ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন রাজপথ থেকে বঙ্গভবনে, ২৫৫ ভোটে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল পাগলা নদীতে গোসলে নেমে ডুবে গেল এইচএসসি পরীক্ষার্থী শামিমের প্রাণ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় ১৭ বছর ধরে নিজের চুল নিজেই কাটেন বেরোবির মুজাহিদুল নোবিপ্রবির শিক্ষা প্রশাসন বিভাগে ফুটবল দিয়ে শুরু খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ পদোন্নতির পর ১১২ উপসচিবকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পদায়ন কলকাতা ও লন্ডনের ঘটনায় ১০ বাংলাদেশির প্রাণহানিতে- জামায়াতের শোক বাস কাউন্টারে যাত্রী ওঠানো নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ-আহত অন্তত ১০ বিদায়ী বক্তব্যে আবেগঘন মির্জা ফখরুল, দলীয় এমপিদের কাছে চাইলেন দোয়া ও সমর্থন

ফোনে ব্যস্ত চি‌কিৎসক, দায়িত্বে অব‌হেলায় হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

সোমবার (২ মার্চ) বি‌কে‌লে সদর হাসপাতা‌লে এ ঘটনা ঘ‌টে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে আফরোজা বেগম (৪২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুকে ঘিরে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মবিরতি শুরু করলে হাসপাতালজুড়ে অস্থিরতা দেখা দেয়।

স্বজনদের অভিযোগ, শহরতলির হিঙ্গনরায় ডাকবাংলা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আফরোজা বেগম প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তবে ভর্তি প্রক্রিয়ায় কাগজপত্রের অজুহাতে বিলম্ব করা হয়। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

নিহতের স্বজন আপেয়ারা বেগম, দরদী ও লিলি বেগম দাবি করেন, হাসপাতালে আনার পর দ্রুত চিকিৎসার অনুরোধ জানানো হলেও নার্সরা ব্যস্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ততক্ষণে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। তাদের আরও অভিযোগ, মৃত্যুর পর পরিস্থিতি সামাল দিতে স্যালাইন দেওয়া শুরু হয় এবং প্রতিবাদ করতে গেলে ইমারজেন্সি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কয়েকজন কর্মী স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

তবে ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. শুভ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভর্তি ছাড়া চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম নেই। রোগীর স্বজনরা নিয়ম না মেনে চাপ প্রয়োগ করছিলেন। মারধরের অভিযোগও তিনি নাকচ করেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কথা বলেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর নেওয়াজ আহমেদের কার্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তিনি মুঠোফোনে বলেন, ঘটনায় উভয় পক্ষের কিছু অপেশাদার আচরণ থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান চলছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

ফোনে ব্যস্ত চি‌কিৎসক, দায়িত্বে অব‌হেলায় হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশের সময়ঃ ১২:২১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে আফরোজা বেগম (৪২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুকে ঘিরে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মবিরতি শুরু করলে হাসপাতালজুড়ে অস্থিরতা দেখা দেয়।

স্বজনদের অভিযোগ, শহরতলির হিঙ্গনরায় ডাকবাংলা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আফরোজা বেগম প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তবে ভর্তি প্রক্রিয়ায় কাগজপত্রের অজুহাতে বিলম্ব করা হয়। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

নিহতের স্বজন আপেয়ারা বেগম, দরদী ও লিলি বেগম দাবি করেন, হাসপাতালে আনার পর দ্রুত চিকিৎসার অনুরোধ জানানো হলেও নার্সরা ব্যস্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ততক্ষণে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। তাদের আরও অভিযোগ, মৃত্যুর পর পরিস্থিতি সামাল দিতে স্যালাইন দেওয়া শুরু হয় এবং প্রতিবাদ করতে গেলে ইমারজেন্সি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কয়েকজন কর্মী স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

তবে ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. শুভ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভর্তি ছাড়া চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম নেই। রোগীর স্বজনরা নিয়ম না মেনে চাপ প্রয়োগ করছিলেন। মারধরের অভিযোগও তিনি নাকচ করেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কথা বলেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর নেওয়াজ আহমেদের কার্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তিনি মুঠোফোনে বলেন, ঘটনায় উভয় পক্ষের কিছু অপেশাদার আচরণ থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান চলছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।