
প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরেই দেশের ২২ জেলায় সরকারি উদ্যোগে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি জানান, দেশে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশুর সমন্বিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যেই এসব কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নুরুজ্জমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর।
ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দেশের ২২ জেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকারি উদ্যোগে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ইতোমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে। সেখানে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৩০০ শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি ‘কমিউনিটি বেসড আর্লি কেস ডিটেকশন’ কার্যক্রমকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি সর্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের আগে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। এতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
প্রতিবছর ৬ অক্টোবর বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস পালিত হয়। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের অধিকার, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং সমাজে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেরিব্রাল পালসি কেবল চলাফেরাজনিত সমস্যা নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কথা বলা, খাওয়া, দৃষ্টি, শ্রবণ, শেখা এবং দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন মাত্রার প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে। তবে সবার অবস্থা একই রকম নয়; অনেকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
অধিকার ডেস্কঃ 























