ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

ভৈরবে হাম রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ বিষয়ক শীর্ষক আলোচনা সভা

শহরের নিউটাউন এলাকায় ভৈরব ফুড প্যালেস এণ্ড রেস্টুরেন্টেড় ডক্টরস ক্লাব এর উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সকল চিকিৎসক ও শিশু বিশেষজ্ঞদের অংশ গ্রহণে হাম রোগের লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ বিষয়ক শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় শহরের নিউটাউন এলাকায় ভৈরব ফুড প্যালেস এণ্ড রেস্টুরেন্টেড় ডক্টরস ক্লাব এর উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় ডক্টরস ক্লাব অব ভৈরব এর সভাপতি ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফ্যাসিয়াল সার্জন সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প.প. কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা হরিপদ সাহা, ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ভৈরবের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মিজানুর কবীর, রেনাটা পিএলসি সহকারী বিক্রয় ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র অতিরিক্ত ব্যবস্থাপক ডা. রায়হান আরিফ প্রমুখ।
মেডিসিন, ডায়াবেটিস, মা ও শিশু, গাইনী ও প্রসূতি রোগে বিশেষ অভিজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় হাম রোগ বিষয়ক প্রধান আলোচক ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ সহযোগী অধ্যাপক শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা.দিদারুল ইসলাম, পরামর্শমূলক আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আফজাল হোসেন ও ডা. জাহিদুল ইসলাম।
অতিথিবৃন্দ ছাড়াও আলোচনা সভায় বিভিন্ন রোগ বিশেষজ্ঞ শতাধিক ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন রেনাটা লিমিটেড ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। আলোচনা শেষে সকল ডাক্তারদের অংশগ্রহণে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। সব শেষে রাতের ভূরিভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ বলেন, বর্তমান সময়ে হাম (মিজেল্স) দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে এই রোগে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। হাম রোগের প্রাদুর্ভাব সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণত জ্বর, কাশি এবং নাক দিয়ে পানি পড়ার মাধ্যমে হাম রোগ শুরু হয়। অভিভাবকরা শিশুদের হাম রোগ হয়েছে কিনা সহজে বুঝতে পারে না। কিছু অভিভাবক পল্লী চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা রোগ নির্ণয় করতে পারে না। এতে বিপাকে পড়তো হয় চিকিৎসক ও আক্রান্ত রোগীর পরিবারের সদস্যদের।
বক্তারা বলেন, রুবেলা, ডেঙ্গু ফিভার, ড্রাগ ইরাপশন ও ভাইরাল এক্সঅ্যান্থেমস একই উপসর্গ বোঝা যায়। এই সব রোগ হলে একজন দক্ষ রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা নিতে হবে। সেই সাথে সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হাম রোগের সংক্রমণ এড়িয়ে চলা সম্ভব।
বক্তারা আরো বলেন, হাম রোগ থেকে বাঁচতে হলে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। হাম রোগ ৬ মাস থেকে ৭ বছরের শিশুদের মাঝে বেশি পাওয়া যায়। হাম রোগের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তি বা শিশুকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। তা না হলে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হাম রোগটি আক্রান্ত শিশু বা ব্যক্তির মাধ্যমে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ জনের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। হাম থেকে প্রতিকার পেতে কঠোর সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে জানান শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

ভৈরবে হাম রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ বিষয়ক শীর্ষক আলোচনা সভা

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৫২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সকল চিকিৎসক ও শিশু বিশেষজ্ঞদের অংশ গ্রহণে হাম রোগের লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ বিষয়ক শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় শহরের নিউটাউন এলাকায় ভৈরব ফুড প্যালেস এণ্ড রেস্টুরেন্টেড় ডক্টরস ক্লাব এর উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় ডক্টরস ক্লাব অব ভৈরব এর সভাপতি ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফ্যাসিয়াল সার্জন সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প.প. কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা হরিপদ সাহা, ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ভৈরবের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মিজানুর কবীর, রেনাটা পিএলসি সহকারী বিক্রয় ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র অতিরিক্ত ব্যবস্থাপক ডা. রায়হান আরিফ প্রমুখ।
মেডিসিন, ডায়াবেটিস, মা ও শিশু, গাইনী ও প্রসূতি রোগে বিশেষ অভিজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় হাম রোগ বিষয়ক প্রধান আলোচক ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ সহযোগী অধ্যাপক শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা.দিদারুল ইসলাম, পরামর্শমূলক আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আফজাল হোসেন ও ডা. জাহিদুল ইসলাম।
অতিথিবৃন্দ ছাড়াও আলোচনা সভায় বিভিন্ন রোগ বিশেষজ্ঞ শতাধিক ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন রেনাটা লিমিটেড ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। আলোচনা শেষে সকল ডাক্তারদের অংশগ্রহণে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। সব শেষে রাতের ভূরিভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ বলেন, বর্তমান সময়ে হাম (মিজেল্স) দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে এই রোগে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। হাম রোগের প্রাদুর্ভাব সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণত জ্বর, কাশি এবং নাক দিয়ে পানি পড়ার মাধ্যমে হাম রোগ শুরু হয়। অভিভাবকরা শিশুদের হাম রোগ হয়েছে কিনা সহজে বুঝতে পারে না। কিছু অভিভাবক পল্লী চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা রোগ নির্ণয় করতে পারে না। এতে বিপাকে পড়তো হয় চিকিৎসক ও আক্রান্ত রোগীর পরিবারের সদস্যদের।
বক্তারা বলেন, রুবেলা, ডেঙ্গু ফিভার, ড্রাগ ইরাপশন ও ভাইরাল এক্সঅ্যান্থেমস একই উপসর্গ বোঝা যায়। এই সব রোগ হলে একজন দক্ষ রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা নিতে হবে। সেই সাথে সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হাম রোগের সংক্রমণ এড়িয়ে চলা সম্ভব।
বক্তারা আরো বলেন, হাম রোগ থেকে বাঁচতে হলে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। হাম রোগ ৬ মাস থেকে ৭ বছরের শিশুদের মাঝে বেশি পাওয়া যায়। হাম রোগের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তি বা শিশুকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। তা না হলে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হাম রোগটি আক্রান্ত শিশু বা ব্যক্তির মাধ্যমে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ জনের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। হাম থেকে প্রতিকার পেতে কঠোর সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে জানান শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ।