
ময়মনসিংহের ত্রিশালে রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নির্মাণসামগ্রী রাখার স্থানে ডাকাতির ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ট্রাক এবং লুট হওয়া মালামালের একাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ জানায়, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট থেকে ২ অক্টোবর রাত ৩টার মধ্যে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের বৈলর মঠবাড়ি বড় পুকুরপাড় এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনসংলগ্ন রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে দুটি ট্রাকে করে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ৬০০ পিস এমএস পাইপ, ১৬০ পিস স্টিল শাটার, ১৬০ পিস স্টিল জয়েন্ট, ১০টি জানালার গ্রিল, ৯টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩৫ হাজার টাকা। এজাহারে এসবের মোট মূল্য ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অপারেশন) মো. মোখছেদুর রহমান বাদী হয়ে গত ৩ অক্টোবর ত্রিশাল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পর্যায়ক্রমে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জামালপুরের ইসলামপুরের খবিজল, ময়মনসিংহের নান্দাইলের আবু হানিফ ও উজ্জল মিয়া, ভোলার সোহেল, সৈকত ওরফে সাখাওয়াত, বাদল ওরফে আসলাম, মাসুদ মিয়া এবং ফরিদ হোসেন। পুলিশ জানায়, তাঁদের মধ্যে চারজনকে আগে এবং বাকি চারজনকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার নাওজোড় এলাকা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ট-২০-৭২৬০ নম্বরের ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত আরআইসিএল লোহার কোম্পানিতে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ছয় পিস এমএস পাইপ উদ্ধার করা হয়। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সেগুলো জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বাকি মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে।
শফিয়েল আলম সুমন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 
























