
মাগুরায় তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের কাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬৪ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও সেই সময়সীমাও পেরিয়ে গেছে। এরই মধ্যে নির্মাণকাজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮০ শতাংশ বিল তুলে নিয়েছে। প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ও বিল পরিশোধের এ ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ছয়তলা গোলাকৃতির নকশার একটি ভবন। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে দেশের আটটি জেলার সঙ্গে মাগুরায়ও আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পরের বছর ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ‘লিটন ট্রেডার্স’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ শুরু করে।
প্রকল্প অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনটির চারপাশ আগাছা ও জঙ্গলে ঢেকে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় পুরো এলাকায় অনেকটা পরিত্যক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভবনটিও অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও প্রকল্পটি চালু না হওয়ায় একদিকে অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির যে লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল, সেটিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ২০১৮ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৬ সাল প্রায় শেষের দিকে চলে এলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদার বা তাঁর কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতিও দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সোমবার মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. মোতাকাব্বির আহমেদ বলেন, ভবনটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইটি পার্ক হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 























