
জ্বালানি সাশ্রয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০০ কিলোওয়াট পিক (কেডব্লিউপি) ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চালু হওয়া এ কেন্দ্র থেকে প্রথম দিনেই কার্যালয়ের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে স্থাপন করা সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি ক্যাপেক্স (Capex) মডেলে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগ বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মিজানুর রহমান, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকিউল আলম, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) মেহেদী হাসান রিফাত, ওজোপাডিকোর কুষ্টিয়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ-আল-মাহমূদ এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান পিকো ল্যাবসের (Pico Labs) প্রতিনিধিরা। এ সময় তাঁরা কেন্দ্রটির কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্পের কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারি বরাদ্দ ছিল ৭৫ লাখ টাকা। ক্যাপেক্স মডেলে সরাসরি সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহ করা হয় এবং স্থাপিত কেন্দ্রের মালিকানা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছেই থাকে।
কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি সরকারি বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতেও সহায়তা করবে এ উদ্যোগ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌরবিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির একটি উৎস। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব। সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ঘটনাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের আশা, এ প্রকল্প জেলার অন্যান্য সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
অধিকার ডেস্কঃ 




















