখন জীবনকে যেন অন্যভাবে দেখতে শুরু করি। সম্প্রতি নেপাল ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। সেই সফরে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে পাহাড়ঘেরা সুন্দর শহর পোখারা।

নেপালে পৌঁছানোর পর থেকেই চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন কেড়ে নিয়েছিল। তবে পোখারায় যাওয়ার পর অনুভূতিটা আরও গভীর হয়। শহরের ব্যস্ততা ও পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও পুরো পরিবেশের মধ্যে এক ধরনের শান্তি অনুভব করা যায়। দূরের পাহাড়, নীল আকাশ, মেঘ আর নির্মল বাতাস—সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছিল পরিচিত ব্যস্ত জীবন থেকে যেন অনেকটা দূরে চলে এসেছি।

সমুদ্র যেমন আমাকে আকর্ষণ করে, পাহাড়ের নীরবতাও তেমনই টানে। পোখারায় গিয়ে পাহাড়কে আরও কাছ থেকে অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। কখনও মেঘ এসে পাহাড়ের চূড়া আড়াল করছে, আবার কিছুক্ষণ পর মেঘ সরে গিয়ে পাহাড় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। একই দৃশ্য বারবার দেখেও যেন চোখের তৃপ্তি হচ্ছিল না।

পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছে, আমাদের জীবনের নানা ছোটখাটো দুশ্চিন্তা প্রকৃতির এই বিশালতার সামনে কতটাই না ক্ষুদ্র। পাহাড়ের স্থিরতা আমাকে সবসময় ধৈর্য ধরার কথা মনে করিয়ে দেয়। পোখারার সকালগুলোও ছিল অসাধারণ সুন্দর।

ঘুম থেকে উঠে জানালার বাইরে নরম সূর্যের আলো, ঠান্ডা বাতাস আর দূরে পাহাড়ের দৃশ্য—শহুরে জীবনে এমন সকাল খুব বেশি পাওয়া যায় না। ভ্রমণের সময় আমি শুধু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পছন্দ করি না। সেই এলাকার মানুষ, সংস্কৃতি, খাবার ও জীবনযাপন সম্পর্কেও জানতে আগ্রহী। পোখারার মানুষের স্বাভাবিক ও আন্তরিক আচরণ আমার বেশ ভালো লেগেছে। পর্যটননির্ভর শহর হলেও মানুষের জীবনযাপনের মধ্যে একটা সহজ-সরল ভাব রয়েছে।

ফেওয়া লেকে প্রশান্তির মুহূর্ত

পোখারার ফেওয়া লেক আমার ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। বিস্তৃত নীল জল, চারপাশের পাহাড় এবং পানিতে আকাশের প্রতিচ্ছবি—সব মিলিয়ে জায়গাটির সৌন্দর্য এক অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করে।

লেকের পাশে বসে অনেকটা সময় শুধু চারপাশ দেখেছি। ধীরে ধীরে পানির ওপর দিয়ে নৌকা এগিয়ে যাচ্ছিল, বাতাসে তৈরি হচ্ছিল ছোট ছোট ঢেউ। মনে হচ্ছিল সময় যেন কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেছে।

এ ধরনের মুহূর্ত আমার খুব প্রিয়। কোনো ব্যস্ততা নেই, কোনো তাড়া নেই—শুধু প্রকৃতির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো। তখন মনে হয়, জীবনে সবকিছু অর্জন করার পেছনে ছুটতেই হবে এমন নয়। কখনও কখনও একটি সুন্দর দৃশ্যের সামনে নীরবে বসে থাকাও অনেক বড় প্রাপ্তি।

বিকেলের পোখারার সৌন্দর্য ছিল আরও আলাদা। আকাশের রং ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছিল। পাহাড়ের গায়ে তৈরি হচ্ছিল আলো-ছায়ার খেলা। সেই দৃশ্যের প্রতিফলন পড়ছিল ফেওয়া লেকের পানিতে। ক্যামেরায় যতটা সম্ভব মুহূর্তগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। তবে কিছু অনুভূতি ছবি দিয়ে পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না। প্রকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে যে অনুভূতি তৈরি হয়, সেটি নিজের মধ্যেই থেকে যায়।

ভ্রমণ বদলে দেয় দেখার দৃষ্টিভঙ্গি

নেপাল ভ্রমণ আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, পৃথিবী আমাদের পরিচিত গণ্ডির চেয়ে অনেক বড়। আমাদের চারপাশের বাইরে রয়েছে অসংখ্য মানুষ, সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও প্রকৃতির বৈচিত্র্য। ভ্রমণ না করলে এসব কাছ থেকে জানার সুযোগ অনেকটাই সীমিত থেকে যায়।

পোখারা থেকে ফেরার সময় মনে হচ্ছিল, আমি শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে ফিরে আসছি না। সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি পাহাড়ের নীরবতা, ফেওয়া লেকের শান্ত জল, মেঘে ঢাকা আকাশ এবং অসংখ্য সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতি।

আমি বিশ্বাস করি, ভ্রমণ মানুষকে শুধু নতুন জায়গার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় না, নিজের জীবনকেও নতুনভাবে দেখতে শেখায়। যত বেশি জায়গা দেখা যায়, তত বেশি মানুষ ও পৃথিবী সম্পর্কে জানা যায়। নেপাল, বিশেষ করে পোখারা, আমাকে সেই অনুভূতিটাই আবার নতুন করে দিয়েছে।

