
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলে শুরু হতে যাচ্ছে একটি নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণিল পথচলার পর মেসির বিদায়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাঁর শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ের সরাসরি বিকল্প পাওয়া কঠিন হলেও জাতীয় দলে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা ইতোমধ্যে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন।
বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচে মেসির সঙ্গে রদ্রিগো ডি পল, নিকোলাস ওতামেন্দি ও জিওভান্নি লো সেলসোর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দেরও জাতীয় দলে দেখা যাচ্ছে। ফলে শুধু মেসি নয়, আর্জেন্টিনার একটি প্রজন্মও ধীরে ধীরে বিদায়ের পথে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে মেসির ১০ নম্বর জার্সির উত্তরসূরি কে হবেন, সেই প্রশ্ন।
বলিভিয়া ও বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচে সম্ভাব্য উত্তর কিছুটা পাওয়া গেছে। নিকো পাজ ও জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি—এই দুই তরুণের মধ্যে একজনকে ভবিষ্যতে মেসির জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা যেতে পারে।
২২ বছর বয়সী নিকো পাজ মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হলেও রাইট উইংয়েও খেলতে পারেন। বলিভিয়ার বিপক্ষে তাঁর দারুণ একটি গোল বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠানোর সেই ফিনিশিংয়ে অনেকের চোখে মেসির ছায়া দেখা গেছে।
অন্যদিকে ২০ বছর বয়সী জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানির সবচেয়ে বড় শক্তি বল পায়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং একের পর এক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার দক্ষতা। বাঁ প্রান্তে খেলার পাশাপাশি মাঝমাঠে ফলস নাইন হিসেবেও তাঁকে ব্যবহার করা যায়। মেসির অনুপস্থিতিতে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে তাই তিনিও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারেন।
গোলপোস্টে অবশ্য এখনই বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। দীর্ঘদিনের নির্ভরতার নাম এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণভাগে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজও নিজেদের জায়গা ধরে রাখার মতো অবস্থানে রয়েছেন।
তবে দুই ফুল-ব্যাক পজিশনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। চোটের কারণে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো না থাকায় বলিভিয়ার বিপক্ষে রোমান ভেগা ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ফাকুন্দো মেদিনাও নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে এই দুই পজিশনে আর্জেন্টিনার হাতে এখন একাধিক বিকল্প রয়েছে।
মাঝমাঠে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ দীর্ঘদিন দলের ভরসা হয়ে থাকার মতো অবস্থানে আছেন। তাঁদের সঙ্গে এজেকিয়েল পালাসিওসও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। তরুণ ভ্যালেন্তিনো বারকোর মধ্যেও রয়েছে বড় সম্ভাবনা। বোকা জুনিয়র্স থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার ইউরোপের ফুটবলেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মেসির অনুপস্থিতিতে কোচ লিওনেল স্কালোনি দুজনকেই নিয়মিত মাঠে নামিয়েছেন। ফলে ভবিষ্যৎ আর্জেন্টিনা দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁদের থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
রাইট উইংয়েও নতুন প্রজন্মের প্রতিভা দেখা যাচ্ছে। বোকা জুনিয়র্সের ১৯ বছর বয়সী লিওনেল ফ্লোরিস সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তাঁর গতি ও ড্রিবলিং দক্ষতা দিয়ে নজর কেড়েছেন। তাঁকে নিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বড় প্রত্যাশা।
মাঝমাঠে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোও ভবিষ্যতের অন্যতম বড় ভরসা হতে পারেন। নিকো পাজের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য জুটি নিয়েও আর্জেন্টিনার ফুটবল মহলে আশাবাদ রয়েছে। রিভার প্লেটের আরেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মাতিয়াস সুলেকেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রাখা যেতে পারে। আক্রমণভাগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের গিলিয়ানো সিমোনের মতো তরুণরাও সম্ভাবনার তালিকায় রয়েছেন।
সব মিলিয়ে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার দলে প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। গোলরক্ষক থেকে আক্রমণভাগ—প্রায় প্রতিটি পজিশনেই নতুন প্রজন্মের একাধিক খেলোয়াড় উঠে আসছেন। তবে একটি জায়গায় শূন্যতা থেকেই যাবে—মেসির মতো একজন জাদুকরকে রাতারাতি পাওয়া সম্ভব নয়। তাই নতুন আর্জেন্টিনার চ্যালেঞ্জ হবে মেসির বিকল্প খোঁজা নয়, বরং তাঁকে ছাড়া নতুন একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলা।
অধিকার ডেস্কঃ 























