
হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ঢাকায় এসে বাংলাদেশকে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের কোচ নওশাদ মুসাও। তবে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে এলেও সাফের দশম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য ভারতের।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সাফের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে ভারত। এর আগে বুধবার ঢাকায় পৌঁছে বাংলাদেশের শক্তির কথা স্বীকার করেন ভারত কোচ নওশাদ।
ফিফা উইন্ডোতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ভারত। এ কারণে মূল জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন খালিদ জামিল। সাফে ভারতের ‘বি’ দলের ডাগআউটে দাঁড়াবেন নওশাদ।
ভারতের ২৮ সদস্যের দলে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের খেলোয়াড়ই বেশি। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) চলায় ক্লাবগুলো থেকেও শুরুতে সব খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না নওশাদ। ফলে প্রথম ম্যাচে পূর্ণ শক্তির দল মাঠে নামানো কঠিন হবে ভারতের জন্য।
তবু বাংলাদেশের শক্তি নিয়ে কোনো সংশয় নেই ভারত কোচের। তিনি বলেন, ‘আমার বিবেচনায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আশা করি, ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হব। কয়েকজন খেলোয়াড়কে প্রথম ম্যাচের আগে পাচ্ছি না। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তবে যে দলটি পেয়েছি, সেটিও খারাপ নয়। সত্যি বলতে, আমাদের শক্তিশালী দল আছে।’
দ্বিতীয় সারির দল নিয়েও ভারতের শিরোপার অভিজ্ঞতা
ভারতের এই দলকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে এসেছিল ভারত। সেবার ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। এর আগে সেমিফাইনালে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ভারত।
অর্থাৎ তারকা খেলোয়াড়দের বাইরে রেখেও সাফ জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে ভারতের।
সাফে ভারতের সাফল্যের ইতিহাসও সমৃদ্ধ। ১৯৯৩ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০৫, ২০০৯, ২০১১, ২০১৫, ২০২১ ও ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। সব মিলিয়ে নয়বার শিরোপা জিতেছে ভারত। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ফাইনালে কুয়েতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। এবার ঢাকায় এসেছে দশম ট্রফির স্বপ্ন নিয়ে।
ফাইনালে বাংলাদেশ-ভারত লড়াইয়ের আশা
এবারের আসরে দ্বিতীয় সারির দল পাঠালেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার ভারত। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচে জয় এবং সেমিফাইনাল পেরোতে পারলে ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশ ও ভারত।
ভারত কোচ নওশাদও সেই সম্ভাবনা দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও আশাব্যঞ্জক। গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকায় এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের মাঠে দুই দলের লড়াই শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রয়ে।
অধিকার ডেস্কঃ 






