লেখক: নাজনীন নিহা, অভিনেত্রী

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

নেপালে প্রকৃতির কাছে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:১৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ভ্রমণ আমার কাছে শুধু নতুন কোনো জায়গা ঘুরে দেখা নয়; বরং প্রতিদিনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে নিজের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার একটি সুযোগ। কাজের চাপ, শহুরে জীবনের একঘেয়েমি আর চারপাশের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে যখন প্রকৃতির কাছে দাঁড়াই, তখন জীবনকে যেন অন্যভাবে দেখতে শুরু করি। সম্প্রতি নেপাল ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। সেই সফরে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে পাহাড়ঘেরা সুন্দর শহর পোখারা।

নেপালে পৌঁছানোর পর থেকেই চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন কেড়ে নিয়েছিল। তবে পোখারায় যাওয়ার পর অনুভূতিটা আরও গভীর হয়। শহরের ব্যস্ততা ও পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও পুরো পরিবেশের মধ্যে এক ধরনের শান্তি অনুভব করা যায়। দূরের পাহাড়, নীল আকাশ, মেঘ আর নির্মল বাতাস—সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছিল পরিচিত ব্যস্ত জীবন থেকে যেন অনেকটা দূরে চলে এসেছি।

সমুদ্র যেমন আমাকে আকর্ষণ করে, পাহাড়ের নীরবতাও তেমনই টানে। পোখারায় গিয়ে পাহাড়কে আরও কাছ থেকে অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। কখনও মেঘ এসে পাহাড়ের চূড়া আড়াল করছে, আবার কিছুক্ষণ পর মেঘ সরে গিয়ে পাহাড় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। একই দৃশ্য বারবার দেখেও যেন চোখের তৃপ্তি হচ্ছিল না।

পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছে, আমাদের জীবনের নানা ছোটখাটো দুশ্চিন্তা প্রকৃতির এই বিশালতার সামনে কতটাই না ক্ষুদ্র। পাহাড়ের স্থিরতা আমাকে সবসময় ধৈর্য ধরার কথা মনে করিয়ে দেয়। পোখারার সকালগুলোও ছিল অসাধারণ সুন্দর।

ঘুম থেকে উঠে জানালার বাইরে নরম সূর্যের আলো, ঠান্ডা বাতাস আর দূরে পাহাড়ের দৃশ্য—শহুরে জীবনে এমন সকাল খুব বেশি পাওয়া যায় না। ভ্রমণের সময় আমি শুধু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পছন্দ করি না। সেই এলাকার মানুষ, সংস্কৃতি, খাবার ও জীবনযাপন সম্পর্কেও জানতে আগ্রহী। পোখারার মানুষের স্বাভাবিক ও আন্তরিক আচরণ আমার বেশ ভালো লেগেছে। পর্যটননির্ভর শহর হলেও মানুষের জীবনযাপনের মধ্যে একটা সহজ-সরল ভাব রয়েছে।

ফেওয়া লেকে প্রশান্তির মুহূর্ত

পোখারার ফেওয়া লেক আমার ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। বিস্তৃত নীল জল, চারপাশের পাহাড় এবং পানিতে আকাশের প্রতিচ্ছবি—সব মিলিয়ে জায়গাটির সৌন্দর্য এক অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করে।

লেকের পাশে বসে অনেকটা সময় শুধু চারপাশ দেখেছি। ধীরে ধীরে পানির ওপর দিয়ে নৌকা এগিয়ে যাচ্ছিল, বাতাসে তৈরি হচ্ছিল ছোট ছোট ঢেউ। মনে হচ্ছিল সময় যেন কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেছে।

এ ধরনের মুহূর্ত আমার খুব প্রিয়। কোনো ব্যস্ততা নেই, কোনো তাড়া নেই—শুধু প্রকৃতির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো। তখন মনে হয়, জীবনে সবকিছু অর্জন করার পেছনে ছুটতেই হবে এমন নয়। কখনও কখনও একটি সুন্দর দৃশ্যের সামনে নীরবে বসে থাকাও অনেক বড় প্রাপ্তি।

বিকেলের পোখারার সৌন্দর্য ছিল আরও আলাদা। আকাশের রং ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছিল। পাহাড়ের গায়ে তৈরি হচ্ছিল আলো-ছায়ার খেলা। সেই দৃশ্যের প্রতিফলন পড়ছিল ফেওয়া লেকের পানিতে। ক্যামেরায় যতটা সম্ভব মুহূর্তগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। তবে কিছু অনুভূতি ছবি দিয়ে পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না। প্রকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে যে অনুভূতি তৈরি হয়, সেটি নিজের মধ্যেই থেকে যায়।

ভ্রমণ বদলে দেয় দেখার দৃষ্টিভঙ্গি

নেপাল ভ্রমণ আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, পৃথিবী আমাদের পরিচিত গণ্ডির চেয়ে অনেক বড়। আমাদের চারপাশের বাইরে রয়েছে অসংখ্য মানুষ, সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও প্রকৃতির বৈচিত্র্য। ভ্রমণ না করলে এসব কাছ থেকে জানার সুযোগ অনেকটাই সীমিত থেকে যায়।

পোখারা থেকে ফেরার সময় মনে হচ্ছিল, আমি শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে ফিরে আসছি না। সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি পাহাড়ের নীরবতা, ফেওয়া লেকের শান্ত জল, মেঘে ঢাকা আকাশ এবং অসংখ্য সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতি।

আমি বিশ্বাস করি, ভ্রমণ মানুষকে শুধু নতুন জায়গার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় না, নিজের জীবনকেও নতুনভাবে দেখতে শেখায়। যত বেশি জায়গা দেখা যায়, তত বেশি মানুষ ও পৃথিবী সম্পর্কে জানা যায়। নেপাল, বিশেষ করে পোখারা, আমাকে সেই অনুভূতিটাই আবার নতুন করে দিয়েছে।

লেখক: নাজনীন নিহা, অভিনেত্রী