ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

পোরশায় নেশাগ্রস্ত ছেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তুলে দিলেন বাবা

বুধবার উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের নোনাহার পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের উশৃঙ্খল আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে তুলে দিয়েছেন এক অসহায় বাবা। বুধবার উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের নোনাহার পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পারভেজ (৩৪) নামে ওই যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদুল নবীর ছেলে পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে অশোভন ও মারমুখী আচরণ করতেন। তার কারণে পরিবারে নিত্যদিন অশান্তি লেগেই থাকত এবং এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেন, পারভেজ প্রায়ই বাড়িতে ভাঙচুর চালাতেন, চিৎকার-চেঁচামেচি করতেন এবং আশপাশের মানুষকে হুমকি দিতেন। এতে পরিবার যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল, তেমনি এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বুধবার দুপুরে তার বাবা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

আদালতে পারভেজ তার অপরাধ স্বীকার করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারায় তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, “পরিবারের শান্তি ও সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে বাবা নিজেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা একদিকে কষ্টের হলেও অন্যদিকে একটি সাহসী উদ্যোগ। আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।”

এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি একটি জটিল সামাজিক ব্যাধি। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং ও পারিবারিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। না হলে শাস্তির পরও অনেক ক্ষেত্রে আসক্তরা আবার পুরনো পথে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের অভিযান জোরদারের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে—তবেই গড়ে উঠবে মাদকমুক্ত সমাজ।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

পোরশায় নেশাগ্রস্ত ছেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তুলে দিলেন বাবা

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:১৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের উশৃঙ্খল আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে তুলে দিয়েছেন এক অসহায় বাবা। বুধবার উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের নোনাহার পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পারভেজ (৩৪) নামে ওই যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদুল নবীর ছেলে পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে অশোভন ও মারমুখী আচরণ করতেন। তার কারণে পরিবারে নিত্যদিন অশান্তি লেগেই থাকত এবং এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেন, পারভেজ প্রায়ই বাড়িতে ভাঙচুর চালাতেন, চিৎকার-চেঁচামেচি করতেন এবং আশপাশের মানুষকে হুমকি দিতেন। এতে পরিবার যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল, তেমনি এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বুধবার দুপুরে তার বাবা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

আদালতে পারভেজ তার অপরাধ স্বীকার করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারায় তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, “পরিবারের শান্তি ও সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে বাবা নিজেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা একদিকে কষ্টের হলেও অন্যদিকে একটি সাহসী উদ্যোগ। আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।”

এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি একটি জটিল সামাজিক ব্যাধি। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং ও পারিবারিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। না হলে শাস্তির পরও অনেক ক্ষেত্রে আসক্তরা আবার পুরনো পথে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের অভিযান জোরদারের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে—তবেই গড়ে উঠবে মাদকমুক্ত সমাজ।